হাতে জাতীয় পতাকা, চোখেমুখে উচ্ছ্বাস। তবে উদযাপনের ভাষা একটু অন্য রকম। গাড়ির হর্ন নয়, সাইকেলের ঘণ্টা আর প্যাডেলের ছন্দে শহরের রাজপথে ছড়িয়ে পড়ল পরিবেশ বাঁচানোর বার্তা। দূষণমুক্ত বিশ্ব গড়ে তুলতে সাইকেলের ভূমিকা তুলে ধরেই শনিবার স্বাধীনতা দিবসের সকালে ‘এই সময়’ এবং ‘সাইকেল নেটওয়ার্ক গ্রো’-এর উদ্যোগে আয়োজিত হলো বিশেষ সাইকেল র্যালি ‘UDAAN 79’।
ভোর থেকেই সল্টলেক স্টেডিয়াম চত্বরে জড়ো হতে শুরু করেন সাইক্লিস্টরা। খুদে থেকে প্রবীণ—বয়স তো নিছক সংখ্যামাত্র। তিনশোরও বেশি মানুষ অংশ নেন র্যালিতে। প্রত্যেকের সাইকেলে পতপত করে উড়ছে দেশের জাতীয় পতাকা। স্বাধীনতার আবেগ আর পরিবেশ সচেতনতার বার্তা মিলেমিশে একাকার। যোগ দিয়েছিলেন জনপ্রিয় অভিনেতা রোহন ভট্টাচার্য, অভিনেত্রী মানসী সেনগুপ্ত, সাইকেল নেটওয়ার্ক গ্রো-এর কর্ণধার আশিস বাজাজ-সহ আরও অনেকে।
সল্টলেক স্টেডিয়াম থেকেই শুরু হয় র্যালি। রাজপথ ধরে সাইকেলের সারি এগিয়ে যায় নিউটাউনের বিশ্ব বাংলা গেটের দিকে। সেখানে পৌঁছে ফের একই পথে ফেরত সল্টলেক স্টেডিয়ামে। সব মিলিয়ে প্রায় ২০ কিলোমিটার পথ।
র্যালি যত এগিয়েছে, রাস্তার দু’ধারে ভিড় বেড়েছে সাধারণ মানুষের। জাতীয় পতাকা হাতে উৎসাহ দিয়ে গিয়েছেন তাঁরা। কেউ দাঁড়িয়ে দেখেছেন, কেউ আবার মোবাইল ক্যামেরায় তুলে রেখেছেন সেই দৃশ্য। ‘কদম কদম বড়ায়ে যা...’-র ছন্দে এগিয়ে চলল এতগুলি সাইকেল আর জাতীয় পতাকা।
তবে শুধু স্বাধীনতা দিবসে নয়, প্রত্যেকের প্রতিদিন সাইকেল চালানো উচিত বলে মনে করেন সাইকেল নেটওয়ার্ক গ্রো-এর কর্ণধার আশিস বাজাজ। তিনি বলেন, ‘৩০০-র মতো সাইক্লিস্ট অংশগ্রহণ করেছেন। রেজিস্ট্রেশনে রেস্ট্রিকশন ছিল, না হলে সংখ্যাটা আরও বাড়ত।’
সাইকেল চালাতে চালাতে ছেলেবেলায় ফিরে গিয়েছিলেন অভিনেতা রোহন ভট্টাচার্য। বলেই ফেললেন, ‘ছোটবেলায় সাইকেল চালিয়ে মামার বাড়ি যেতাম। এখন শুধু জিমেই চালাই।’ অভিনেত্রী মানসী সেনগুপ্ত আবেগপ্রবণ, ‘ক্লাস ইলেভেন থেকে সেকেন্ড ইয়ার পর্যন্ত সাইকেলেই যাতায়াত করেছি। এটা আমার কাছে আবেগ।’
সেই আবেগের টানেই বোধহয় কৃষ্ণনগর থেকে হাজির হয়েছিলেন ৮০ বছরের দুলাল বিশ্বাস। লেহ থেকে অমরনাথ—দুর্গম গিরি কান্তার মরু পাড়ি দিয়েছেন সাইকেলে। তাঁর মুখে একগাল হাসি।
র্যালি শেষে আট জন অংশগ্রহণকারীকে বিশেষ মেডেল দিয়ে সম্মানিত করা হয়। তবে ‘UDAAN 79’-এর আসল সাফল্য যেন কোনও পুরস্কার বা মেডেলে নয়। স্বাধীনতার আনন্দকে সঙ্গে নিয়ে শহরের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে পরিবেশবান্ধব জীবনযাপনের বার্তা। কারণ, দূষণ কমানোর লড়াইয়ে সাইকেল শুধু একটি যান নয়, আগামীর আরও সবুজ, সুস্থ ও বাসযোগ্য পৃথিবীর দিকে এগিয়ে যাওয়ার এক সহজ পথও।