এক সময়ে ‘আরবান নকশাল’ শব্দবন্ধ ব্যাপক জনপ্রিয় হয়েছিল। কেজো বাংলায় ‘শহুরে নকশাল।’ যাঁরা অস্ত্র হাতে বিপ্লব করেন না। বরং শহরের বিলাসী জীবনে বিপ্লবের স্বপ্ন বোনেন, রূপরেখা তৈরি করেন। শনিবার ৮০তম স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লা থেকে ‘দিমাগি নকশাল’-দের তোপ দাগলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেন, ‘এ বার দিমাগি নকশালদের বিচ্ছিন্ন করতে হবে।’
‘দিমাগি নকশাল’দের চিহ্নিত করে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করার ডাক।
মাওবাদী মানসিকতার মানুষদের বোঝাতে এই শব্দবন্ধ ব্যবহার করেছেন বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত।
জঙ্গলে থাকা সশস্ত্র নকশালদের নির্মূল করা হয়েছে বলে দাবি মোদীর।
‘দিমাগি নকশাল’রা হিংসা, অশান্তি ও বিভাজন ছড়ানোর চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ।
২০১৪ সালে ভারতকে নকশালমুক্ত করার সংকল্প নিয়েছিল কেন্দ্র।
মাওবাদী অধ্যুষিত এলাকায় উন্নয়ন ও মানুষের আস্থা বেড়েছে বলে দাবি প্রধানমন্ত্রীর।
‘দিমাগি নকশাল’ বলতে তিনি ঠিক কী বলতে চেয়েছেন বা কাদের বোঝাতে চেয়েছেন, তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি মোদী। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, মাওবাদী মানসিকতার মানুষদের কথাই বলতে চেয়েছেন তিনি। এটা অনেকটা আরবান নকশালেরই নতুন সংস্করণ।
২০২৬-এর মার্চের মধ্যে সশস্ত্র মাওবাদীদের নির্মূল করার লক্ষ্য নিয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার। সেই লক্ষ্য পূরণ হয়েছে জানিয়ে মোদী বলেন, ‘জঙ্গলে লুকিয়ে থাকা সশস্ত্র নকশালদের আমরা নির্মূল করে দিয়েছি। দেশ এই সঙ্কট থেকে মুক্তি পেয়েছে।’ এর পরেই ‘দিমাগি নকশাল’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করেন তিনি। মোদীর কথায়, ‘সশস্ত্র নকশালদের নির্মূল করা গেলেও দিমাগি নকশালরা এখনও রয়ে গিয়েছে। এই মানসিকতার মানুষেরা সুযোগের অপেক্ষায় থাকে।’
‘দিমাগি নকশাল’-রা নানা ভাবে ভুল বুঝিয়ে সমাজে সমাজে অশান্তি ও বিভাজনের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। মোদীর কথায়, ‘তাই এই দিমাগি নকশালদের চিহ্নিত করে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে হবে।’ একই সঙ্গে দেশের যুবসমাজকে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার মূল স্রোতের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
২০১৪ সালে ভারতকে নকশাল মুক্ত ভারত গড়ার ঘোষণা করেছিল কেন্দ্রীয় সরকার। তার পর থেকে লাগাতার অভিযান চলেছে। গত এক দশকে কয়েক হাজার মাওবাদী আত্মসমর্পণ করেছেন। গ্রেপ্তারও হয়েছেন অনেকে। মোদীর দাবি, এক সময়ে মাওবাদী অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে আতঙ্কের পরিবেশ ছিল। এখন সেখানে উন্নয়নের ছবি দেখা যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর কথায়, ‘মানুষের আস্থা বেড়েছে। দেশের অগ্রগতির লক্ষ্যে উন্নয়নমূলক কাজে গতি এসেছে।’
প্রশ্ন: ‘দিমাগি নকশাল’ বলতে কী বোঝাতে চাইলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী?
উত্তর: প্রধানমন্ত্রী নির্দিষ্ট করে ব্যাখ্যা করেননি। তবে তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সশস্ত্র নকশালদের পরেও যে মতাদর্শ বা মানসিকতা সমাজে রয়েছে, সেটিকেই ‘দিমাগি নকশাল’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।
প্রশ্ন: ‘দিমাগি নকশাল’ কি ‘আরবান নকশাল’-এরই নতুন নাম?
উত্তর: প্রধানমন্ত্রী এমন কোনও সরাসরি তুলনা করেননি। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, দুই শব্দবন্ধের মধ্যে মিল রয়েছে এবং ‘দিমাগি নকশাল’কে ‘আরবান নকশাল’-এর নতুন সংস্করণ হিসেবে দেখা যেতে পারে।
প্রশ্ন: মোদী ‘দিমাগি নকশাল’দের বিরুদ্ধে কী বলেছেন?
উত্তর: তাঁদের চিহ্নিত করে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, এই ধরনের মানুষ হিংসা, অশান্তি ও বিভাজনের পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করে।
প্রশ্ন: সশস্ত্র নকশালদের নিয়ে মোদীর দাবি কী?
উত্তর: প্রধানমন্ত্রী দাবি করেছেন, জঙ্গলে থাকা সশস্ত্র নকশালদের নির্মূল করা হয়েছে এবং দেশকে সেই সংকট থেকে মুক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
প্রশ্ন: নকশালমুক্ত ভারতের লক্ষ্য কবে নেওয়া হয়েছিল?
উত্তর: মোদীর বক্তব্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালে কেন্দ্রীয় সরকার ভারতকে নকশালমুক্ত করার সংকল্প নিয়েছিল।
প্রশ্ন: নকশাল অধ্যুষিত এলাকাগুলির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কী বলেছেন মোদী?
উত্তর: তাঁর দাবি, একসময় যে এলাকাগুলিতে আতঙ্কের পরিবেশ ছিল, সেখানে এখন উন্নয়নমূলক কাজ গতি পেয়েছে এবং মানুষের আস্থাও বেড়েছে।