পাক গুপ্তচর সন্দেহে গ্রেপ্তার ৩, স্বাধীনতা দিবসেই কোচবিহার থেকে এসটিএফের জালে
দৈনিক স্টেটসম্যান | ১৫ আগস্ট ২০২৬
কোচবিহারের সাহেবগঞ্জ থেকে পাক গুপ্তচর সন্দেহে তিনজনকে গ্রেপ্তার করল রাজ্য পুলিশের এসটিএফ। এই তিনজন পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই এজেন্ট হিসাবে কাজ করত বলে অভিযোগ। জাল নোটের কারবারের সঙ্গে যুক্ত থাকার প্রমাণও মিলেছে বলে অভিযোগ। কোচবিহারের সাহেবগঞ্জ থেকে পাক চর সন্দেহে এই তিনজনকে গ্রেপ্তার করল রাজ্য পুলিশের এসটিএফ। স্বাধীনতা দিবসের দিন এই তিনজন কোনও নাশকতার ছক কষেছিল বলে জানা যাচ্ছে। সেটাই গোপন সূত্রে জানতে পেরে এই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এসটিএফ সূত্রে খবর, ধৃত তিনজন হলো-রশিদুল, নাসিরুদ্দিন এবং শফিকুল। ধৃত এই তিনজন পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের এজেন্ট হিসেবে কাজ করছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে ভারতীয় মোবাইল সিম কার্ড বাংলাদেশ হয়ে পাকিস্তানে পাচার করার অভিযোগ উঠেছে। এমনকী এই চক্রের সঙ্গে জাল নোট তৈরির কারবারেরও যোগ আছে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। ধৃতদের জেরা করে এই চক্রের সঙ্গে আরও কারা জড়িত সেটা জানতে চেষ্টা করা হচ্ছে। বেআইনিভাবে এই তিনজন ভারতীয় সংস্থার সিম কার্ড তুলে সেটা পাকিস্তানে বসে থাকা আইএসআই গুপ্তচরদের কাছে চালান করে দিত।
কয়েকদিন আগেই পাক চর সন্দেহে হাবরা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল রানা রউফ ওরফে ওয়াহাব আলমকে। এবার স্বাধীনতা দিবসের দিনই এসটিএফের জালে আরও তিন পাক গুপ্তচর ধরা পড়ল। এই রানার সঙ্গে রশিদুল, নাসিরুদ্দিন এবং শফিকুলদের যোগাযোগ ছিল কিনা সেটা খতিয়ে দেখছে এসটিএফ। শফিকুল বিহারের কিষাণগঞ্জের বাসিন্দা বলে এসটিএফ জানতে পেরেছে। ভারতীয় সিম এবং বহু নথি এরা বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিত। সেখান থেকে চলে যেত পাকিস্তানে। পাকিস্তানের পঞ্জাব প্রদেশে পৌঁছে যেত ভারতীয় সিম। সেখান থেকে হানিট্র্যাপ করা হতো বলে সূত্রের খবর।
তাছাড়া সুন্দরী মহিলাদের ছবি ব্যবহার করে সমাজমাধ্যমে ভারতীয় সামরিক বাহিনীর সঙ্গে যুক্তদের বন্ধুত্বের জালে ফেলা হতো। তারপর তাঁদের কাছ থেকে ভারতের নানা গোপন তথ্য হাতিয়ে নেওয়া হতো। যাতে ভারতের সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও বিপদে ফেলা যায়। ধৃতরা আন্তর্জাতিক চোরাচালান চক্রের সঙ্গে জড়িত বলে এসটিএফ জানতে পেরেছে। বাংলাদেশ, নেপাল এবং পাকিস্তানের সঙ্গে এই তিনজনের যোগাযোগ ছিল বলে জানা গিয়েছে। বাংলা-সহ ভারতের নানা প্রান্তে আরও গুপ্তচর ছড়িয়ে রয়েছে। সীমান্ত এলাকাতে নজরদারি জোরদার করা হচ্ছে। আগে ভারতীয় মোবাইল নম্বরে হোয়াটসঅ্যাপ চালাতে আইএসআই নিজস্ব এজেন্টদের ব্যবহার করত। এবার সরাসরি সিম কার্ড পাচারে ব্যবহার করা হচ্ছে এজেন্টদের। এই চক্রের সঙ্গে আরও কারা জড়িত সেটা জানতে তদন্ত শুরু করেছে রাজ্য পুলিশের এসটিএফ বলে সূত্রের খবর।