• অন্তর্নিহিত ভরতুকি কমে ১৮৮ টাকা হলেও গৃহস্থের সিলিন্ডারের দাম কমাচ্ছে না কেন্দ্র
    বর্তমান | ১২ আগস্ট ২০২৬
  • বাপ্পাদিত্য রায়চৌধুরী, কলকাতা: ই-কেওয়াইসি না করলে গৃহস্থের দরে (ডোমেস্টিক রেট) রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার মিলবে না বলে আগেই জানিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি। সেক্ষেত্রে গৃহস্থের সিলিন্ডার পিছু কেন্দ্র যে অন্তর্নিহিত ভরতুকি (ইমপ্লিসিট সাবসিডি) দেয়, তা আর মিলবে না। অর্থাৎ, ই-কেওয়াইসি না করা থাকলে সিলিন্ডার কিনতে হবে বাজারদরে। আগামী ১৬ আগস্ট থেকে এই নয়া নিয়ম চালু হওয়ার কথা। কিন্তু ভরতুকিহীন সিলিন্ডারের দর কত হবে, তা এখনও ঘোষণা হয়নি। যেসব গ্রাহক এখনও ই-কেওয়াইসি করাননি, তাঁদের কাছে এসএমএস পাঠিয়ে জানানো হচ্ছে, গৃহস্থের রান্নার গ্যাসে গত জুন মাসে ৭০০ টাকা এবং জুলাই মাসে ৫০০ টাকারও বেশি ভরতুকি দিয়েছে সরকার। গ্রাহকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সিলিন্ডার পিছু যে ভরতুকি ঢোকে (কলকাতার ক্ষেত্রে ১৯ টাকা ৫৭ পয়সা), তার বাইরে এই সাবসিডির কথা গ্রাহকরা জানতে পারেন না। সূত্রের খবর, চলতি আগস্ট মাসে সরকার সিলিন্ডার পিছু ভরতুকি দিচ্ছে ১৮৮ টাকা। কারণ, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমার ফলে সিলিন্ডার পিছু সরকারের খরচ অনেকটা কমেছে। এখানেই প্রশ্ন উঠছে, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমার সুফল কেন পাচ্ছে না গ্রাহক? সরকারকে যখন সিলিন্ডার পিছু ৫০০-৭০০ টাকা ভরতুকি দিতে হত, তা কমে মাত্র ১৮৮ টাকা হলেও কেন দাম অপরিবর্তিত? সেই সঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে, ই-কেওয়াইসি না করা থাকলে গ্রাহক কি এমাসে ১ হাজার ১৫৬ টাকায় (৯৬৮+১৮৮) সিলিন্ডার পাবেন? কারণ, ভরতুকি না দিলে এটাই ১৪.২ কেজি সিলিন্ডারের বর্তমান বাজারদর হওয়া উচিত।

    প্রশ্ন উঠছে ১৯ কেজির বাণিজ্যিক সিলিন্ডার নিয়েও। এই সিলিন্ডারের কলকাতায় বর্তমান দর ২ হাজার ৮৭২ টাকা ৫০ পয়সা। অঙ্কের হিসাবে ১৪.২ কেজি সিলিন্ডারের দামের নিরিখে ১৯ কেজি গ্যাসের দাম হওয়া উচিত ১ হাজার ৫৪৭ টাকা। কেন এতটা ফারাক? গৃহস্থের সিলিন্ডারের উপর পাঁচ শতাংশ এবং বাণিজ্যিক সিলিন্ডারে ১৮ শতাংশ জিএসটি আরোপ হলেও দামের এই পার্থক্য অনেকটাই। তাহলে কি বাণিজ্যিক সিলিন্ডার পিছু বড়ো অঙ্কের লাভ করছে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি? তাদের মুনাফার স্বার্থেই দামে এই অসামঞ্জস্য নিয়ে চুপ কেন্দ্র? বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশজুড়ে বেলাগাম মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ পেট্রল-ডিজেলের পাশাপাশি সিলিন্ডারের দরও। তাহলে বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম কমিয়ে কেন মূল্যবৃদ্ধিতে রাশ টানা হচ্ছে না? শুধুমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থার লোকসান আটকাতেই সাধারণ মানুষের উপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে না তো?

    আমেরিকা ও ইরানের যুদ্ধ শুরুর পর বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দর ৩ হাজার টাকা পেরিয়ে গিয়েছিল। চলতি মাসে সরকার তা ২০৯ টাকা কমিয়েছে। সাধারণ গ্রাহকের প্রশ্ন, আন্তর্জাতিক বাজারদর কম হওয়ার পর ১৪.২ কিলো সিলিন্ডারের ভরতুকি যদি ৫০০ টাকা থেকে ১৮৮ টাকা করা যায়, তাহলে বাণিজ্যিক সিলিন্ডার মাত্র ২০৯ টাকা দাম কমালো হল কেন? সব মিলিয়ে গ্যাসের দাম নিয়ে কোনো স্বচ্ছতা দেখতে পাচ্ছেন না গ্রাহক। তাঁদের আরও বক্তব্য, বাণিজ্যিক গ্যাসের ক্ষেত্রে দামের উপর যেমন খুশি ডিসকাউন্ট দেওয়া যায়। দর কষাকষির সুযোগও আছে। তাহলে স্বচ্ছতার জয়গান গাওয়া মোদি সরকার কেন সিলিন্ডারের দর নিয়ে অস্বচ্ছতা জারি রেখেছে? প্রশ্ন গ্রাহকদের।
  • Link to this news (বর্তমান)