নতুন বিতর্কে উত্তাল হয়ে উঠল রাজ্যসভা। সিপিএমের জন ব্রিটাসের অভিযোগ, তাঁকে 'লুঙ্গিওয়ালা' বলে কটাক্ষ করেছেন সদ্য তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগ দেওয়া সুস্মিতা দেব। এই নিয়ে রীতিমতো হট্টগোল শুরু হয়ে যায়। বিজেপি দক্ষিণ ভারতীয় সংস্কৃতির অপমান করেছে বলে অভিযোগ ওঠে। যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সুস্মিতা। বুধবার সংসদে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, ‘আমি এরকম কোনও কথা বলিনি।’ পরে একটি জাতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সুস্মিতা সরাসরি বলে দেন, ‘জন ব্রিটাস মিথ্যা কথা বলছেন।’
ঘটনার সূত্রপাত সোমবার। সিপিএম সাংসদ জন ব্রিটাসের দাবি, আয়কর (সংশোধনী) অধ্যাদেশ নিয়ে প্রস্তাব পেশ করার সময়ে সুস্মিতা তাঁর পিছনের আসনে এসে বসেছিলেন। তখনই তাঁকে ‘লুঙ্গিওয়ালা’ বলে খোঁচা দেন বিজেপি সাংসদ। ব্রিটাসের কথায়, ‘আমি মালয়লি। ধুতি পরেছিলাম। আমাকে বার বার লুঙ্গিওয়ালা বলেছে।’ এই ধরনের অবমাননাকর মন্তব্য মেনে নেওয়া যায় না বলে দাবি তাঁর। সুস্মিতার বিরুদ্ধে স্বাধিকার ভঙ্গের প্রস্তাব আনার দাবিও জানান ব্রিটাস।
হইচই পড়ে যায় রাজ্যসভায়। বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হন বিরোধীরা। তাঁদের বক্তব্য, পোশাক নিয়ে এই ধরনের মন্তব্য শুধু কোনও ব্যক্তিকে নয়, তাঁর সংস্কৃতি ও পরিচয়ের অপমান। এক আপ সাংসদ বলেন, ‘ভারতের পরিচয় বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য।’ তাঁর অভিযোগ, বিজেপি বার বার মানুষের পোশাক নিয়ে খোঁটা দিয়ে অপমান করার চেষ্টা করছে। কংগ্রেস সাংসদ ক্রিস্টোফার তিলক ঘটনাটিকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলে মন্তব্য করেন। তাঁর মতে, বিষয়টি শুধু পোশাককে ঘিরে নয়, এর সঙ্গে সংস্কৃতিও জড়িত।
তার পরে এ দিন সংসদে দাঁড়িয়েই তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগের জবাব দেন সুস্মিতা। স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘আমি অসমের বাঙালি। বিভিন্ন রাজ্যে বিভিন্ন ধরনের পোশাক পরার যে রীতি রয়েছে আমি জানি। আমি বা অন্য কোনও সদস্য কোনও রাজ্যের পোশাক নিয়ে কটাক্ষ করিনি। বিষয়টি রেকর্ডে থাকা দরকার।’ সংসদ থেকে সংস্কৃতি বা ধর্মের ভিত্তিতে দেশকে ভাগ করার মতো কোনও বার্তা যাওয়া উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পরে একটি জাতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ব্রিটাসকে সরাসরি ‘মিথ্যাবাদী’ বলে তোপ দাগেন সুস্মিতা। তিনি বলেন, ‘সংসদে দাঁড়িয়ে মিথ্যা কথা বলেছেন। আমি লুঙ্গিওয়ালা বলিনি। তদন্ত হলেই সব সামনে চলে আসবে।’ ব্রিটাসের বিরুদ্ধে তিনি স্বাধিকার ভঙ্গের নোটিস জমা দিয়েছেন বলেও জানিয়েছেন সুস্মিতা। বিতর্কের মধ্যে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা জানান, সরকার এই ধরনের মন্তব্যকে সমর্থন করে না। তাঁর কথায়, ‘আমরা এই ধরনের মন্তব্য সমর্থন করি না। আমরা একে লুঙ্গি বলি না, ধুতি বলি।’ দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সিপি রাধাকৃষ্ণন আনুষ্ঠানিক ভাবে সতর্ক করে দেন সাংসদদের।
রাজ্যসভায় কী নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে?
‘লুঙ্গিওয়ালা’ মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সিপিএম সাংসদ জন ব্রিটাসের অভিযোগ, সুস্মিতা দেব তাঁকে এই শব্দে কটাক্ষ করেছেন।
জন ব্রিটাস কী অভিযোগ করেছেন?
ব্রিটাসের দাবি, আয়কর (সংশোধনী) অধ্যাদেশ নিয়ে প্রস্তাব পেশের সময় সুস্মিতা তাঁর পিছনের আসনে বসে তাঁকে বার বার ‘লুঙ্গিওয়ালা’ বলে কটাক্ষ করেন।
সুস্মিতা দেব কি অভিযোগ স্বীকার করেছেন?
না। সুস্মিতা স্পষ্ট জানিয়েছেন, তিনি এ ধরনের কোনও মন্তব্য করেননি।
সুস্মিতা দেবের বক্তব্য কী?
তাঁর দাবি, তিনি অসমের বাঙালি এবং দেশের বিভিন্ন রাজ্যের পোশাক ও সংস্কৃতি সম্পর্কে অবগত। কোনও রাজ্যের পোশাক নিয়ে তিনি বা অন্য কোনও সদস্য কটাক্ষ করেননি বলেও দাবি করেছেন।
ব্রিটাসকে কী বলেছেন সুস্মিতা?
একটি জাতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ব্রিটাসকে সরাসরি ‘মিথ্যাবাদী’ বলে আক্রমণ করেছেন সুস্মিতা। তদন্ত হলে সত্য সামনে আসবে বলেও দাবি করেছেন তিনি।
ব্রিটাস কি সুস্মিতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চেয়েছেন?
হ্যাঁ। সুস্মিতার বিরুদ্ধে স্বাধিকার ভঙ্গের প্রস্তাব আনার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
সুস্মিতাও কি কোনও নোটিস দিয়েছেন?
হ্যাঁ। ব্রিটাসের বিরুদ্ধে স্বাধিকার ভঙ্গের নোটিস জমা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন সুস্মিতা।
বিজেপির বিরুদ্ধে কী অভিযোগ উঠেছে?
বিরোধীদের অভিযোগ, পোশাক নিয়ে মন্তব্যের মাধ্যমে বিজেপি দক্ষিণ ভারতীয় সংস্কৃতি ও পরিচয়কে অপমান করেছে।
জেপি নাড্ডা কী বলেছেন?
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা জানিয়েছেন, সরকার এই ধরনের মন্তব্য সমর্থন করে না। তিনি বলেন, তাঁরা ‘লুঙ্গি’ বলেন না, ‘ধুতি’ বলেন।
শেষে রাজ্যসভায় কী হয়েছে?
দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সিপি রাধাকৃষ্ণন সাংসদদের আনুষ্ঠানিক ভাবে সতর্ক করেন।