এই সময়: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তাই বলে বিরোধী থাকাকালীন সহযোদ্ধাদের উপেক্ষা করতে চান না তিনি। কারণ, শুভেন্দুর উপলব্ধি, যাঁরা অতীত ভুলে যান, তাঁদের ভবিষ্যৎ কখনও ভালো হতে পারে না। অতীত ভুলে গেলে পরিণতি কী হয়, তার উদাহরণ দিতে গিয়ে শুক্রবার মৌলালি যুবকেন্দ্রে বিজেপির একটি অনুষ্ঠান থেকে মুখ্যমন্ত্রী বর্ণনা করেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অতীত এবং বর্তমানের ফারাক।
গত ৪ মে বিজেপি বাংলার মসনদ দখলের পরে অনেকেই দলবদল করে হাতে বিজেপির ঝান্ডা নিয়েছেন। তাঁদের ‘চার ঘণ্টার’ বিজেপি বলে সম্বোধন করেছেন দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তবে সেই ‘চার ঘণ্টার’ বিজেপিদের দল থেকে তাড়াতে চাইছেন না পদ্ম নেতৃত্ব। বরং তাঁদের শিখিয়ে–পড়িয়ে গেরুয়াকরণ করাই বিজেপির শীর্ষ নেতাদের লক্ষ্য। যা নিয়ে দলের পুরোনো কর্মীদের একাংশের মনে ক্ষোভ জমেছে। কিন্তু পুরোনো কর্মীদের কদর যে পার্টিতে সব সময় বেশি, শুক্রবার সেই বার্তাই ঠারেঠোরে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এ দিন বিকেলে বিজেপির উত্তর কলকাতা জেলা সভাপতি তমোঘ্ন ঘোষের ডাকে সাড়া দিয়ে মৌলালি যুব কেন্দ্রে ‘দেশ ভাগের বিভাজন বিভীষিকা’ শীর্ষক একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখান থেকে দক্ষিণ কলকাতায় আরও একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাওয়ার কর্মসূচি ছিল তাঁর। সে কথা জানিয়ে শুভেন্দু মৌলালি যুব কেন্দ্রের সভা মঞ্চ থেকে বলেন, ‘দক্ষিণ কলকাতায় জেলা বিজেপির একটি কর্মসূচি আছে। সেখানে আমাকে যেতেই হবে।’ কেন যেতেই হবে, তা ব্যাখ্যা করে মুখ্যমন্ত্রীর সংযোজন, ‘কারণ, যখন কেউ আমাকে ডাকত না, ওরা ডাকত।’
শুভেন্দু যখন িবরোধী দলনেতা ছিলেন, সে সময়ে তাঁকে অনুষ্ঠানে ডাকার জন্য হামেশাই রাজ্যের তৎকালীন শাসক দল এবং প্রশাসনের হেনস্থার শিকার হতে হয়েছিল আয়োজকদের। যা নিয়ে বহুবার আদালতের দ্বারস্থও হয়েছিলেন শুভেন্দু। সে সব দিনের কথা স্মরণ করিয়ে মুখ্যমন্ত্রী এ দিন বলেন, ‘আমাদের (বিজেপিকে) ডাকলে তখন হল পাওয়া যেত না। পুলিশের অনুমতি মিলত না। কারা সেখানে যাচ্ছেন, নজর রাখা হতো। তাঁদের উপর অত্যাচার চলত।’ কিন্তু তৎকালীন শাসকের চোখরাঙানিকে উপেক্ষা করেও বিভিন্ন জেলার নানা রাজনৈতিক এবং সামাজিক অনুষ্ঠানে ডাক পেতেন বর্তমান শাসকরা। ফলে তাঁদের ভুলে যেতে চান না শুভেন্দু। তাঁর কথায়, ‘প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেও যাঁরা তখন ডেকেছেন, তাঁদের তো মনে রাখতেই হবে। কারণ, অতীত যদি কেউ ভুলে যায়, তাঁর ভবিষ্যৎ কখনও ভালো হতে পারে না।’
এরপরেই অতীত ভুলে গেলে কী অবস্থা হয়, তার হাতে–গরম উদাহরণ দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘অতীত ভুলে যাওয়ার কারণে পিসি–ভাইপোর এখন ছত্রভঙ্গ অবস্থা।’ শুভেন্দু এ দিন প্রকাশ্যে এ কথা বললেও তৃণমূলের বহু বর্ষীয়ান নেতার অনেকদিন ধরে এটাই মত। তাঁরাও মনে করেন, মমতা যদি অতীতের বন্ধুদের ভুলে টলিউডের তারকা আর অন্য দল থেকে আসা নেতাদের আঁকড়ে না ধরতেন, তা হলে হয়তো তৃণমূলের এই দশা হতো না। কালীঘাটপন্থী এক প্রবীণ তৃণমূল নেতার কথায়, ‘আমি এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই আছি। ভবিষ্যতেও থাকব। কিন্তু পাশাপাশি এটাও বলব, উনি অতীত মনে রাখেন না। ২১ জুলাই মঞ্চের সামনের সারিতে আলো করে বসে থাকতেন টলিউডের অভিনেতা–অভিনেত্রীরা। আর আমরা যাঁরা ক্ষমতায় আসার আগে সিপিএমের হাতে মার খেয়েছি, তাঁরা অনেকেই মঞ্চে ওঠার সুযোগ পেতাম না।’