‘আত্মহত্যা’ই কি করেছেন আশিস? খতিয়ে দেখার বার্তা অগ্নিমিত্রার
প্রতিদিন | ১৭ আগস্ট ২০২৬
রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের রহস্যমৃত্যু’ (Asish Banerjee Death) নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। রামপুরহাটের দলীয় কার্যালয়ের ভিতর থেকে তাঁর গলায় ফাঁস লাগানো ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। ভিতর থেকে ‘সুইসাইড নোট’ও মিলেছে। কিন্তু তিনি সত্যিই কি ‘আত্মহত্যা’ করেছেন নাকি অন্য কিছু? সেই চর্চাও চলেছে। রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul) মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখার কথাও মনে করেছেন।
এদিন দক্ষিণ কলকাতার বাজার এলাকা পরিদর্শন করতে গিয়েছিলেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। সেখানেই একাধিক বিষয়ে তাঁকে প্রশ্ন করেন সাংবাদিকরা। আশিষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু নিয়েও এদিন বার্তা দিয়েছেন তিনি। অগ্নিমিত্রা বলেন,”এটা দেখা দরকার। তিনি যে আত্মহত্যাই করেছেন, খুন হননি, দেখতে হবে।” চিঠি লিখে গিয়েছেন মানেই ‘আত্মহত্যা’, সেটা তিনি বলতে চাননি।
প্রসঙ্গত, কার্যালয় থেকে যে ‘সুইসাইট নোট’ পাওয়া গিয়েছে, তাতে লেখা হয়েছে, তিনি কোনও দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। আশিস লিখেছেন, “ছাত্রাবস্থা থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। কোনও দিনই কোনও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত হইনি। ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক হয়েছি বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানেও কোনও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত হইনি।” এদিন সেই ইস্যুতেই মন্ত্রী অগ্নিমত্রা বলেন, “এটা তো ঠিক, তৃণমূলের সবাই যে চোর, তা তো নয়। তাঁদের মধ্যেও কেউ কেউ আছেন, যাঁরা শিরদাঁড়া সোজা করে রাজনীতি করেছেন।” তৃণমূলের কেউ কেউ সোজা পথে রাজনীতি করেছেন, সেটি অস্বীকার করা যায় না। সেই কথাও জানিয়েছেন মন্ত্রী।
দীর্ঘদিন শিক্ষকতা করেছেন। পাঁচবারের বিধায়ক ছিলেন। রাজ্যের মন্ত্রী হয়েছেন। ডেপুটি স্পিকারের দায়িত্ব সামলিয়েছেন। তৃণমূল আমলের দুর্নীতির কোন দাগ লাগেনি তাঁর গায়ে। এ হেন আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়র মৃত্যুতে চাঞ্চল্য। কালীঘাট তৃণমূলের নেতা তথা বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, “সামাজিক কলঙ্কের ভয় মেনে নিতে পারলেন না। ভালো তৃণমূল হয়েও বাঁচতে পারলেন না। বিজেপিকে এর দায় নিতে হবে। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত চাই।”
তৃণমূল কংগ্রেস আড়াআড়ি ভাঙন ধরেছে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ভালো তৃণমূল’ শিবিরে যোগ দিয়েছিলেন আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার সকালে আশিসবাবুর মৃত্যুর খবর পেয়েই রামপুরহাট রওনা দেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, আখরুজ্জামান, স্নেহাশিস চক্রবর্তী, নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীরা। যাওয়ার পথেই এবিষয়ে ভিডিও বার্তায় দুঃখপ্রকাশ করেন ঋতব্রত। তাঁর বক্তব্য, ‘‘গত ১৫ বছর ধরে রাজ্যে যে সংগঠিত লুট আর আইনি ভুলগুলো হয়েছে, তাতে তৃণমূলের মুষ্টিমেয় মানুষ জড়িত থাকলেও তার দায় নিতে হয়েছে নিরীহ রাজনীতিকদেরও। তার জন্য এলাকায় তাঁদের অপমানিত হতে হয়েছে, কটূকথা শুনতে হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে আমরা কেউ সেই আঁচ থেকে বাইরে থাকতে পারিনি। এর ভয়ংকর প্রভাব পড়ল আশিসদার উপর।”