স্বপ্ন ছিল পাক সেনায় যোগের! সুযোগ না পেয়ে আইএসআই চর রানা রউফ
প্রতিদিন | ১৩ আগস্ট ২০২৬
বুধবার থেকে চর্চায় হাবড়া থেকে ধৃত পাক চর রানা রউফ (Rana Rauf)। তাকে জেরা করে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে এসটিএফ। তদন্তকারীদের দাবি জেরায় রানা জানিয়েছে, পাকসেনায় যোগ দেওয়া স্বপ্ন ছিল তাঁর। তবে শারীরিক সমস্যার কারণে তা হয়নি। কোনও না কোনওভাবে দেশের জন্য কাজ করতে চেয়েছিল সে।
এসটিএফ সূত্রের খবর, পাকিস্তানের ফয়সলাবাদের বাসিন্দা রানা রউফ। ছোটবেলা থেকে তার স্বপ্ন ছিলেন দেশের জন্য কাজ করা। তাই চেয়েছিল পাক সেনায় যোগ দিতে। কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল শারীরিক সমস্যা। তাই ইচ্ছে থাকলেও সেনা বাহিনীতে যোগ দিতে পারেনি সে। তবে দেশের জন্য কাজ করার ইচ্ছে ছিল। সেই কারণেই আইএসআই যোগ। জানা যাচ্ছে, ২০১২ সালে নেপালে আসে রানা। ব্যবসায়ী পরিচয়ে সেখানে থাকতে শুরু করে। এরপরই ধৃত মহম্মদ ইজাজের সঙ্গে পরিচয় হয় তার। বন্ধুত্ব পাতিয়ে ইজাজের সূত্র ধরে কলকাতায় আসে সে। পরবর্তীতে ইজাজের বাবার নাম ব্যবহার করে তৈরি করে ভুয়ো নথি। সম্প্রতি এসআইআরে ভোটার তালিকা থেকে বাদ যায় তার নাম। সূত্রের খবর, ফোর্ট উইলিয়াম চত্বরেও রেইকি করেছিল রানারা।
উল্লেখ্য, সঙ্গীদের নাম আড়াল করতে মোবাইল ভেঙে ফেলে রানা। কিন্তু তাতেও লাভ হয়নি। রানার নোটবুক ঘেঁটেই আরও অন্তত ৬ জন আইএসআই এজেন্টের নাম পায় তদন্তকারীরা। তাদের মধ্যে ৫ জন নেপাল ও ১ জন বাংলাদেশের বাসিন্দা। তারা হল কাশিফ, হানিফ চৌধুরী, সোহায়েল, জেডি ও হারুণ সফদার ও পাভেল। জানা যাচ্ছে, কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন জায়গার সেনা ছাউনি, সীমান্তে বিএসএফ ছাউনি ও রেল স্টেশন, রেলপথের ছবি, ভিডিও ও ম্যাপ নিজের মোবাইলের কয়েকটি অ্যাপ থেকে নেপালের ৫ জন পাক চরকে পাঠাত রানা। তাকে এই কাজে সাহায্য করত তপসিয়ার মহম্মদ ইজাজ। এসটিএফের দাবি ধৃত আইএসআই এজেন্ট রানা স্বীকার করে যে, বনগাঁ দিয়ে বাংলাদেশে যাওয়ার কথা ছিল তার। রানার জন্য বাংলাদেশের পাক চর এজেন্ট পাভেল অপেক্ষা করে ছিল যশোরে। বাংলাদেশে গিয়ে পরবর্তী ছক কষার জন্য বৈঠক করার কথা ছিল তার। যশোরে পৌঁছনোর পরই পাভেল তার হাতে একটি নতুন মোবাইল তুলে দিত।