• কর্পোরেটের চাপেই চিনি-লবণ-চর্বিযুক্ত খাবারে ওয়ার্নিং লেবেল নেই? কেন্দ্রকে ধমক সুপ্রিম কোর্টের
    এই সময় | ১৩ আগস্ট ২০২৬
  • উচ্চ মাত্রায় চিনি, লবণ এবং চর্বিযুক্ত খাবারের প্যাকেটের উপরে সতর্কবার্তা বা ওয়ার্নিং লেবেল লাগাতে নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। কিন্তু সেই পথে না হেঁটে কেন্দ্রীয় সরকার এবং ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (FSSAI) পাল্টা প্রস্তাব জমা দিয়েছে। তা নিয়ে এ বার তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করল শীর্ষ আদালত। কেন্দ্র এবং FSSAI-এর উদ্দেশে আদালত বলেছে, এই মামলায় আগে যা বলা হয়েছে, তা কোনও সাধারণ পর্যবেক্ষণ ছিল না। বরং, কঠোর নির্দেশ ছিল। তার পরেই সুপ্রিম কোর্ট বলে, ‘আপনারা কড়া পদক্ষেপ না করলে, আমরা করব।’

    বিচারপতি জেবি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি কে বিনোদ চন্দ্রনের ডিভিশন বেঞ্চ প্রশ্ন তুলেছে, কোনও কর্পোরেট সংস্থার চাপেই কি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সুপ্রিম কোর্টের প্রস্তাব বাস্তবায়নের পথে হাঁটছে না? শীর্ষ আদালত সাফ জানিয়েছে, গোটা বিষয়টি দেশের সাধারণ নাগরিক, বিশেষ করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিশুদের স্বাস্থ্যের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তাই কোনও সংস্থার বাণিজ্যিক লাভ-ক্ষতির কথা ভেবে কোটি কোটি মানুষের স্বাস্থ্যকে বিপদের মুখে ঠেলে দেওয়া যায় না।

    বৃহস্পতিবার কেন্দ্র এবং FSSAI প্রস্তাব দিয়েছিল, প্যাকেটের গায়ে কোনও ‘সতর্কবার্তা’ বা ওয়ার্নিং লেবেল না লিখে, একজন মানুষ সারাদিনে সর্বোচ্চ কতটা চিনি (২৫ গ্রাম), স্যাচুরেটেড ফ্যাট (১০ গ্রাম) বা লবণ (৫ গ্রাম) খেতে পারেন— তা ছবির মাধ্যমে লিখে দেওয়া যেতে পারে। FSSAI-এর পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে কেন্দ্রের অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল ব্রিজেন্দর মনিন্দর সিং জানান, খাবার প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলি প্যাকেটে সতর্কবার্তা দেওয়ার বিরোধিতা করেছে। তাদের দাবি, এতে ক্রেতাদের মনে ভয় তৈরি হতে পারে।

    জবাবে মামলাকারী প্রতিষ্ঠান ‘থ্রিএস অ্যান্ড আওয়ার হেলথ সোসাইটি’-র হয়ে সওয়াল করতে গিয়ে আইনজীবী রাজীবশঙ্কর দ্বিবেদী জানান, প্যাকেটের গায়ে শুধু পুষ্টি সংক্রান্ত কিছু গাণিতিক সংখ্যা লিখে দিলে, তাতে সাধারণ মানুষের কোনও লাভ হয় না। কিছু সংখ্যা দেখে কোনও খাবারের পুষ্টিগুণ সব মানুষের পক্ষে বিচার করা সম্ভব নয়। প্যাকেটের সামনে যদি লাল-সবুজ রঙ বা স্পষ্ট কোনও ‘সতর্কতামূলক বার্তা’ থাকে, তবে সাধারণ মানুষ কেনাকাটার সময়ে এক ঝলক দেখেই বুঝে নিতে পারেন, খাবারটি স্বাস্থ্যকর না অস্বাস্থ্যকর।

    কেন্দ্রের তরফেও পাল্টা যুক্তি দেওয়া। বলা হয়, বিদেশের খাবারের সঙ্গে ভারতের খাদ্যাভ্যাসের তফাৎ রয়েছে। ভারতীয় খাবার সাধারণত বেশিই মশলাদার হয়, তাই বিদেশের কড়া নিয়মকানুন ভারতের উপরে চাপানো ঠিক নয়। তার প্রেক্ষিতে আদালত প্রশ্ন তোলে, তা হলে কি এ দেশের মানুষ সারাজীবন অস্বাস্থ্যকর খাবারই খাবেন? ভারত কি সব সময়ে পিছিয়েই থাকবে? বিচারপতি পারদিওয়ালা বলেন, ‘আমাদের দেশের কত জন শিশু রোজ কাজুবাদাম বা শুকনো ফল খেতে পারে? আর কত জন শিশু প্যাকেটজাত চিপস-স্ন্যাক্স কিনে খায়? সমস্যাটা এখানেই।’ FSSAI-কে তাদের প্রস্তাব পুনর্বিবেচনার জন্য ২ সপ্তাহ সময় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।

  • Link to this news (এই সময়)