• বিধায়ক-ঘনিষ্ঠ হয়ে গুন্ডাগিরির অভিযোগ, ধনিয়াখালিতে পুলিশের জালে তৃণমূলের পটল
    এই সময় | ১২ আগস্ট ২০২৬
  • তোলাবাজি, মারধর, বাড়ি ভাঙচুর-সহ একাধিক অভিযোগে গ্রেপ্তার তৃণমূল নেতা তথা ধনিয়াখালি পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি সৌমেন ঘোষ ওরফে পটল। তিনি বিধায়ক অসীমা পাত্রের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত ছিলেন। মঙ্গলবার রাতে ধনিয়াখালি থেকেই তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এই নিয়ে তৃণমূলকে ব্যাপক আক্রমণ করেছে বিজেপি। যদিও তৃণমূল এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি।

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধনিয়াখালি লোকবাটি গ্রামের বাসিন্দা শেখ মহম্মদ ইব্রাহিমের অভিযোগের ভিত্তিতেই পটলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, গত ১৬ জানুয়ারি দলবল নিয়ে তাঁর বাড়িতে ঢুকে যথেচ্ছ ভাঙচুর চালিয়েছিলেন পটল। তাঁকে মারধর, খুনের হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি একটি মোটরবাইকেও আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।

    ইব্রাহিম জানিয়েছেন, তৃণমূল জমানায় সৌমেনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ জানানোর সাহস পাননি তিনি। রাজ্যে পালাবদলের পরে গত ৬ অগস্ট বিধায়ক অসীমা পাত্র, সৌমেন ঘোষ ওরফে পটল-সহ মোট ১৯ জনের বিরুদ্ধে ধনিয়াখালি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। এর পরেই তদন্তে নেমে মঙ্গলবার রাতে সৌমেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

    পটলের গ্রেপ্তারির খবর সামনে আসতেই ধনিয়াখালি থানায় ভিড় জমান বিজেপির নেতা-কর্মীরা। ‘চোর চোর’ স্লোগান দেন তাঁরা। বিজেপির দাবি, অসীমা পাত্র ধনিয়াখালির বিধায়ক হলেও এলাকার নিয়ন্ত্রণ ছিল পটলের হাতে। ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই তাঁর দাপট বাড়তে শুরু করে। গত কয়েকটি পঞ্চায়েত নির্বাচনেও বিরোধীদের প্রার্থী দিতে বাধা দেওয়া, মারধর এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।

    পটলের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়ে ধনিয়াখালির স্থানীয় বিজেপি নেতা সোমলাল মুর্মু বলেন, ‘ওঁদের হাত ধরেই ২০১১ থেকে ১৫ বছর সাধারণ মানুষের উপরে অকথ্য অত্যাচার চালিয়েছে তৃণমূল। আমাদের উপরেও অনেক হামলা হয়েছে। প্রশাসন যেন ধৃতের কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করে।’ তবে এই নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি তৃণমূল।

    পটল কে?

    সৌমেন ঘোষ ওরফে পটল ধনিয়াখালির তৃণমূল নেতা এবং বিধায়ক অসীমা পাত্রের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত।

    কী অভিযোগে পটলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে?

    তোলাবাজি, মারধর, বাড়ি ভাঙচুর, বাইকে আগুন দেওয়া এবং খুনের হুমকির মতো একাধিক অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

    কার অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার?

    ধনিয়াখালির লোকবাটি গ্রামের বাসিন্দা শেখ মহম্মদ ইব্রাহিমের অভিযোগের ভিত্তিতে পটলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    কবে অভিযোগ দায়ের হয়েছিল?

    গত ৬ অগস্ট ধনিয়াখালি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ইব্রাহিম।

    আর কারা অভিযুক্ত?

    অভিযোগে বিধায়ক অসীমা পাত্র, সৌমেন ঘোষ ওরফে পটল-সহ মোট ১৯ জনের নাম রয়েছে।

    পটলের গ্রেপ্তারির পর কী হয়েছে?

    গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই ধনিয়াখালি থানার সামনে জড়ো হন বিজেপি নেতা-কর্মীরা। তাঁরা ‘চোর চোর’ স্লোগান দেন।

    তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া কী?

    এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পটলের গ্রেপ্তারি নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

  • Link to this news (এই সময়)