বাঘ, ভালুক হাতিদের টানে চিড়িয়াখানায় ছুটে আসে খুদে দর্শকরা। এবার সেই ছোট্ট কাঁধে চিড়িয়াখানার বাঘ ভল্লুকদের দেখভাল করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। কলকাতার স্কুল পড়ুয়াদের এই সুযোগ দিচ্ছে আলিপুর চিড়িয়াখানা। শহরে স্কুল থেকে বেছে নেওয়া হবে জু রেঞ্জার। এই জু রেঞ্জারদের হাতেকলমে প্রশিক্ষণ দেবে আলিপুর চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। এই খুদে রেঞ্জারদের জীববৈচিত্র ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের পাঠ দেওয়া হবে। সেইসঙ্গে কীভাবে চিড়িয়াখানায় পশুপাখিদের দেখভাল করা হয়, বন্যপ্রাণ সংরক্ষণে চিড়িয়াখানার ভূমিকা কী রয়েছে? দর্শকদের ভিড় সামলাবে কীভাবে? সবকিছুর প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে ছাত্রছাত্রীদের।
এই মাস থেকে আলিপুর চিড়িয়াখানার পক্ষ থেকে জু রেঞ্জার প্রোগ্রামের আয়োজন করা হচ্ছে। অষ্টম ও নবম শ্রেণির পড়ুয়াদের এই সুযোগ দিচ্ছে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। এই প্রোগ্রামে দুজন করে স্কুল পড়ুয়া অংশগ্রহণ করতে পারবে। খুদে এই রেঞ্জাররা প্রশিক্ষণের পর স্কুলে জু অ্যাম্বাসাডর হিসাবে কাজ করবে। তারা স্কুলের বাকি পড়ুয়াদের পরিবেশ ও বন্যপ্রাণ সংরক্ষণের পাঠ দেবে। আলিপুর চিড়িয়াখানার ওয়েবসাইটে এই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছে। অনলাইনে স্কুলগুলি জু রেঞ্জার প্রশিক্ষণের জন্য রেজিস্ট্রেশন করতে পারবে।
আলিপুর চিড়িয়াখানার অধিকর্তা তৃপ্তি শাহ বলেন, “জীববৈচিত্র ও বন্যপ্রাণ বাঁচলে তবেই পরিবেশ বাঁচবে। তাই পরিবেশ রক্ষার কাজে ছোটবেলা থেকে উৎসাহ জোগাতে হবে। জীববৈচিত্র ও বন্যপ্রাণ সংরক্ষণের কাজে ছোটরাও যাতে অংশগ্রহণ করতে পারে তাই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।” জু রেঞ্জার প্রশিক্ষণের পর তাদের সার্টিফিকেট দেবে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। চিড়িয়াখানায় আয়োজিত পরিবেশ দিবস, অরণ্য সপ্তাহ, ওয়াইল্ডলাইফ উইকের মতো পরিবেশ সংক্রান্ত ইভেন্টগুলিতে অংশগ্রহণ করতে পারবে তারা। পরিবেশ রক্ষার কাজে খুদে রেঞ্জাররা পরামর্শও দিতে পারবে।