লাল-সন্ত্রাস অতীত, বন্দুক ফেলে র্যাম্প কাঁপাচ্ছেন প্রাক্তন মাওবাদীরা, ভিডিও ভাইরাল
প্রতিদিন | ১৩ আগস্ট ২০২৬
একটা সময় বন্দুক হাতে সন্ত্রাস চালাতেন। লোকালয় থেকে দূরে, জঙ্গলের গভীরে ছিল বসবাস। ভয়ের পরিবেশে কাটত সময়। দিনের পর দিন এইভাবেই জীবন কাটিয়েছেন মহিলা মাওবাদীরা। কিন্তু এবার আর বন্দুক হাতে নয়, তাঁদের দেখা গেল ফ্যাশনের মঞ্চে। একেবারে দক্ষ মডেলদের মতো র্যাম্প কাঁপালেন একটা সময়ে ত্রাস হয়ে ওঠা মাও নেত্রীরা। ন্যাশনাল হ্যান্ডলুম ডে উপলক্ষে আয়োজিত এই ফ্যাশন শোয়ের ভিডিও নেটদুনিয়ায় ভাইরাল।
ছত্তিশগড়ের রায়পুরে আয়োজিত হয় এই ফ্যাশন শো। গত ৭ আগস্ট ছিল হস্তশিল্প দিবস। ওই দিন উদযাপন করতে বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি স্বয়ং। বলেন, দেশি তাঁতের নিজস্ব রূপকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে হবে নতুন মোড়কে। দেশের নানা প্রান্তেই হ্যান্ডলুম শাড়ি এবং অন্যান্য পোশাকের উদযাপন এই দিনে। ভারতের ঐতিহ্যবাহী শাড়িকে আধুনিকভাবে উপস্থাপন করে বহু ফ্যাশন শোয়ের আয়োজন করা হয়। সেরকমই এক ফ্যাশন শো ছিল মাওবাদীদের ‘স্বর্গরাজ্য’ ছত্তিশগড়ে। সেখানেই মঞ্চ মাতালেন প্রাক্তন মাও নেত্রীরা।
জানা গিয়েছে, বস্তারের জঙ্গলে এই মহিলা মাওবাদীদের বিচরণ ছিল। তারপর আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নেন। অস্ত্র ফেলে শুরু করেন সমাজের মূলস্রোতে মিশে যাওয়ার লড়াই। সেই সংগ্রামের ফল মিলল মার্জার সরণিতে। হ্যান্ডলুম শাড়িতে র্যাম্প কাঁপালেন প্রাক্তন মাওবাদীরা। চোখের সামনে এমন দৃশ্য দেখে অভিভূত দর্শকরা। অনেকে বলছেন, কয়েকবছর আগেও ভাবা যেত না যে মাওবাদীরা এমন সাধারণ মানুষের মতো জীবনযাপন করতে পারে। সন্ত্রাস থেকে সমাজের মূলস্রোতে ফেরার এই লড়াইকে কুর্নিশ জানিয়েছে নেটদুনিয়া।
উল্লেখ্য, এককালে বস্তার আর লাল সন্ত্রাস ছিল সমার্থক শব্দ। ছত্তিশগড়ের এই অঞ্চলকে বলা হত ভারতের মাওবাদের আঁতুড়ঘর। তবে গুলি-বোমার শব্দ ও রক্তের দাগ মুছে এখন শান্তির বাতাস বইছে একদা মাও-ঘাঁটিতে। বস্তারে দাঁড়িয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সদর্পে ঘোষণা করেছেন, ‘ভারত এখন মাওবাদীমুক্ত।’ কয়েক বছর আগে লাল সন্ত্রাসকে কফিনবন্দি করার যে লক্ষ্য নেওয়া হয়েছিল তা সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে। আত্মসমর্পণ করা মাওবাদীদের পুনর্বাসন যেন যথাযথভাবে হয়, সেদিকেও নজর রাখা হয়েছে। তার ফলেই জঙ্গল থেকে আজ র্যাম্পে পৌঁছে গিয়েছেন মাওবাদীরা।