পুলিশি সুরক্ষা বলয়ের মাঝে জনরোষের হাত থেকে রেহাই মিলল না। রাতে নিজেদের বাড়ি ফিরেও জনতার তাড়া খেয়ে এলাকা ছাড়তে হল কোচবিহারের সাংসদ জগদীপ বর্মা বসুনিয়া ও তাঁর বিধায়ক স্ত্রী সঙ্গীতাকে। সোমবার রাতেই সিতাই থেকে তাঁরা ফিরে যান কোচবিহারের ফ্ল্যাটে। ছাব্বিশের ভোটে জিতে এই সিতাইয়েরই বিধায়ক হয়েছেন সঙ্গীতা। কিন্তু নিজের পরিষদীয় এলাকার লোকজন তাঁকে ঘিরে প্রবল বিক্ষোভ দেখানোয় রাতটুকুও সিতাইয়ে নিজেদের বাড়িতে কাটাতে পারলেন না বসুনিয়া দম্পতি।
সংসদ অধিবেশন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে দিল্লি থেকে সোমবার ফিরেছেন কোচবিহারের সাংসদ জগদীশ বর্মা বসুনিয়া। যিনি এখন তৃণমূলের হাত ছেড়ে এনসিপিআই-তে নাম লিখিয়েছেন। জগদীশবাবুর ছেড়ে যাওয়া বিধানসভা আসন সিতাই থেকে ছাব্বিশের ভোটে জিতে বিধায়ক হয়েছেন তাঁর স্ত্রী সঙ্গীতা। কিন্তু তিনিও এখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দূরত্ব বাড়িয়ে কাজের স্বার্থে ‘আসল’ তৃণমূল শিবিরের দিকে ঝুঁকে। তাঁদের এহেন রাজনৈতিক শিবির বদলাবদলিতে সাংসদ-বিধায়ক বসুনিয়া দম্পতিকে নিয়ে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। তারই প্রতিফলন ঘটল সোমবার রাতে।
কয়েকমাস পর সোমবার রাতে পুলিশের ঘেরাটোপে সিতাই বাজারে নিজেদের বাড়িতে ফিরেছিলেন সস্ত্রীক জগদীশ বর্মা বসুনিয়া। তখন রাত প্রায় ১১টা। তাঁদের ফেরার খবর ছড়িয়ে পড়তেই বাড়ির সামনে ও সিতাই বাজার এলাকায় বিক্ষোভ শুরু করে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। চলে ‘গো ব্যাক’ স্লোগানও। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয় পুলিশ বাহিনী। আর এই পরিস্থিতির জেরে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সিতাইয়ের বাড়ি ছাড়তে কার্যত বাধ্য হন সাংসদ-বিধায়ক। কোচবিহারে নিজেদের ফ্ল্যাটে ফিরে যান বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনা এলাকায় নতুন করে রাজনৈতিক চর্চা শুরু হয়েছে। তবে এখনও এবিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি সিতাইয়ের বিধায়ক সঙ্গীতা রায় বা কোচবিহারের সাংসদ জগদীশ বর্মা বসুনিয়ার।