বাংলার তাঁতে ‘বন্দে মাতরম’, শাড়িতে দেশপ্রেমের গল্প বুনলেন রাষ্ট্রপতি পদকপ্রাপ্ত শিল্পী
প্রতিদিন | ১৫ আগস্ট ২০২৬
সার্ধশতবর্ষে ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে নানা উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য। এই প্রথমবার লালকেল্লা এবং রেড রোডে ‘বন্দে মাতরম’ ধ্বনিতে উদযাপিত হয়েছে স্বাধীনতা দিবস। তবে শুধু তাই নয়, এবার বাংলার তাঁতেও ‘বন্দে মাতরম’। শাড়িতে দেশপ্রেমের গল্প বুনলেন রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রখ্যাত তাঁত শিল্পী অভিনব বসাক।
জামদানির উপর তৈরি শাড়িটি হালকা অফ হোয়াইট রঙের। গোটা শাড়ি জুড়ে বুটি। আঁচলে গেরুয়া ও সবুজ রঙে লেখা ‘বন্দে মাতরম’। এই বিশেষ শাড়িটির ভাবনা ও ডিজাইন অভিনব বসাক নিজেই তৈরি করেছেন। কারিগরি বাস্তবায়নে তাঁর নির্ভরযোগ্য সহযোগী ও প্রবীণ তাঁত শিল্পী শচীন। শাড়িটি তৈরি করতে সময় লেগেছে ১৫ দিন। রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রখ্যাত তাঁত শিল্পী অভিনব বসাকের মতে, “এটি সাধারণ পরিধানের উদ্দেশ্যে তৈরি কোনো শাড়ি নয়। ‘বন্দে মাতরম’ শব্দটি অত্যন্ত পবিত্র ও সূক্ষ্মভাবে তাঁতে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। যা পায়ে লাগার বা অমর্যাদা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই এটি কেবল প্রদর্শনী ও সংরক্ষণের উদ্দেশ্যেই তৈরি একটি শিল্পকর্ম।” এর পাশাপাশি স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সাধারণ মানুষের পরার জন্য বৈচিত্র্যময় তেরঙ্গা শাড়িও তৈরি করেছেন তিনি। যা ইতিমধ্যে বাজারে বাজারে সাড়া ফেলেছে।
বাংলার তাঁতিদের হাতে বোনা তাঁতের শাড়ির জনপ্রিয়তা বহুল। জামদানি, শান্তিপুরী, বেগমপুরী, ধনেখালি শাড়ির কদর শুধু বাঙালির অন্দরমহলে নয়। বাংলার বাইরেও রয়েছে। বাংলার তাঁতের শাড়ি নব চুরি করেছে তারকাদের। বিদ্যা বালন, শাবানা আজমি, ক্য়াটরিনা কাইফের মতো নায়িকারা বাংলার তাঁত পরেছেন। আবার সনিয়া গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, নির্মলা সীতারমন, স্মৃতি ইরানি, মহুয়া মৈত্রর মতো রাজনীতিকের মন চুরি করেছে বাংলার তাঁতের শাড়ি। সুতরাং তাঁতশিল্পীদের রক্ত জল করা শ্রমে তাঁত বোনা শাড়ির যে উত্তরণ হয়েছে সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। তবে দিনে দিনে তাঁতশিল্পীর সংখ্যা কমে যাওয়ার ফলে সংকট তৈরি হতে শুরু করেছে।