১৫ দিনের ছুটি নিয়ে ঘুরতে যাওয়ার ট্রেন্ড বদলাচ্ছে। অফিসের ছুটি, কাজের চাপ— সব মিলিয়ে লং ভ্যাকেশনের প্ল্যান আর করছে না জেন জ়ি-মিলেনিয়ালরা। তার বদলে ছোট্ট ছুটিতে ছোট ট্রিপ করছে তরুণ প্রজন্ম। জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ‘মাইক্রো-কেশন’ (Micro-cation)। আর এর জন্য কোন ডেস্টিনেশনকে বেশি বেছে নেওয়া হচ্ছে জানেন?
বছরে একবার ৭-১০ দিনের লম্বা ছুটির জন্য আর কেউ অপেক্ষা করছে না। ৩-৪ দিনের ছোট্ট ছুটিতেই ঝোলা কাঁধে নিয়ে বেরিয়ে পড়ছে তরুণ প্রজন্ম। অনেকের পক্ষেই একটানা ছুটি নেওয়া কঠিন। কিন্তু এক-দু’মাস অন্তর ৩-৪ দিনের ছোট্ট ছুটি নেওয়াই যায়। আর এই ছোট্ট ছুটিতে ভ্রমণ যেমন স্ট্রেস কমায়, রিফ্রেশমেন্টের কাজ করে, তেমনই পকেটেও টান পড়ে না। তা ছাড়া বছরে একাধিক বার বেড়াতে যাওয়া যায়।
মাত্র ৩ দিনের সফরে যে গোটা শহর ঘুরে দেখতে হবে, এমনটা নয়। কোনও একটি পর্যটন কেন্দ্র বেছে নিন। সেখানটাই এক্সপ্লোর করুন ২ দিন ধরে। শুক্রবার সন্ধ্যায় অফিস শেষ করে রওনা দিন। শনি-রবি চুটিয়ে ঘুরে নিন। আবার সোমবার সকালে ফিরে আসুন। প্রয়োজনে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যাতেও রওনা দিয়ে, রবিবার রাতে ফিরতে পারেন।
এ বছর বর্ষায় মাইক্রো-কেশনের জন্য বেশিরভাগ মানুষ বেছে নিয়েছেন গোয়াকে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বারে গোয়ায় ৮০% পর্যটকের সংখ্যা বেড়েছে। আর বেশিরভাগ পর্যটকই ৩-৫ দিনের জন্য গোয়া যাচ্ছেন। আসলে বর্ষায় গোয়া যেন সজীব হয়ে ওঠে। জঙ্গলের মাঝে জলপ্রপাতগুলোও নিজের রূপ ধারণ করে। তা ছাড়া এই সময়ে Airbnb, হোমস্টে, হোটেল ও রিসর্টের ভাড়াও কম থাকে।
মাইক্রো-কেশনের জন্য এমন জায়গা বেছে নিন, যা আপনার লোকেশন থেকে খুব কাছে অবস্থিত। যেখানে দু’ঘণ্টার ফ্লাইট কিংবা ৬-৮ ঘণ্টার ট্রেন জার্নিতে পৌঁছনো সম্ভব। লং ড্রাইভেও যেতে পারেন। পাশাপাশি যে পর্যটন কেন্দ্র মাত্র ২ দিনে ঘুরে নেওয়া যায়, সেগুলোই মাইক্রো-কেশনের জন্য আদর্শ।
এ ক্ষেত্রে কলকাতা থেকে দক্ষিণবঙ্গের অযোধ্যা পাহাড়, গড়পঞ্চকোট, বাঁকুড়ার মুকুটমণিপুর, বিষ্ণুপুর, জয়পুরের জঙ্গল, সুন্দরবন, ম্যাসঞ্জর, মুর্শিদাবাদ থেকে শুরু করে উত্তরবঙ্গের ডুয়ার্স, গজলডোবা, কার্শিয়াং, কালিম্পং, দার্জিলিং ইত্যাদি জায়গা ঘুরে নিতে পারেন। এমনকী রাঁচি, পত্রাতু উপত্যকা, কোরাপুট, পুরী, জগদলপুর ইত্যাদি জায়গাও ঘুরে নেওয়া যায়। সঠিক প্ল্যান করলে অন্যান্যও রাজ্যও ঘুরে নিতে পারেন মাত্র ৪ দিনে।
১. মাইক্রো-কেশন কী?
৩-৪ দিনের ছোট ছুটিতে করা সংক্ষিপ্ত ভ্রমণকে মাইক্রো-কেশন বলা হয়।
২. মাইক্রো-কেশনের জন্য কত দিনের ছুটি যথেষ্ট?
সাধারণত ৩-৪ দিনের ছুটিই যথেষ্ট।
৩. মাইক্রো-কেশনের জন্য কোন জায়গা জনপ্রিয়?
এই প্রতিবেদনে বর্ষাকালে গোয়াকে জনপ্রিয় গন্তব্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
৪. কী ভাবে মাইক্রো-কেশন প্ল্যান করবেন?
একটি নির্দিষ্ট গন্তব্য বেছে নিয়ে ২-৩ দিন সেটি ঘুরে দেখুন এবং যাতায়াতে কম সময় লাগে এমন জায়গা বেছে নিন।
৫. কলকাতা থেকে কোথায় মাইক্রো-কেশন করা যায়?
অযোধ্যা পাহাড়, গড়পঞ্চকোট, মুকুটমণিপুর, বিষ্ণুপুর, ডুয়ার্স, গজলডোবা, কার্শিয়াং, কালিম্পং ও দার্জিলিং যেতে পারেন।