চাঁদকুমার বড়াল
পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-এর সঙ্গে যুক্ত থাকার সন্দেহে কোচবিহারের সীমান্ত এলাকা থেকে তিন জনকে গ্রেপ্তার করেছে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। যে তিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাঁদেরই একজন হলে নুর নাসিরুদ্দিন আলি। কিন্তু পরিবারের দাবি, নিশ্চয়ই কিছু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে কিংবা তাঁকে মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসানো হয়েছে।
কোচবিহারের দেওচড়াই গ্রাম পঞ্চায়েতের চৌখুসি গ্রামে নাসিরুদ্দিনের বাড়ি। তুফানগঞ্জের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নাইট গার্ডের কাজ করতেন তিনি। বাড়িতে স্ত্রী এবং পাঁচ বছরের এক কন্যাসন্তান রয়েছে। নাসিরুদ্দিনের স্ত্রী এবং ভাইয়ের দাবি, আইএসআই বা কোনও জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গেই তাঁর কোনও যোগ নেই। স্ত্রী শাহিনা পারভিন বলেন, ‘আমার স্বামী রোজই কাজ থেকে বাড়ি ফেড়ে। কিন্তু ওই দিন ফেরেনি। আমি সকালেই ওর কাজের জায়গায় ফোন করেছিলাম। তখনই জানতে পারলাম, ওকে কয়েক জন তুলে নিয়ে গিয়েছে। আমরা ভাবছিলাম পুলিশে জানাব। কিন্তু তার মধ্যে থানা থেকে জানতে পারলাম, ওকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। থানার বড়বাবু জানালেন সে কথা।’ পারভিনের অভিযোগ, ‘স্বামীকে মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসানো হচ্ছে।’
ভাই নুরজামান আলি জানান, তাঁর দাদা মাত্র ১০ হাজার টাকার চাকরি করতেন। তাতে কোনও ভাবে তাঁদের সংসার চলত। নানা অসুখেও ভুগছেন দাদা। ফলে তাঁর পক্ষে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে জড়িত থাকা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, ‘দাদা কোনও দিন বাংলাদেশ বা পাকিস্তান যায়নি। বেঙ্গালুরু গিয়েছিল। তাও ডাক্তার দেখাতে। আমার মনে হয় কিছু ভুল বোঝাবুঝি হচ্ছে।’
ভুয়ো নথি দেখিয়ে সিম কিনে তা বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে পাচার করার অভিযোগ উঠেছে নাসিরুদ্দিন-সহ ধৃত তিন জনের বিরুদ্ধে। প্রাথমিক তদন্তের পরে পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত তিন জন ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে আন্তর্জাতিক চোরাচালান কারবারের সঙ্গে যুক্ত। সূত্রের দাবি, এ দেশের মোবাইল সিম কিনে সেগুলি বাংলাদেশে বসে থাকা আইএসআই এজেন্টের কাছে বিক্রি বা চালান করে দিত তারা। যা ঘুরপথে পৌঁছে যেত পাকিস্তানের পঞ্জাব প্রদেশে। সেখানে থেকে বসেই ভারতীয় সিম কার্ড দিয়ে গুপ্তচর বৃত্তি করা হত বলে অভিযোগ। পাকিস্তানে বসে ওই ভারতীয় সিম ব্যবহার করে আইএসআই হ্যান্ডলারেরা। তবে কত গুলি সিম কার্ড বাংলাদেশ হয়ে পাকিস্তানে পাঠানো হয়েছে, তা জানতে পারেননি তদন্তকারীরা। রাজ্য পুলিশের এক কর্তা জানান, ওই তিন জনের মাধ্যমে পাকিস্তানে পাঠানো সিমকার্ডগুলির সঙ্গে যুক্ত নম্বরগুলি বর্তমানে করাচি তথা পাকিস্তান থেকে সক্রিয় ভাবে হোয়াটসঅ্যাপে ব্যবহার করা হচ্ছে।