• রাতে সার্কিট হাউস ছাড়ার নির্দেশ মহুয়াকে, স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি লিখলেন সাংসদ
    এই সময় | ১৫ আগস্ট ২০২৬
  • বাইরে বিজেপির বিক্ষোভ। তার মধ্যেই রাতে তাঁকে কৃষ্ণনগর সার্কিট হাউস ছাড়তে বলা হয়েছে বলে অভিযোগ করলেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। তাঁর অভিযোগ, স্বাধীনতা দিবসের আগের দিন, অর্থাৎ শুক্রবার, রাত ৯টা ৪৭ মিনিটে অতিরিক্ত জেলাশাসক (এডিএম) তাঁকে ফোন করে সার্কিট হাউস থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন। যদিও মহুয়া ঘর ছাড়েননি। শুধু তা-ই নয়, সার্কিট হাউসের ঘটনার কথা রাতেই লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন তিনি।

    মহুয়ার অভিযোগের প্রেক্ষিতে এই সময় অনলাইন নদিয়ার অতিরিক্ত জেলাশাসক (ভূমি ও ভূমি সংস্কার) নৃপেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু তিনি ফোন ধরেননি। তবে জেলা প্রশাসনের একটি সূত্রে খবর, মহুয়া রাতে সার্কিট হাউসে থাকার কথা বলেননি। নাম না প্রকাশের শর্তে এক আধিকারিক বলেন, ‘উনি (মহুয়া) শুধু বলেছিলেন, আমি যাচ্ছি। কিন্তু উনি যে থাকবেন, সে কথা বলেননি। সার্কিট হাউসে একটু সমস্যা রয়েছে। ফলে ওঁর রাতে থাকার বিষয়টি আমরা জানতাম না।’

    এক বিজেপি সমর্থকের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে আদালতের নির্দেশে শুক্রবার নদিয়ার হোগলবেড়িয়া থানায় হাজিরা দিতে গিয়েছিলেন মহুয়া। সেখান থেকে করিমপুর হয়ে কৃষ্ণনগর সার্কিট হাউসে যান তিনি। রাত ১০টার কিছু পরে এক্স হ্যান্ডলে তিনি জানান, তাঁকে ঘর খালি করে দিতে বলা হয়েছে। প্রথমে রাত ৯টা ৪৭ মিনিটে তাঁর কাছে নদিয়ার এডিএমের ফোন যায়। তার পরে এই সংক্রান্ত একটি নির্দেশও তাঁকে পাঠানো হয় রাত ১০টা ৫২ মিনিটে। মহুয়ার অভিযোগ, যখন তাঁকে ঘর খালি করে দিতে বলা হয়, সেই সময়েই সার্কিট হাউসের বাইরে বিজেপির একদল কর্মী-সমর্থক জড়ো হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে শুরু করেন। প্রশাসন তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করেনি বলেও অভিযোগ করেছেন সাংসদ।

    শনিবার মহুয়া দেশের মহিলা সাংসদদের মর্যাদা রক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করার আর্জি জানিয়ে লোকসভার স্পিকার বিড়লার উদ্দেশে এক্স হ্যান্ডলে একটি খোলা চিঠি লেখেন। চিঠিতে মহুয়া জানান, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে তিনি সার্কিট হাউসে প্রবেশ করেছিলেন। সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ প্রথমে চা, তার পরে রাত ৯টা ২০ মিনিটে তাঁকে রাতের খাবার দেওয়া হয়। তার পরেই এডিএম তাঁকে ফোন করে ঘর খালি করে দিতে বলেন। মহুয়ার অভিযোগ, তিনি কারণ জিজ্ঞেস করেছিলেন। কিন্তু তাঁকে বলা হয়, ‘উপরমহল থেকে নির্দেশ’ এসেছে, দাবি মহুয়ার। মহুয়া জানান, রাত ১০টা ৫২ মিনিটে জেলা প্রশাসন তাঁকে হোয়াটসঅ্যাপে সার্কিট হাউস ছাড়ার নির্দেশের কপি পাঠায়। বলা হয়, বার্ষিক সাফাই অভিযানের জন্য সার্কিট হাউসে নতুন করে কোনও ঘর বুক করতে দেওয়া হচ্ছে না। তাঁর বুকিংটি নতুন ছিল বলেই তা বাতিল করা হয়েছে। মহুলায় বলেন, ‘অথচ আমি যখন বুকিং করেছি, যখন সার্কিট হাউসে গিয়েছি, কেউ আমাকে এ বিষয়ে কিছু জানাননি। যদি সত্যিই নির্দেশ থাকত, আমাকে সেটা জানানোর জন্য রাত ১০টা পর্যন্ত কেন অপেক্ষা করল প্রশাসন? ১০টা ৫২ মিনিটে কেন নির্দেশের কপি পাঠানো হলো?’

    মহুয়া জানান, রাত ১১টা নাগাদ হঠাৎ সার্কিট হাউসের বাইরে চিৎকার শুনতে পেরে তিনি বুঝতে পারেন, বিশাল জমায়েত হয়েছে। সাংসদের অভিযোগ, এক দিকে প্রশাসন তাঁকে ঘর ছেড়ে দিতে বলছে, অন্য দিকে তাঁর বিরুদ্ধে বাইরে বিক্ষোভ। মহুয়ার বক্তব্য, ‘এই সার্কিট হাউসের একেবারে উল্টো দিকেই জেলার পুলিশ সুপার আর জেলাশাসকের বাংলো। সেখানে কোনও জমায়েত হওয়ারই কথা নয়।’

    একটি ভিডিয়ো বার্তায় মহুলা বলেন, ‘বাইরে বিশাল জমায়েত। জয় শ্রীরাম স্লোগান দেওয়া হচ্ছে। অথচ, সার্কিট হাউসের গেটে কোনও নিরাপত্তা নেই।’ মহুয়ার দাবি, পুলিশ, প্রশাসনকেও তিনি জানিয়েছিলেন। কিন্তু কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি বলেই তাঁর অভিযোগ। এই সময় অনলাইন কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার এসপি অতুল ভি-র সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু তিনি ফোন তোলেননি। তাঁকে মেসেজও করা হয়। তারও জবাব এই প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত মেলেনি। তবে কোতোয়ালি থানা সূত্রে খবর, খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সার্কিট হাউসের গেটের সামনে থেকে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দিয়েছে।

    অন্য দিকে, সার্কিট হাউসের গেটের সামনে বিক্ষোভরত বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের দাবি, মহুয়া বিভিন্ন সময়ে হিন্দু দেবদেবীদের সম্পর্কে কুরুচিকর মন্তব্য করেছেন। তাঁকে বাইরে বেরিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। নইলে তিনি যেখানেই যাবেন, সেখানেই এ ভাবে আন্দোলন করবে বিজেপি।

    স্পিকারকে লেখা চিঠিতে মহুয়া জানান, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অগ্রাধিকারের তালিকায় ২১ নম্বরে সাংসদেরা রয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, নিয়ম অনুযায়ী, নিরাপত্তার ব্যাপারে কোনও রাজ্যের মুখ্যসচিবের চেয়েও বেশি অগ্রাধিকার পান সাংসদেরা। এমনকী কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মুখ্যমন্ত্রীদের চেয়েও। মহুয়ার দাবি, এই ঘটনা মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। স্পিকারের কাছে তাঁর অনুরোধ, এই ঘটনায় যেন দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ করা হয়।

    সার্কিট হাউসের ঘটনা নিয়ে শুক্রবার রাতেই তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এক্স হ্যান্ডলে সরব হন। তিনি লেখেন, ‘কালকেই (স্বাধীনতা দিবসে) বিজেপি নেতারা দেশের সামনে নারী ক্ষমতায়নের কথা বলবেন। যে মহিলা আপনাদের চ্যালেঞ্জ করছেন, তাঁকে ভয় দেখানোর পরে আপনারা মঞ্চে দাঁড়িয়ে নারীশক্তির উদ্‌যাপন করতে পারেন না।’ সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবও এক্স হ্যান্ডলে লেখেন, ‘স্পিকারের স্পষ্ট করা উচিত যে, এটি কোনও সাংসদের বিশেষাধিকার লঙ্ঘনের শামিল কি না।’ অন্য দিকে, রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ মহুয়াকে কটাক্ষ করে বলেন, ‘উনি কি সংবাদের শিরোনামে আসার চেষ্টা করছেন?’

  • Link to this news (এই সময়)