• নাবালকদের টাকা দেখিয়ে রক্তদান করানোর অভিযোগে মূল কান্ডারী কিংশুক মুখোপাধ্যায় গ্রেপ্তার
    দৈনিক স্টেটসম্যান | ১৩ আগস্ট ২০২৬
  • নাবালক ছাত্রদের আর্থিক প্রলোভন দেখিয়ে রক্তদান করানোর অভিযোগে আরও এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করল দুর্গাপুর থানার পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ঘটনায় মূল কান্ডারী হিসেবে উঠে আসা কিংশুক মুখোপাধ্যায়কে ওড়িশার ভুবনেশ্বর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    অভিযোগ, দুর্গাপুরের বিধাননগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ইস্পাত নগরীর একটি বেসরকারি স্কুলের কয়েকজন নাবালক ছাত্রকে নিয়ে গিয়ে রক্তদান করানো হয়। এর বিনিময়ে তাদের টাকা দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হয়েছিল বলে অভিযোগ। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর দুর্গাপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।

    তদন্তে প্রথমে উঠে আসে ওই স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র দেবপ্রিয় চক্রবর্তীর নাম। অভিযোগ, বিভিন্ন আর্থিক প্রলোভন দেখিয়ে নাবালক ছাত্রদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কাজে সে যুক্ত ছিল। জিজ্ঞাসাবাদে দেবপ্রিয় পুলিশকে জানায়, অন্যদের মাধ্যমে তাকে এই কাজে যুক্ত করা হয়েছিল বলে দাবি তদন্তকারীদের।

    এরপর তদন্তে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সদস্য অমিত প্রসাদ যাদব এবং মালদহের বাসিন্দা মহম্মদ হাবিবুল্লাহর নামও উঠে আসে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।

    তবে তদন্তের গতিপথ আরও বদলে যায় কিংশুক মুখোপাধ্যায়ের নাম সামনে আসার পর। পুলিশ সূত্রে দাবি, কিংশুকের বাড়ি দুর্গাপুরের বিধাননগরে হলেও ঘটনার পর সে ওড়িশায় গা-ঢাকা দিয়েছিল। এরপর ওড়িশায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে দুর্গাপুর থানার পুলিশ। আজ দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে পেশ করে দুর্গাপুর থানার পুলিশ। এই নিয়ে মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করা হল এই ঘটনায়।

    পুলিশের তরফে জানা গিয়েছে, নাবালকদের রক্তদানের এই গোটা ব্যবস্থার পিছনে কিংশুকের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। বিশেষ করে কীভাবে নাবালকদের টাকার প্রলোভন দেখিয়ে রক্তদানের জন্য রাজি করানো থেকে যাবতীয় প্রক্রিয়ার মধ্যে কিংশুক ছিল বলে দাবি। তবে কয়েকজন ছাত্রকে দিয়ে রক্তদান করানোই উদ্দেশ্য ছিল, নাকি এর পিছনে আরও বড় কোনও চক্র কাজ করছিল, সেই প্রশ্নও এখন তদন্তকারীদের সামনে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে অভিযান চালিয়ে দেবপ্রিয় চক্রবর্তী, মহম্মদ হাবিবুল্লাহ এবং অমিত প্রসাদ যাদবকে গ্রেপ্তার করে দুর্গাপুর থানার পুলিশ। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে তদন্তকারীরা কিংশুকের নাম এবং ভূমিকা সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া গিয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।

    দুর্গাপুর পূর্বের বিজেপি বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন,’পুলিশের তদন্ত এগোচ্ছে। রং না দেখে পুলিশ তদন্ত করছে। এই গুরুতর অপরাধের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে শাস্তি হবেই।’

     
  • Link to this news (দৈনিক স্টেটসম্যান)