• রেখা পাত্রর বিরুদ্ধে বাড়ি দখলের অভিযোগ, ‘সব মিথ্যা’, পাল্টা তোপ বিজেপি বিধায়কের
    এই সময় | ১১ আগস্ট ২০২৬
  • হিঙ্গলগঞ্জের বিজেপি বিধায়িকা রেখা পাত্রের বিরুদ্ধে বাড়ি দখল করে রাখার অভিযোগ উঠল। ছাব্বিশের ভোটের সময়ে বাড়িটি তিনি ভাড়া নিয়েছিলেন বলে দাবি স্বামী কেশবানন্দ মহারাজের। কিন্তু ভোট মিটে গেলেও বিজেপি বিধায়ক বাড়ি ছাড়েননি বলে অভিযোগ তাঁর। এমনকী ভাড়াও মেটানো হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন কেশবানন্দ মহারাজ। এই নিয়ে সোমবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ‘জনতার দরবারে’ লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন তিনি। তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রেখা।

    হিঙ্গলগঞ্জের লেবুখালি এলাকায় প্রায় চার বিঘা জমির উপর পাঁচিল ঘেরা তিনতলা বাড়িটির মালিক কেশবানন্দ মহারাজ। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচনের সময়ে দু’মাসের জন্য সেটা রেখা ভাড়ায় নিয়েছিলেন। কিন্তু নির্বাচন মিটে যাওয়ার পরেও তিনি বাড়ি ছাড়ছেন না বলে অভিযোগ তাঁর। শুধু তাই নয়, মাত্র দু’মাসের ভাড়া দিলেও বাকি টাকা এখনও বাকি রয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন কেশবানন্দ মহারাজ।

    এখানেই শেষ নয়, বাড়িটি বিক্রি করা নিয়েও রেখার সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছিল বলে দাবি করেছেন কেশবানন্দ। ১ কোটি ২৫ লক্ষ টাকা দাম চেয়েছিলেন তিনি। কেশবানন্দের দাবি, প্রথমে রেখা রাজি হন। কিন্তু পরে মত বদলান। ভাড়া চাইতে গেলে তাঁকে নানা ধরনের হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

    তবে মহারাজের সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন রেখা। বিজেপি বিধায়কের কথায়, ‘বাড়ি কেনা নিয়ে মহারাজের সঙ্গে কোনও কথাই হয়নি। উল্টে মহারাজ নিজেই আমাকে ফোন করে বাড়িটি দেড় কোটি টাকায় বিক্রি করার কথা জানিয়েছিলেন।’ ওই বাড়িতে আগে ‘কুকর্ম’ চলত বলেও অভিযোগ বিজেপি বিধায়কের। সেই বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর মহারাজ সেখানে বৃদ্ধাশ্রম করার কথা ঘোষণা করেছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি। রেখার কথায়, ‘ওই বাড়িতে কী ধরনের কাজকর্ম চলত, লেবুখালি এলাকার মানুষ সব জানেন।’

    বাড়ি ভাড়া বকেয়া থাকার বিষয়টি অবশ্য অস্বীকার করেননি রেখা। তাঁর দাবি, পা ভেঙে যাওয়ায় বেশ কয়েক মাস বিধানসভায় যেতে পারেননি তিনি। সেই কারণে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও জমা দিতে না পারায় তাঁর বেতন আটকে গিয়েছে। রেখার কথায়, ‘মাত্র দু’মাসের ভাড়া বাকি রয়েছে। মাইনে চালু হলেই মিটিয়ে দেব।’ এক বছরের চুক্তিতে বাড়িটি ভাড়া নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। রেখা জানিয়েছেন, তার পরেই তিনি বাড়ি ছেড়ে দেবেন।

    মহারাজের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ তুলে রেখা পাত্র বলেন, ‘আমাকে এবং আমার স্বামীর নামে নানা ধরনের অপমানজনক মন্তব্য করা হচ্ছে। ফোনে মহারাজ আমার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছেন। কুকথা বলেছেন। সব রেকর্ড করা আছে।’ প্রয়োজনে তিনি সেই সব সামনে আনবেন বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিজেপি বিধায়ক।

    প্রশ্ন: রেখা পাত্রের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ উঠেছে?

    উত্তর: ভোটের সময়ে ভাড়া নেওয়া একটি বাড়ি ভোট মিটে যাওয়ার পরেও তিনি ছাড়েননি এবং বকেয়া ভাড়াও মেটাননি বলে অভিযোগ বাড়ির মালিক স্বামী কেশবানন্দ মহারাজের।

    প্রশ্ন: বাড়িটির মালিক কে?

    উত্তর: হিঙ্গলগঞ্জের লেবুখালি এলাকায় প্রায় চার বিঘা জমির উপর তৈরি তিনতলা বাড়িটির মালিক স্বামী কেশবানন্দ মহারাজ।

    প্রশ্ন: কত টাকায় বাড়িটি বিক্রির কথা হয়েছিল বলে দাবি মহারাজের?

    উত্তর: কেশবানন্দ মহারাজের দাবি, তিনি বাড়িটির দাম ১ কোটি ২৫ লক্ষ টাকা চেয়েছিলেন এবং প্রথমে রেখা পাত্র তাতে রাজি হয়েছিলেন।

    প্রশ্ন: রেখা পাত্র কি বাড়ি কেনার কথা স্বীকার করেছেন?

    উত্তর: না। তাঁর দাবি, বাড়ি কেনার বিষয়ে মহারাজের সঙ্গে তাঁর কোনও কথাই হয়নি।

    প্রশ্ন: বাড়ির ভাড়া বকেয়া থাকার বিষয়ে রেখার বক্তব্য কী?

    উত্তর: রেখা জানিয়েছেন, মাত্র দু’মাসের ভাড়া বাকি রয়েছে। পা ভেঙে যাওয়ায় কয়েক মাস বিধানসভায় যেতে না পারায় তাঁর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়া হয়নি এবং বেতনও আটকে ছিল। বেতন চালু হলেই বকেয়া ভাড়া মিটিয়ে দেবেন বলে দাবি তাঁর।

    প্রশ্ন: কত দিনের জন্য বাড়িটি ভাড়া নেওয়া হয়েছিল?

    উত্তর: রেখা পাত্রের দাবি, এক বছরের চুক্তিতে বাড়িটি ভাড়া নেওয়া হয়েছে। এক বছর পূর্ণ হলে তিনি বাড়ি ছেড়ে দেবেন।

    প্রশ্ন: মহারাজের বিরুদ্ধে রেখার পাল্টা অভিযোগ কী?

    উত্তর: মহারাজ তাঁকে ও তাঁর স্বামীকে অপমান করার জন্য মিথ্যা অভিযোগ করছেন বলে দাবি রেখার। ফোনে মহারাজের সঙ্গে তাঁর কথোপকথন রেকর্ড করা রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

    প্রশ্ন: কোথায় অভিযোগ জানিয়েছেন কেশবানন্দ মহারাজ?

    উত্তর: সোমবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ‘জনতার দরবারে’ লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন তিনি।

  • Link to this news (এই সময়)