প্রাক্তন মন্ত্রী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের অস্বাভাবিক মৃত্যু। রবিবার সকালে বীরভূমের রামপুরহাটে বাড়ি সংলগ্ন পার্টি অফিস থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। ‘আশিসদা’র মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করে এক্স-বার্তা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। মমতার বহু দিনের রাজনৈতিক সতীর্থ ছিলেন আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও শেষের দিনগুলি মমতার শিবির ছেড়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে ছিলেন তিনি। এ দিন মমতা লেখেন, ‘দীর্ঘদিনের জনসেবার পরেও তাঁকে যে হয়রানি ও মানসিক চাপের মুখোমুখি হতে হয়েছে, তা আমাদের সকলকে একবার থমকে ভাবতে বাধ্য করে—নিরন্তর রাজনৈতিক বিরোধিতা ও বিদ্বেষের মূল্য কতটা ভয়াবহ হতে পারে।’
মমতা লেখেন, ‘আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রয়াণের খবরে আমি গভীর ভাবে মর্মাহত। জীবনের একটা বড় সময় তিনি শিক্ষকতা ও সমাজসেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন। তাঁর বিনয়ী স্বভাব এবং রামপুরহাট ও বীরভূমের মানুষের সঙ্গে তাঁর নিবিড় সম্পর্ক তাঁকে সকলের কাছে অত্যন্ত আপন করে তুলেছিল। তাঁর জীবনের শেষ কয়েক দিনে তাঁকে যে প্রবল মানসিক ও আবেগজনিত চাপের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে, এই মর্মান্তিক ঘটনাকে আরও বেদনাদায়ক করে তুলেছে তা।’
মমতার সংযোজন, ‘আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় পাঁচবারের বিধায়ক, প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকার এবং চেয়ারম্যান রামপুরহাটের উন্নয়নে নিজেকে সম্পূর্ণ ভাবে নিয়োজিত করেছিলেন। এলাকার মানুষের জন্য তিনি বহু গুরুত্বপূর্ণ কাজও করেছিলেন। অথচ তাঁর দীর্ঘ জনসেবার রেকর্ড থাকা সত্ত্বেও তাঁকে বার বার অপপ্রচার, মিথ্যা অভিযোগ এবং নিরন্তর চাপের মুখে পড়তে হয়েছে।’
যদিও এ দিন রামপুরহাটে আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে গিয়েছিলেন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, ‘সুইসাইড নোটে আশিসদা লিখেছেন, সর্বদা সব দলীয় অন্যায় মেনে না নিলেও প্রতিবাদ করতে পারেননি। শুধু আশিসদাই নন, এখানে যাঁরা আছি অনুব্রত মণ্ডল থেকে শুরু করে স্নেহাশিস চক্রবর্তী, আখরুজ্জমান, অভিজিৎ সিনহা, চাঁদুদা, শতাব্দী, অসিত মাল, কারও পরিস্থিতিই ছিল না যে কিছু বলব। এটা বলতে পারি, চিঠিটা খুব বেদনাদায়ক। আশিসদার সঙ্গে যতবার কথা হয়েছে, তিনি কখনও নিজের কথা বলেননি।’
যদিও এ দিনই নবান্ন সভাঘর থেকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, সুইসাইড নোটের পরীক্ষা হবে। কোনও দুর্নীতিবাজ হুমকি দিয়েছেন কি না, তা জানতে আশিসের মোবাইলও পুলিশকে দেওয়ার অনুরোধ করেছেন বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘হতেই পারে, কেউ হয়তো নাম বলে দেওয়ার ভয় দেখিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তৃণমূলের যে অংশটা রয়েছে, তার সঙ্গে ওঁর দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। ভোটে হেরে যাওয়ার পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে কমিটি করেছিলেন, তা থেকে উনি পদত্যাগ করেছিলেন। উনি মমতাপন্থী তৃণমূল থেকে দূরত্ব বজায় রাখার কথাও জানিয়েছিলেন। স্বাভাবিক ভাবেই কেউ ব্ল্যাকমেল করে থাকতে পারে।’