• ‘টাকা ছাড়া মাছও নিতে চাননি স্যর, দাম মিটিয়েই...’, আশিসের মৃত্যুর পরে আবেগঘন ব্যবসায়ী
    এই সময় | ১৬ আগস্ট ২০২৬
  • ঋতভাস চট্টোপাধ্যায়

    আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো মানুষকে যে দিন চোর অপবাদ দেওয়া হয়েছে, সে দিনই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। যে দিন দলের লোকেরাই তাঁর সঙ্গে বেইমানি করেছে, সেই দিই মৃত্যু হয়েছে তাঁর। প্রবীণ তৃণমূল নেতার মৃত্যুর খবর পেয়ে তাঁর বাড়ি গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন স্থানীয় এক মাছ ব্যবসায়ী। রামপুরহাটের বাসিন্দা দীপু ধীবর নামে ওই যুবক ধরা গলাতেই বলছিলেন, ‘মাস্টারমশাই দুর্নীতি করতেই পারেন না। এখানকার কেউই বলতে পারবেন না যে, উনি কাজের বিনিময়ে কারও থেকে এক কাপ চা-ও খেয়েছেন!’

    রামপুরহাটের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের হাটতলাপাড়ায় থাকতেন আশিস। তাঁর বাড়ি লাগোয়া একটি দলীয় কার্যালয় ছিল। রবিবার সকালে সেখান থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। ২০০১ সাল থেকে টানা পাঁচ বার রামপুরহাটের বিধায়ক হন আশিস। যদিও গত বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির ধ্রুব সাহার কাছে হেরে যান বিধানসভার প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকার।

    কিন্তু দীপুর মতে, আশিসের মতো বিধায়ক আরও কখনও পাবেন না রামপুরহাটবাসী। তাঁর কথায়, ‘উনি দলমত নির্বিশেষে কাজ করতেন। মেডিক্যাল কলেজ ওঁরই অবদান। ২০০১ সালে যখন উনি প্রথম রামপুরহাটে জেতেন, তখন রামপুরহাটের যা অবস্থা ছিল। আর এখনকার অবস্থা। আকাশপাতাল ফারাক। এ সবই ওঁর অবদান। রাস্তাঘাট, হাসপাতাল, পানীয় জলের ব্যবস্থা— প্রতিটা ক্ষেত্রে উনি দাঁড়িয়ে থেকে কাজ করাতেন। রামপুরহাটবাসী ওঁকে সারা জীবন মনে রাখবে। এ রকম বিধায়ক আগে আসেনি, ভবিষ্যতেও আসবে না।’

    ব্যবসায়ী জানান, রামপুরহাটবাসীর সঙ্গে আশিসের এক রকম আত্মিক যোগাযোগ ছিল। তিনি এলাকার মানুষদের কখনও বুঝতেই দেননি যে, তিনি বিধায়ক। দীপ বলেন, ‘আমরা কোনও দিন ভাবিনি যে, উনি বিধায়ক। ওঁকে আমরা হেঁটে হেঁটে, সাইকেলে ঘুরতে দেখেছি। মানুষের যে কোনও প্রয়োজনে পাশে থাকতেন। রাত ১২টার সময়েও ফোন তুলতেন। কাজ করতে না পারলেও পাশে এসে দাঁড়াতেন। আজ বিরোধীরাও বলতে বাধ্য হচ্ছে, উনি রামপুরহাট বিধানসভা কেন্দ্র সাজিয়ে দিয়ে গিয়েছেন।’

    আশিসের সততা প্রসঙ্গে নিজের একটি অভিজ্ঞতার কথাও জানান দীপ। বলেন, ‘আমি মাছ ব্যবসায়ী। আমি মাছ নিয়ে গিয়েছিলাম। বলেছিল, আজ আনলি, আর কোনও দিন আনবি না। বলেছিল, মাছের দাম নিয়ে যাবি। খেলে টাকা দিয়েই খাব।’

  • Link to this news (এই সময়)