• ‘জলবিন্দু’র জবাবে ‘রক্তবিন্দু’! কড়া বার্তা দিলেন ডোভাল
    এই সময় | ১৫ আগস্ট ২০২৬
  • এই সময়: স্বাধীনতা দিসবে দেশের উদ্দেশে ভাষণ দিতে গিয়ে এক জন তুললেন ‘জলবিন্দু’র কথা। আর তার কিছুক্ষণের মধ্যেই মোক্ষম জবাব পেলেন ‘রক্তবিন্দু’-তে! পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ় শরিফের হুঁশিয়ারির পাল্টা দিলেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল।

    শুক্রবার স্বাধীনতা দিবস পালন করল পাকিস্তান। এই উপলক্ষে পাক প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ় শরিফ তুলে আনেন সিন্ধু-চুক্তি বাতিলের কথা। ভারতকে হুমকি দিয়ে তিনি বলেন, ‘জলের উপরে ইসলামাবাদের যে অধিকার, তা খর্ব করার চেষ্টা হলে পরিণাম হবে মারাত্মক। খুব পরিষ্কার করে বলতে চাই, প্রাপ্য জলের যেটুকু থেকে পাকিস্তানকে বঞ্চিত করা হবে, তার প্রতিটি ফোঁটা আমাদের কাছে রেড লাইন। ভারত যদি যুক্তির পথে না আসে, তা হলে সরাসরি জবাব ওরা পাবে।

    এর পরেই জবাব যায় ভারত থেকে। ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পরে এই প্রথম মুখ খুললেন অজিত ডোভাল। পাকিস্তানের মাটিতে একের পর এক জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করে ভারতীয় বায়ুসেনা যে অভিযান চালিয়েছিল, তা নিয়েই দুই এপিসোডের প্রোগ্রাম করেছে একটি চ্যানেল। সেখানেই ডোভালকে বলতে শোনা গিয়েছে, ‘ভারতের ভদ্রতা এবং সহিষ্ণুতাকে কেউ যেন ভুলেও দুর্বলতা হিসেবে ভেবে না নেয়। যখন প্রয়োজন, তখন আমরা যথাযথ জবাব দিতে জানি। শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত লড়তে জানি আমরা। আমাদের দেশ সবসময়ে, সব পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত।’

    স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে দেশবাসীর উদ্দেশে তাঁর ভাষণে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুও সিন্ধু জলচুক্তির প্রসঙ্গ টানেন। বলেন, ‘যে দেশ সন্ত্রাসবাদকে আশ্রয় দেয়, তাদের সঙ্গে জলচুক্তি বাতিল করা একটি ঠিক এবং সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপ। ‘অপারেশন সিঁদুর’–এর প্রসঙ্গ টেনে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদীদের বিরুদ্ধে ভারতে এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপ আমাদের সামরিক শক্তির নিপুণ ভাবে আঘাত হানার ক্ষমতাকে সকলের সামনে তুলে ধরেছে। এই অভিযান একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে — সন্ত্রাসবাদী এবং তাদের আশ্রয়দাতারা যেখানেই লুকিয়ে থাকুক না কেন, তাদের একই পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।’

    ‘অপারেশন সিঁদুর’ প্রসঙ্গে ডোভাল বলেছেন, ‘পহেলগাম হামলায় যারা জড়িত ছিল, আমরা তাদের ক্যাম্পগুলিই টার্গেট হিসেবে বেছে নিয়েছিলাম।’ পহেলগাম হামলার পরে নিজের সৌদি আরব সফর কাটছাঁট করে ফিরে এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেই ঘটনা প্রসঙ্গে ডোভাল বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ফিরে এলেন। বিদেশসচিব গিয়েছিলেন তাঁকে রিসিভ করতে। আমিও ছিলাম। এয়ারপোর্টেই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমাদের একটি মিটিং হয়। প্রথমেই উনি খুব ভালো করে জানলেন ঠিক কী কী হয়েছে। তার পরে আমাকে উনি জিজ্ঞেস করেন, কারা এ কাজ করেছে? এর জন্য দায়ী কে?’

  • Link to this news (এই সময়)