• লক্ষ্য সম্পর্ক দৃঢ় করা, স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে পাঁচ রাজ্যের প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণের সিদ্ধান্ত
    প্রতিদিন | ১২ আগস্ট ২০২৬
  • এবার আর শুধু রাজ্যের বিশিষ্টরাই নন। স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত থাকবেন অন্য আরও পাঁচ রাজ্যের প্রতিনিধিও। হবে সাংস্কৃতিক এবং খাবারের উৎসব। সোমবার কেন্দ্রের তরফে সমস্ত রাজ্যের মুখ্যসচিবকে চিঠি দিয়ে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দেশজুড়ে নানা কর্মসূচি পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেখানেই প্রতিটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে অন্য পাঁচটি রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানাতে হবে বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ‘এক ভারত শ্রেষ্ঠ ভারত’ কর্মসূচির আওতায় সাংস্কৃতিক ও খাবারের উৎসবের আয়োজন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    নবান্ন সূত্রে খবর, এর মাধ্যমে বিভিন্ন রাজ্যের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সম্পর্ক আরও মজবুত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। তবে কলকাতায় রেড রোডের অনুষ্ঠানে কোন পাঁচ রাজ্যের বিশিষ্টরা থাকবেন সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। একই সঙ্গে এবার ১৫ আগস্ট কীভাবে পালন করতে হবে, সে নিয়েও বিশদে লিখে দেওয়া হয়েছে। সেখানে জানানো হয়েছে, রাজ্য, জেলা, মহকুমা, ব্লক এবং গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরেও সকাল ৯টার পর স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান শুরু করতে হবে। রাজ্য স্তরে মুখ্যমন্ত্রী এবং জেলা স্তরে মন্ত্রী, কমিশনার বা জেলাশাসক পতাকা উত্তোলন করবেন। মহকুমা ও ব্লক স্তরে সংশ্লিষ্ট আধিকারিক এবং পঞ্চায়েত ও গ্রাম স্তরে গ্রাম বা পঞ্চায়েত প্রধান পতাকা উত্তোলন করবেন। একই সঙ্গে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ‘স্বচ্ছ ভারত’ অভিযান চালানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রের তরফে। কীভাবে তা হবে, সে বিষয়ে কেন্দ্রের তরফে গাইডলাইন বেঁধে দেওয়া হয়। সেখানে জানানো হয়েছে, প্রতিটি জেলা ও রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করে এক মাস ধরে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হবে। স্কুল পড়ুয়া, এনএসএস, এনসিসি, যুব সংগঠন ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনকে এই কাজে যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।

    পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উপরও জোর দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্বাধীনতা দিবসের দিন সন্ধ্যায় চিঠিতে জানানো হয়েছে, রাজ্যপাল বা লেফটেন্যান্ট গভর্নরের বাসভবনে সন্ধ্যা ৬টার পর ‘অ্যাট হোম’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে হবে। এই অনুষ্ঠানে সাধারণ আমন্ত্রিতদের পাশাপাশি বিশেষ কৃতিত্বের অধিকারী বিভিন্ন মানুষকে আমন্ত্রণ জানানোর কথা বলা হয়েছে। তালিকায় থাকবেন দিব্যাঙ্গজন, বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৃতী ব্যক্তি, পরিবেশ রক্ষায় বিশেষ ভূমিকা নেওয়া মানুষ, স্বচ্ছতাকর্মী, পদ্ম পুরস্কারপ্রাপ্ত, শহিদ পরিবারের সদস্য, অলিম্পিক ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পদকজয়ী, শিক্ষক, স্বাস্থ্যকর্মী, সাহসিকতার পুরস্কারপ্রাপ্ত শিশু, মহিলা সরপঞ্চ, ছাত্রছাত্রী এবং নতুন উদ্ভাবনের সঙ্গে যুক্ত গবেষকরা। এ ধরনের ২৫ থেকে ৫০ জন বিশেষ অতিথির জন্য আসন সংরক্ষণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই সঙ্গে দেশবাসীর মধ্যে দেশাত্মবোধ বাড়াতে সারা দেশে ব্যান্ডের অনুষ্ঠান করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রায় ৩৪৩টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এই অনুষ্ঠান হবে। স্থানীয় প্রশাসনকে অনুষ্ঠান সফল করতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
  • Link to this news (প্রতিদিন)