আমজনতার চেয়ে গড় আয়ু কম ডাক্তারদের! কিন্তু কেন? সামনে এল চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট
প্রতিদিন | ১১ আগস্ট ২০২৬
আমজনতার গড় আয়ু ৭২.৩ বছর। চিকিৎসকদের গড় জীবনকাল সেখানে মেরেকেটে ৬৪ থেকে ৬৭ বছর। ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, চিকিৎসকদের গড় আয়ু কম আজনতার থেকে। নানা শাখার ডাক্তারবাবুদের মধ্যে আবার অস্থিরোগ বিশেষজ্ঞদের জীবনকাল আরও কম। সম্প্রতি ওয়েস্ট বেঙ্গল অর্থোপেডিক অ্যাসোসিয়েশনের সাংবাদিক সম্মেলন থেকে তা স্বীকার করেছেন বাংলার তাবড় অস্থিরোগ বিশেষজ্ঞরা।
অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজের অস্থিরোগ বিভাগের অধ্যাপক ডা. কিরণকুমার মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, অস্থিরোগ বিশেষজ্ঞদের গড় আয়ু এখন ষাটের আশপাশে। কেন এত কম? কিরণকুমারের কথায়, “হাড় ভেঙে যাওয়া কিংবা সরে যাওয়া হাড় প্রতিস্থাপন এই ধরনের অস্ত্রোপচার আরও নিখুত করতে হয়। এর জন্য অর্থোপেডিক সার্জনরা একটি যন্ত্র ব্যবহার করেন। এই সিআর্ম মেশিন থেকে রেডিয়েশন নির্গত হয়। দীর্ঘদিন এই রেডিয়েশনের সংস্পর্শে আসার ফলে চিকিৎসকের শরীরে ক্যানসারের সম্ভাবনা তৈরি হয়।” হাড়ের অস্ত্রোপচারে ব্যবহৃত সি আর্ম মেশিন থেকে যে রেডিয়েশন বের হয় তা মূলত এক্স-রে রেডিয়েশন। শহরের মেডিক্যাল কলেজের সিংহভাগ অস্থিরোগ বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন, নিয়মিতভাবে এই যন্ত্র নিয়ে কাজ করার ফলে অস্থিরোগ বিশেষজ্ঞদের ‘কর্মক্ষেত্রে ক্ষতিকর বিকিরণের সংস্পর্শে’ আসার বাস্তব ঝুঁকি থাকে।
কিন্তু কেন ব্যবহার হয় এই যন্ত্র? ভেঙে যাওয়া হাড়ে স্ক্রু বসানো, মেরুদণ্ডের সার্জারি, সব ক্ষেত্রে এই যন্ত্র ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। দেখা গিয়েছে, বিকিরণে মূলত লাগে অস্থিরোগ বিশেষজ্ঞদের চোখ এবং হাতে। ফলে ওই দুই অংশকে বিশেষভাবে ‘ভালনারেবল এক্সপোজার সাইট’ বা ঝুঁকিপূর্ণ স্থান হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অস্থিরেগ বিশেষজ্ঞ ডা. উৎপল বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, শহর থেকে দক্ষিণ ভারতে প্রচুর চিকিৎসক চোখের চিকিৎসা করাতে যান। দেখা গিয়েছে, তাঁরা অধিকাংশই অস্থিরোগ বিশেষজ্ঞ। দীর্ঘদিন ওই যন্ত্র নিয়ে কাজ করার ফলে চোখের ম্যাকুলা বা রেটিনার কেন্দ্রীয় অংশে সমস্যা তৈরি হয়েছে। অসময়ে ছানিও পড়তে পারে দীর্ঘদিন এই সি আর্ম মেশিন ব্যবহার করার ফলে। বঙ্গে চিকিৎসক পিছু রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি। টানা কাজ করার দরুণ বিশ্রাম কম হয় চিকিৎসকদের। উৎপলবাবুর কথায়, “যে কোনও চিকিৎসকেরই জীবন যাপন অত্যন্ত অনিয়মিত। বিশ্রাম অতটা হয় না। স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ-উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা দেখা যায়।”