লাগাতার বৃষ্টির জেরে ধস আর হড়পা বানে বেসামাল পরিস্থিতি অরুণাচল প্রদেশে। শুক্রবার দিবাং ভ্যালিতে হড়পা বান নামে। তীর জেরে এখনও পর্যন্ত সেনাবাহিনীর পাঁচ জওয়ান নিখোঁজ। অন্য দিকে, আপার সুবানসিরিতে আচমকা ধস নেমে চার জনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার এই তথ্য দিয়েছে অরুণাচল প্রদেশের সরকার। দুই জায়গাতেই শুরু হয়েছে উদ্ধারকাজ। চলছে তল্লাশি অভিযানও।
ইটানগরের স্টেট ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টারের তরফে জানানো হয়েছে, প্রবল বৃষ্টি আর হড়পা বানে পাসু পানি আর্মি ক্যাম্পের দু’টি সেনা শিবির ভেসে যায়। সেই সময় ক্যাম্পে ছিলেন সাত জন জওয়ান। প্রবল জলের তোড়ে ভেসে যান তাঁরা। তাঁদের মধ্যে দু’জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এখনও পাঁচ জন নিখোঁজ। তাঁরা হলেন হাবিলদার উপেন্দ্র এবং কুন্দন, বিনোদ, আদিত্য ও সামুন্ডা।
উদ্ধারকাজে সেনাবাহিনীর পাশাপাশি ITBP-র ৫৮ ব্যাটালিয়ন, জেনারেল রিজার্ভ ইঞ্জিনিয়ার ফোর্সের ৬২ RCC, অরুণাচল প্রদেশ পুলিশ এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকেরাও যোগ দিয়েছেন। পাসিঘাট থেকে SDRF-এর একটি দলও রওনা দিয়েছে।
অন্য দিকে, আপার সুবানসিরিতে কেওজারিং-বিয়াচিং রাস্তা তৈরির কাজ চলাকালীন আচমকাই ধস নামে। ধসের তলায় চাপা পড়ে যান বেশ কয়েক জন শ্রমিক। তাঁদের মধ্যে তাদু বাকি, তাজি রাই, মার্কোস বসুমাতারি এবং বাবুল আলি নামে চার জনের মৃত্যু হয়েছে।
ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে নাচো থানার পুলিশ। শুরু হয়েছে উদ্ধারকাজ। দাপোরিজো থেকে দমকল ও আপৎকালীন পরিষেবার কর্মীদেরও পাঠানো হচ্ছে। পাশাপাশি, রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর একটি দলও উদ্ধার অভিযানে যোগ দিয়েছে।
ওই সন্ধ্যায় অরুণাচলের দুই জেলায় পর পর দু’টি দুর্ঘটনায় উদ্বেগ ছড়িয়েছে। এক দিকে নিখোঁজ সেনাকর্মীদের সন্ধানে জোরকদমে তল্লাশি চলছে, অন্য দিকে ধসের ঘটনায় উদ্ধার ও মৃতদেহ উদ্ধারের কাজও চালাচ্ছে প্রশাসন।
১. অরুণাচল প্রদেশে কী ঘটেছে?
প্রবল বৃষ্টির জেরে শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজ্যের দুই জেলায় হড়পা বান ও ধসের ঘটনা ঘটে। দিবাং ভ্যালিতে হড়পা বানে পাঁচ সেনাকর্মী নিখোঁজ হন। আপার সুবানসিরিতে ধসে চার শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।
২. কত জন সেনাকর্মী নিখোঁজ?
দিবাং ভ্যালির পাসু পানি আর্মি ক্যাম্পে হড়পা বানে পাঁচ সেনাকর্মী নিখোঁজ হয়েছেন। ক্যাম্পে থাকা সাত জনের মধ্যে দু’জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।
৩. নিখোঁজ সেনাকর্মীদের নাম কী?
হাবিলদার উপেন্দ্র, কুন্দন, বিনোদ, আদিত্য ও সামুন্ডা এখনও নিখোঁজ।
৪. হড়পা বানে কোথায় সেনা শিবির ভেসে যায়?
দিবাং ভ্যালির পাসু পানি আর্মি ক্যাম্পে প্রবল জলের তোড়ে দু’টি সেনা শিবির ভেসে যায়।
৫. উদ্ধারকাজে কারা যোগ দিয়েছে?
সেনাবাহিনীর পাশাপাশি ITBP-র ৫৮ ব্যাটালিয়ন, জেনারেল রিজার্ভ ইঞ্জিনিয়ার ফোর্সের ৬২ RCC, অরুণাচল প্রদেশ পুলিশ এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকেরা উদ্ধারকাজে যোগ দিয়েছেন। পাসিঘাট থেকে SDRF-এর একটি দলও রওনা হয়েছে।
৬. আপার সুবানসিরিতে কীভাবে দুর্ঘটনা ঘটল?
কেওজারিং-বিয়াচিং রাস্তা নির্মাণের কাজ চলার সময় আচমকা ধস নামে। বেশ কয়েক জন শ্রমিক ধসের নীচে চাপা পড়েন।
৭. ধসে কত জনের মৃত্যু হয়েছে?
আপার সুবানসিরির ঘটনায় চার শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। মৃতেরা হলেন তাদু বাকি, তাজি রাই, মার্কোস বসুমাতারি এবং বাবুল আলি।
৮. আপার সুবানসিরিতে উদ্ধারকাজ কে চালাচ্ছে?
নাচো থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেছে। দাপোরিজো থেকে দমকল ও আপৎকালীন পরিষেবার কর্মীদের পাঠানো হচ্ছে। রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর একটি দলও অভিযানে যোগ দিয়েছে।
৯. বর্তমানে পরিস্থিতি কী?
দুই জায়গাতেই উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান চলছে। দিবাং ভ্যালিতে নিখোঁজ পাঁচ সেনাকর্মীর সন্ধানে জোরকদমে তল্লাশি চলছে। আপার সুবানসিরিতে ধসের জায়গায় উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে প্রশাসন ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী।