• শিয়ালদহে সময় মেনে, দেরিতে দৌড় হাওড়ায়, ৭০টি ডিভিশনে ট্রেনের সময়ানুবর্তিতা কতখানি? প্রকাশিত হলো রিপোর্ট
    এই সময় | ১২ আগস্ট ২০২৬
  • কুবলয় বন্দ্যোপাধ্যায়

    সময়ানুবর্তিতা বজায় রাখার 'ফ্রেন্ডলি কম্পিটিশনে' আলিপুরদুয়ার, শিয়ালদহ এমনকী, মালদা ডিভিশনের কাছেও গো–হারান হার হাওড়া ডিভিশনের। সম্প্রতি দেশের ৭০টি রেলওয়ে ডিভিশনের সময়ানুবর্তিতা নিয়ে রেল যে রিপোর্ট প্রকাশ করেছে, তাতেই প্রকট হয়েছে হাওড়ার দশা। অন্যদিকে সময় বজায় রেখে বাংলার মুখরক্ষা করেছে শিয়ালদহ ও আলিপুরদুয়ার।

    ভারতের দূরপাল্লার ট্রেন মানেই 'লেট'। এই 'স্বাভাবিক' ছবির মধ্যেই রেলের সাম্প্রতিক সময়ানুবর্তিতার পরিসংখ্যান কিছুটা স্বস্তিতে রাখল শিয়ালদহ ডিভিশনকে। কিন্তু প্রশ্নের মুখে হাওড়ার পারফরম্যান্স। দেশের ৭০টি রেলওয়ে ডিভিশনের মধ্যে সমীক্ষা অনুযায়ী ২৩টি ডিভিশন ৯০ শতাংশের বেশি সময়ানুবর্তিতা বজায় রেখেছে। এই তালিকায় ১৪ নম্বরে আছে শিয়ালদহের নাম। কিন্তু হাওড়া ৮০ থেকে ৯০ শতাংশের বন্ধনীতে (৮৪.০৫), স্থান ৪২-এ। শিয়ালদহ ডিভিশনে সময়ানুবর্তিতা ৯৫ থেকে ৯৬.৭১ শতাংশের মধ্যে। অর্থাৎ, সেরা পারফর্ম করা ডিভিশনগুলির তালিকায় জায়গা পেয়েছে পূর্ব রেলের অন্যতম ব্যস্ত এই ডিভিশন।

    এই রিপোর্ট অনুযায়ী জাতীয় স্তরে সবচেয়ে উজ্জ্বল কোটা ডিভিশন। এখানে ট্রেন ১০০ শতাংশ সময়ানুবর্তিতা বজায় রাখতে পেরেছে। কোটার পরে রয়েছে গুন্টাকাল ৯৯.৩৩ শতাংশ, আজমের ৯৯.১৭ এবং সালেম ৯৯.১৫ শতাংশ। এ ছাড়া রাতলাম, পালাক্কাড, আলিপুরদুয়ার এবং তিরুঅনন্তপুরমেও সময়ানুবর্তিতা ৯৭ শতাংশের বেশি।

    পূর্ব রেলের বাকি দু'টি ডিভিশনের মধ্যে ৮৭.৬২ শতাংশ সময়ানুবর্তিতা বজায় রেখে ৩০ নম্বরে আছে মালদা, ৭০.৬৩ শতাংশে আসা‍নসোলের র‍্যাঙ্ক ৫৫। উত্তর–পূর্ব সীমান্ত রেলের আওতায় থাকা আলিপুরদুয়ার ডিভিশন বাংলার সবচেয়ে বেশি সময়ানুবর্তিতা বজায় রেখেছে (৯৮.১৫ শতাংশ), রয়েছে সাত নম্বরে। মাত্র ৪০.৫২ সময়ানুবর্তিতায় ৭০ ডিভিশনের তালিকায় ৬৯ নম্বরে রয়েছে খড়্গপুর।

    ভারতে দূরপাল্লার ট্রেনের সময়ানুবর্তিতা বজায়ের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হলো রেলপথের বিপুল ট্র্যাফিক ও পরিকাঠামোগত চাপ। একই লাইনে যাত্রিবাহী ও মালগাড়ি চলাচলের ফলে দূরপাল্লার ট্রেনের গতি কমে যায়। তার উপরে আছে অত্যন্ত ঘন ট্রাফিক। হাওড়া-দিল্লির মতো ব্যস্ত করিডরে একটি ট্রেন ১০-১৫ মিনিট লেট করলেই তার প্রভাব পরের ট্রেনগুলির উপরে পড়তে থাকে। কোনটি আগে যাবে, কোথায় ওভারটেকিং হবে, কোন ট্রেনকে লুপ–লাইনে দাঁড় করানো হবে, এই 'পাথিং'-এর সিদ্ধান্তও সময়ানুবর্তিতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি দীর্ঘ রেলপথের বিভিন্ন প্রান্তে চলছে রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ। যে কারণে অনেক ক্ষেত্রে সাময়িক ভাবে গতি কমানো হয়।

    তাই শিয়ালদহ স্বস্তি দিলেও পূর্ব রেলের কর্তাদের চাপে রাখছে হাওড়া। জ়োনের কাছে নতুন চ্যালেঞ্জ, শিয়ালদহের সাফল্য ধরে রাখা আর হাওড়াকে আরও উপরে তুলে আনা।

  • Link to this news (এই সময়)