• ব্যবসার পথ প্রকৃত অর্থেই সহজ করুক সরকার, দাবি শিল্পমহলের
    বর্তমান | ১২ আগস্ট ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এমাসেই নতুন শিল্পনীতি আনার দাবি করেছে রাজ্য সরকার। তার আগে মঙ্গলবার শিল্পমহল ও বণিকসভার কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন একাধিক মন্ত্রী ও আমলা। সেখানেই দাবি ওঠে, একটিমাত্র পলিসি না এনে, শিল্পভিত্তিক আলাদা আলাদা নীতি আনা হোক। পাশাপাশি শিল্পমহলের দাবি, শুধু নীতি নির্ধারণ নয়, প্রকৃত অর্থেই যাতে ব্যবসা করার পথ সহজ হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে সরকারকে। মমতা বন্দ্যোপধ্যায়ের আমলে আর্থিক সহায়তা বা ইনসেন্টিভ বাবদ যে টাকা বকেয়া ছিল, তাও যাতে মিটিয়ে দেওয়া হয়, সেই আরজিও জানিয়েছে শিল্পমহল। সেই বকেয়া প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকা বলে জানা গিয়েছে।

    বৈঠক শেষে ভারত চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট নরেশ পাচিসিয়া বলেন, ইজ অব ডুইং বিজনেস বা সহজে ব্যবসা করার কথা যখন বলা হয়, যখন শুধু প্রশাসনিক ফাঁস আলগা করার কথাই বলা হয়। প্রকৃত অর্থেই যাতে ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ তৈরি হয়, সেই দিকটিতে নজর দিতে হবে। যেমন দ্রুত অনুমোদন, অন্যান্য রাজ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতামূলক দামে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, সঠিক পরিকাঠামো তৈরি, পণ্য পরিবহণ ও মজুতকরণ সংক্রান্ত সুবিধা, জমি কেনায় স্বচ্ছতা, ব্যবসা করার ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হলে, তার সহজ ও দ্রুত সমাধান প্রভৃতিও দরকার। পাচিসিয়া বলেন, এখন আলাদা আলাদা শিল্পের জন্য প্রশাসনিক পদক্ষেপও ভিন্ন হয়। তাই একটি অভিন্ন শিল্পনীতি না এনে, সেক্টর ভিত্তিক পলিসি আনাই কাম্য।

    মার্চেন্টস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মুনিশ ঝাঝারিয়া বলেন, এদিনের বৈঠকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হল সরকারের বিভিন্ন বিভাগের শীর্ষস্তরের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ। সরকার জানিয়েছে, শিল্প সংক্রান্ত যে চ্যালেঞ্জগুলি আছে, পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমেই সেগুলির সমাধান হবে। বেঙ্গল চেম্বার অব কমার্স জানিয়েছে, বিভিন্ন রাজ্যের মধ্যে একটি তুল্যমূল্য রিপোর্ট সরকারকে দিয়েছে এবং শিল্পে আর্থিক সহায়তা সম্পর্কেও কিছু সুপারিশ করেছে তারা।

    এদিনের বৈঠকে শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়, অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত, শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিং, পর্যটনমন্ত্রী শংকর ঘোষ, মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল, মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা সুব্রত গুপ্ত এবং অর্থ, শিল্প, জমি ও শ্রম দপ্তরের সচিবরাও উপস্থিত ছিলেন।
    বৈঠক শেষে তাপসবাবু বলেন, অত্যন্ত ফলপ্রসূ এই বৈঠক হয়েছে। আলোচনা হয়েছে জমি নিয়ে। বিভিন্ন শিল্পপতি বা বণিকসভার সদস্যদের থেকে গুরুত্বপূর্ণ মতামত নেওয়া হয়েছে। বৈঠকের রিপোর্ট মুখ্যমন্ত্রীকে দেওয়া হবে। এরপর মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদন পেলে প্রকাশিত হবে রাজ্যের শিল্পনীতি।
  • Link to this news (বর্তমান)