• ‘১৫ বছরের দুর্নীতির অভিশাপ…’, আশিসের মৃত্যুতে কালীঘাটকেই দায়ী ঋতব্রতর, কী বললেন অভিষেক?
    প্রতিদিন | ১৬ আগস্ট ২০২৬
  • স্বাধীনতা দিবসের ঠিক পরের সকালে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী, বিধানসভার প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকারের মর্মান্তিক মৃত্যুতে তোলপাড় বঙ্গ রাজনীতিতে। রবিবার সকালে রামপুরহাটে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় থেকে আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃতদেহ (Asish Banerjee Death) উদ্ধার ঘিরে তুমুল চাঞ্চল্য ছড়ায়। বরাবর জেলার রাজনীতিতে ‘সজ্জন’ ব্যক্তি বলে পরিচিত ৭৫ বছরের আশিসবাবুর দেহের পাশ থেকে সুইসাইড নোট পাওয়া গিয়েছে এবং তাঁর মৃত্যুর কিনারা করতে সেই নোটই বড় হাতিয়ার পুলিশের। নিজের মৃত্যুতে তিনি কাউকে দায়ী না করলেও পরোক্ষ কোন চাপ তাঁকে এই পথে নিয়ে গেল, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে চর্চা। আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুতে একে অপরকে দুষছে কালীঘাট তৃণমূল ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল।

    রবিবার সকালে আশিসবাবুর মৃত্যুর খবর পেয়েই রামপুরহাট রওনা দিয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, আখরুজ্জামান, স্নেহাশিস চক্রবর্তী, নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীরা। যাওয়ার পথেই এবিষয়ে ভিডিও বার্তায় ঋতব্রত দুঃখপ্রকাশ করেছেন। তাঁর প্রতিক্রিয়া, ‘‘গত ১৫ বছর ধরে রাজ্যে যে সংগঠিত লুট আর আইনি ভুলগুলো হয়েছে, তাতে তৃণমূলের মুষ্টিমেয় মানুষ জড়িত থাকলেও তার দায় নিতে হয়েছে নিরীহ রাজনীতিকদেরও। তার জন্য এলাকায় তাঁদের অপমানিত হতে হয়েছে, কটূ কথা শুনতে হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে আমরা কেউ সেই আঁচ থেকে বাইরে থাকতে পারিনি। এর ভয়ংকর প্রভাব পড়ল আশিসদার উপর।”

    আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় কত দায়িত্ববান রাজনীতিক ছিলেন, তা বোঝাতে গিয়ে ঋতব্রত নিজের অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করে জানান, ‘‘বিধানসভায় এসে বলেছিলেন, ‘আমি ডেপুটি স্পিকার থাকাকালীন যাঁদের অ্যাটেনডেন্ট হিসেবে যাঁদের নিয়োগ করেছিলাম, তাঁরা যেন স্থায়ী হয়, একটু দেখো ঋত।’ উনি গত ১৫ বছরে বারবার দলকে বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন, যা হচ্ছে, ঠিক হচ্ছে না। কিন্তু কালীঘাটের লোকজন তা কানে তোলার প্রয়োজন মনে করেননি। এনিয়ে আশিসদা ব্যথিত ছিলেন, আক্ষেপ ছিল। তা আমরা অনেকেই জানি।”

    অন্যদিকে, কালীঘাট তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এক্স হ্যান্ডেলে দীর্ঘ পোস্ট করেছেন এনিয়ে। তাতে তিনি আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়কে এলাকায় হেনস্তার মুখে পড়তে হয়েছিল বলে সংবাদমাধ্যমকেই দুষেছেন। তাঁর পোস্টে উল্লেখ, ‘আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মর্মান্তিক মৃত্যু শুধু হৃদয়বিদারক নয়, এই ঘটনা সেই প্রত্যেক মানুষের বিবেককে নাড়া দেওয়া উচিত, যাঁরা বিশ্বাস করেন যে রাজনীতি ও সাংবাদিকতারও একটি সীমারেখা থাকা প্রয়োজন। আত্মহত্যা করার আগে তার লেখা Suicide Note এ তিনি যে ধারাবাহিক অপপ্রচার ও তাঁকে কালিমালিপ্ত করার যন্ত্রণার কথা লিখে গিয়েছেন, তা উপেক্ষা করা যায় না। বিজেপি এবং সংবাদমাধ্যমের একাংশকে আজ অবশ্যই ভাবতে হবে, এমন এক রাজনীতির পরিণতি কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, যেখানে অভিযোগকে ক্রমাগত প্রচার করে বড় করে তোলা হয়।’
  • Link to this news (প্রতিদিন)