‘চটিচাটা’ বনাম ‘বুটচাটা’, কল্যাণ ও রাজ্যের এজির বাকবিতণ্ডায় হাই কোর্টে তুলকালাম
প্রতিদিন | ১৩ আগস্ট ২০২৬
মসজিদ থেকে লাউডস্পিকার খোলা নিয়ে জনস্বার্থ মামলার শুনানি চলাকালীন আদালত কক্ষে বেনজির সংঘাত। বর্ষীয়ান সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Kalyan Banerjee) সঙ্গে রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎ নাথ মিত্রের মধ্যে তুলকালাম। ‘চটিচাটা’ বনাম ‘বুটচাটা’ দ্বন্দ্বে উত্তপ্ত আদালত কক্ষ। বাধ্য হয়ে পরিস্থিতি সামাল দেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি।
বৃহস্পতিবার বিচারপকি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি অতরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চে মামলার শুনানি চলছিল। মামলাকারী ডেনিস ফারুকি দাবি করেন, শ্রীরামপুর, রিষড়া, চাঁপদানি, ভদ্রেশ্বর-সহ একাধিক এলাকার মসজিদ থেকে প্রায় ৪ হাজার লাউডস্পিকার খোলার জন্য মৌখিকভাবে চাপ দিচ্ছে পুলিশ। অথচ ১৯৯৯ সালে কলকাতা হাই কোর্টের তরফে নির্দিষ্ট শব্দসীমা মেনে আজানের সময় মাইক্রোফোন ব্যবহারে ছাড়পত্র দেওয়া হয় বলেই দাবি করেন মামলাকারী। এই সওয়াল জবাবের মাঝে সাংসদ-আইনজীবী কল্যাণের দাবি, তাঁকে রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল আক্রমণ করেন। ‘চটি চেটে খায়’ বলে কটাক্ষ করেন তিনি। পালটা অবশ্য ক্ষোভ উগরে দেন সাংসদ। তিনি বলেন, “উনি তো শুভেন্দু অধিকারীর বুট চেটে খাওয়া অ্যাডভোকেট জেনারেল।”
এজলাস থেকে বেরিয়ে কল্যাণ বলেন, “মোদি এবং শাহের বিরুদ্ধে সংসদে আওয়াজ তোলার জন্য আমাকে সাসপেন্ড করা হয়। আর এখানে রাজ্য সরকারের উকিলদের অপ্রাসঙ্গিক ও উলটোপালটা অভিযোগ তোলার বদভ্যাস হয়ে গিয়েছে। সংবেদনশীল মামলায় রাজ্য সরকার হারছে। তাদের চাপ তৈরি হচ্ছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় যাঁদের জেলে ঢোকানো হচ্ছে, তাঁরা জামিনে মুক্তি পেয়ে যাচ্ছেন। চাপ থেকে এমন দুর্ব্যবহার।” এরপর সরাসরি এজিকে আক্রমণ করে কল্যাণের তোপ, “একজন দেওয়ানি আদালতের উকিল কি কনস্টিটিউশনাল ল বুঝবেন? সংবিধান সংক্রান্ত কোনও ধারণা ছাড়া স্রেফ টেকনিক্যাল পয়েন্ট তুলে সময় অপচয়ের চেষ্টা চলছে।” ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। এদিকে, এই মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী মঙ্গলবার। জোর করে মসজিদ থেকে লাউডস্পিকার সরানোর অভিযোগ প্রসঙ্গে পুলিশ কী করছে, কোনও হস্তক্ষেপ করেছে কিনা, তা পরবর্তী শুনানিতে জানাতে হবে।