• নদিয়ায় কংগ্রেস কর্মী ও ছেলে খুনে গ্রেপ্তার তৃণমূল নেতার স্ত্রী! রাজ্যে কালা দিবসের ডাক শুভঙ্করদের
    প্রতিদিন | ১৬ আগস্ট ২০২৬
  • স্বাধীনতা দিবসের রাতে নদিয়ার নাকাশিপাড়ায় কংগ্রেস নেতা আনিসুর রহমান ও তাঁর ছেলে আবু সুফিয়ান খুনে জোর রাজনৈতিক চর্চা চলছে। ঘটনায় নাম জড়িয়েছে হরনগর পঞ্চায়েতের তৃণমূলের প্রধান জুব্বার শেখের। পুলিশ তদন্তে নেমে ইতিমধ্যেই জুব্বার শেখের স্ত্রী ফতেমা বিবি এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ সাহেব নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে বলে জানা গিয়েছে। বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।

    কংগ্রেস কর্মী খুনে আজ, রবিবার রাজ্যজুড়ে কালা দিবস পালনের ডাক দিয়েছে প্রদেশ কংগ্রেস। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার বলেন, “এই রাজ্যে সংখ্যালঘু এবং বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করার অপচেষ্টার বিরুদ্ধে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের লড়াই চলবেই।” নদিয়ার মৃত কংগ্রেস নেতা আনিসুর রহমান প্রাক্তন সাংসদ অধীর চৌধুরী ঘনিষ্ঠ ছিলেন বলে দলীয় সূত্রে খবর। খুনের যথাযথ তদন্ত ও দোষীদের উপযুক্ত শাস্তির দাবি করেছেন তিনি।

    অধীর সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, “নদিয়ার কংগ্রেস নেতা আনিসুর রহমান ও তাঁর পুত্রের হত্যার তীব্রতম ভাষায় নিন্দা ও ধিক্কার জানাই। ‘ভয় আউট, ভরসা ইন’-এর স্লোগান দিয়ে ক্ষমতায় এসেছে এই সরকার। সেখানে স্বাধীনতা দিবসের দিনে এমন জঘন্য ঘটনা মানুষের নিরাপত্তা ও স্বাধীন ভাবে রাজনীতি করার অধিকার নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলে দেয়।” এই কঠিন সময় কংগ্রেস শোকাহত পরিবারের পাশে আছে বলেও তিনি জানিয়েছেন। 

    গতকাল, শনিবার রাত আনুমানিক ৯টা নাগাদ আনিসুর রহমান তাঁর ছেলে আবু সুফিয়ানকে স্টেশন থেকে নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। সেইসময় নাগাদি রেল আন্ডারপাস সংলগ্ন এলাকায় একটি কালো স্করপিও গাড়ি তাঁদের পথ আটকায়। এরপর গাড়ি থেকে নামিয়ে দু’জনকে লক্ষ্য করে এলোপাথারি গুলি চালানো হয় বলে অভিযোগ। পাশাপাশি ধারালো অস্ত্র দিয়েও কোপানো হয়। ঘটনাস্থলেই রক্তাক্ত অবস্থায় দু’জন লুটিয়ে পড়েন তাঁরা। দুষ্কৃতীরা এলাকা ছেড়ে পালায়। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা বাবা-ছেলেকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

    সুপারি কিলার দিয়ে দু’জনকে কি খুন করানো হল? সেই প্রশ্নও উঠেছে। হত্যাকারীদের খোঁজ চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা। ইতিমধ্যেই জুব্বার শেখের স্ত্রী ফতেমা বিবি এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ সাহেব নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে বলে জানা গিয়েছে। বাকিদের খোঁজ চলছে। রবিবার সকালে দুটি মৃতদেহ কৃষ্ণনগরের শক্তিনগর হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য আনা হয়েছে। পরিবারের দাবি, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের স্বার্থে ফরেনসিক পরীক্ষা ও ময়নাতদন্ত একই হাসপাতালে করা হোক। সেই দাবির ভিত্তিতে কল্যাণীর জেএনএম হাসপাতালে ফরেনসিক পরীক্ষা ও ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে প্রাথমিক খবর।
  • Link to this news (প্রতিদিন)