বিটি রোড ও যশোর রোডের কানেক্টর দমদম রোড। এই রাস্তা দিয়ে প্রতিনিয়ত প্রচুর বড় গাড়ি, ছোট গাড়ি, বাস, বাইক, অটো, টোটো যাতায়াত করে। আর সেই ব্যস্ততম রাস্তার হালই বেজায় বেহাল। বিশেষত, দমদম স্টেশন থেকে চিড়িয়মোড় পর্যন্ত রাস্তা নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। প্রায় দেড় বছরের বেশি সময় ধরে এই রোডে চলছে কাজ। বড় বড় পাইপ বসেছে রাস্তার নীচে। তারপর থেকেই রাস্তার হাল খারাপ। দিকে দিকে খানাখন্দ। বৃষ্টির দিনে তাতে জল জমে বিপদ আরও বেড়েছে। নিয়মিত ছোটখাট দুর্ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ করছেন স্থানীয়রা। এমন পরিস্থিতিতে দমদমবাসীর প্রশ্ন, সরকার বদলে গেলেও ঠিক কেন এখনও ঠিক হল না রাস্তা? কী সমস্যা রয়েছে? কবে ঠিক হবে? আর bangla.aajtka.in-কে সেই প্রশ্নের উত্তর দিলেন এলাকার কাশীপুর-বেলগাছিয়া কেন্দ্রের বিধায়ক রিতেশ তিওয়ারি।
তাঁর কথায়, '২০ জুন পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালন করেছে কলকাতা কর্পোরেশন। সেই দিনই আমি ডিজি (সিউয়ারাজে এবং ড্রেনেজ) শান্তনু ঘোষের সঙ্গে কলকাতা কর্পোরেশনের সদর দফতরে কথা বলি। উনি আমাকে কমিট করেছিলেন ১৫ অগাস্টের মধ্যে দমদম রোড সম্পূর্ণ করবেন।' কিন্তু ১৫ অগাস্ট চলে এলেও সেই কাজ এখনও পূর্ণ হয়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন বিধায়ক।
তিনি বলেন, 'পরবর্তীকালে এক মাস পরে যখন আমি ফলোআপ মিটিং করি, তখন তাঁর জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার সৈকত সাহাকে পাঠিয়েছিলেন। সে বলল ১৫ অগাস্টের মধ্যে এক ফেজ দেব। ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পুরো রোড কমপ্লিট হবে। আমি জানি না এখন তাঁদের অবস্থান কী, তাঁদের বক্তব্য কী। তবে এটা ঠিক যে সময়ের মধ্যে এই কাজ হওয়ার কথা ছিল, তার অগ্রগতি এখনও হতাশাজনক।'
এরপরই এলাকাবাসীর সমস্যার কথা তুলে ধরলেন বিধায়াক। তিনি জানালেন, এই রাস্তার জন্য সাধারণ মানুষ রোজ কষ্ট পাচ্ছে। বাচ্চারা মোটরসাইকেল থেকে পড়ে যাচ্ছে, মহিলারা পড়ে যাচ্ছে। আর শুধু দমদম রোড নয়, দমদম রোড থেকে ছানাপট্টি থেকে বীরপাড়া বলে একটি ছোট্ট রোড রয়েছে, সেখানেও একই অবস্থা বলে দাবি করলেন বিধায়ক।
এরপরই কর্পোরেশনের উপর ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে তিনি বলেন, 'বারবার বলা সত্ত্বেও জানি না কোন অদৃশ্য শক্তিতে এখনও কলকাতা কর্পোরেশন নিজের সঠিক কাজ করতে পারছে না। জানি না এখনও পিছন থেকে তৃণমূলের কোনও অংশ তাঁদের মধ্যে আছে কি না। এটাও তদন্তের বিষয়।'
তিনি মনে করেন, কাজ না এগনোর নেপথ্যে কর্পোরেশনের আধিকারিকরা থাকলেও থাকতে পারেন। তাঁর কথায়, 'তাঁদের ওই একটা টিপিক্যাল ব্যুরোক্রেটিক অ্যাপ্রোচ রয়েছে, আজ নয় কাল। সেটা আমি বেশ কয়েকবার আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলে বুঝতে পেরেছি... এই বিষয়ে শান্তনু ঘোষ, সৈকত সাহা সহ যত আধিকারিকরাই আছেন, তাঁদের কাজকর্মে আমি অত্যন্ত হতাশ।'
এরপর তিনি জানালেন, ব্যবস্থা নেওয়ার আমার এক্তিয়ার তাঁর নেই। কিন্তু তিনি বিষয়টা পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরে জানাবেন। তিনি অ্যাডমিনিস্ট্রেটরকে জানাবেন।
সবশেষে তিনি কৃতজ্ঞতা জানান দমদমবাসীকে। তিনি বলেন, 'গত ১৬ মাস ধরে তাঁরা যে যন্ত্রণা স্বীকার হয়েও আজ পর্যন্ত ধৈর্য ধরে রেখেছেন, তাঁদের এই অসীম ধৈর্যের জন্য তাঁদের প্রণাম করা ছাড়া আমার কাছে শব্দ নেই।' যদিও এই রাস্তা ঠিক কবে ঠিক হবে, সেই বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছুই জানাতে পারেননি রিতেশ।