বঙ্গোপসাগরে আরও একবার নিম্নচাপের চোখরাঙানি। উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে নতুন করে তৈরি হয়েছে ঘূর্ণাবর্ত। শক্তি বাড়িয়ে সেই ঘূর্ণাবর্তের নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। তেমনটা হলে ফের বৃষ্টির প্রকোপ বৃদ্ধি পেতে পারে বাংলায়। প্রসঙ্গত, দিন কয়েক আগেই নিম্নচাপের প্রভাবে বৃষ্টি হয়েছিল দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায়। এর পাশাপাশি, মৌসুমি অক্ষরেখাও এখন বাংলার উপর দিয়েই বিস্তৃত। ফলে দুইয়ের জোড়া প্রভাবে গোটা রাজ্য জুড়েই বৃষ্টির সম্ভাবনা বৃদ্ধি পেয়েছে।
আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের আঞ্চলিক অধিকর্তা হাবিবুর রহমান বিশ্বাস জানিয়েছেন, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে একটি ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হয়েছে। আগামিকাল, বুধবার এই ঘূর্ণাবর্ত শক্তি বৃদ্ধি করে নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। তার জেরেই বৃষ্টির দাপট বাড়তে পারে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ-সহ সমুদ্র উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে। বিক্ষিপ্ত ভাবে ভারী বৃষ্টিও হতে পারে কোনও কোনও জায়গায়। এর পাশাপাশি, উত্তরবঙ্গের একাধিক জায়গাতেও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে হাওয়া অফিস।
অন্য দিকে, মৌসুমি অক্ষরেখাও এখন দিঘার উপর দিয়ে বিস্তৃত। ফলে, নিম্নচাপ এবং মৌসুমি অক্ষরেখার জোড়া ফলায় রাজ্যে বৃষ্টির অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
কলকাতার আকাশ আজ মূলত মেঘলা থাকবে। তবে, দিনের একটা বড় সময় জুড়ে রোদের দেখা মিলতে পারে। বিক্ষিপ্ত ভাবে দু’এক পশলা হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ সর্বোচ্চ ৯৯ শতাংশ হওয়ায় আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি বাড়বে। অন্য দিকে, সোমবার শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৩.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৫.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মঙ্গলবারও তাপমাত্রার পারদে খুব একটা হেরফের হবে না।
প্রসঙ্গত, সোমবার দিনভর ভ্যাপসা গরমের পরে সন্ধ্যার দিকে শুরু হয় বৃষ্টি। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, সোমবার সকাল সাড়ে ছ’টা থেকে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ছ’টার মধ্যে শহরে মোট ৬৮.৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।
বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া ঘূর্ণাবর্তের প্রভাবে দক্ষিণ ২৪ পরগনার উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে বিক্ষিপ্তভাবে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ভারী বৃষ্টি হতে পারে। বুধবার দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুর এবং বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার দুই ২৪ পরগনা ও দুই মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম ও হাওড়ায় বৃষ্টির পরিমাণ ও তীব্রতা বৃদ্ধি পেতে পারে। তার সঙ্গে ঘণটায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো বাতাস বইতে পারে। ঘূর্ণাবর্তের কারণে সমুদ্র উত্তাল থাকায় মৎস্যজীবীদের শুক্রবার পর্যন্ত সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার উত্তরবঙ্গের মালদা ও দুই দিনাজপুরে বিক্ষিপ্ত ভাবে ঝড় বৃষ্টির সম্ভাবনা বেশি। বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা মাঝারি বৃষ্টির সঙ্গে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা ঝোড়ো বাতাস বইতে পারে। বুধবার বৃষ্টির দাপট কিছুটা কম থাকলেও বৃহস্পতিবার ফের বাড়তে পারে বৃষ্টির পরিমাণ। বিক্ষিপ্ত ভাবে ভারী বৃষ্টি হতে পারে দার্জিলিং-সহ উত্তরের পাঁচ জেলায়। আগামী রবিবার পর্যন্ত এমনই থাকবে আবহাওয়া। রবিবার, দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারে বৃষ্টির পরিমাণ ও তীব্রতা বৃদ্ধি পেতে পারে।
এক নজরে
FAQ
বঙ্গোপসাগরে আবহাওয়ার নতুন কী পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে?
উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে একটি নতুন ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হয়েছে। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের মতে, এটি বুধবারের মধ্যে শক্তি বৃদ্ধি করে একটি নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
কলকাতায় আজ বৃষ্টি হবে কি?
কলকাতায় বিক্ষিপ্তভাবে দু-এক পশলা হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। মেঘলা আকাশের পাশাপাশি দিনের কিছুটা সময় রোদও উঠতে পারে।
কলকাতায় ভ্যাপসা গরম বা অস্বস্তি কেন এত বেশি?
বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ সর্বোচ্চ ৯৯ শতাংশে পৌঁছেছে। এই অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণেই মূলত ভ্যাপসা গরম এবং অস্বস্তি অনুভূত হচ্ছে।
দক্ষিণবঙ্গের কোন কোন জেলায় বেশি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে?
বুধবার মূলত দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুরে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। এরপর বৃহস্পতি ও শুক্রবার এর ব্যাপ্তি বেড়ে দুই ২৪ পরগনা, দুই মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম ও হাওড়াতেও তীব্র বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যাওয়ার ওপর কি কোনও নিষেধাজ্ঞা আছে?
হ্যাঁ, ঘূর্ণাবর্তের কারণে সমুদ্র উত্তাল থাকার আশঙ্কা থাকায় আগামী শুক্রবার পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
উত্তরবঙ্গে আগামী কয়েকদিন আবহাওয়া কেমন থাকবে?
মঙ্গলবার মালদহ ও দুই দিনাজপুরে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা বেশি। বুধবার বৃষ্টি কিছুটা কমলেও, বৃহস্পতিবার থেকে রবিবার পর্যন্ত দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।