• ৫০০টি দেহ দাহে খরচ ১৯ লক্ষের বেশি: আরটিআই
    এই সময় | ১১ আগস্ট ২০২৬
  • শীতল চক্রবর্তী, বালুরঘাট

    এ যেন মরেও শান্তি নেই! মড়া পোড়ানোর কাঠেও কেলেঙ্কারি! ৫০০ দেহ দাহে ১৯ লক্ষের বেশি টাকার কাঠ খরচ হয়েছে। আরটিআইয়ে এই তথ্য প্রকাশ হতেই শোরগোল শুরু হয়ে গিয়েছে। মরা পোড়ানোর কাঠ (খড়ি) কেনার হিসেব নিয়ে বালুরঘাট পুরসভার বিরুদ্ধে ২০ লক্ষ টাকার দুর্নীতির অভিযোগ তুলল বিরোধীরা। আরটিআইয়ে পুরসভার তথ্য সামনে এনে বিরোধীদের অভিযোগ, আনুমানিক ৫০০টি মৃতদেহ কাঠের চুল্লিতে দাহ করতে পুরসভার খরচ হয়েছে ১৯ লক্ষ ৩৬ হাজার ৬১২ টাকা। সাধারণ হিসেবে এত টাকা খরচ হওয়ার কথা নয়। এর পিছনে দুর্নীতি রয়েছে। যদিও দুর্নীতির অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে পুরসভা।

    পুরসভার দেওয়া আরটিআই তথ্য বলছে, ২০২২-এর মার্চ থেকে ২০২৬-এর অগস্ট পর্যন্ত খিদিরপুর শ্মশানে ইলেকট্রিক চুল্লি, খড়ি, সমাধি মিলিয়ে মোট ৫২১৪টি মৃতদেহের শেষকৃত্য করা হয়েছে। তার মধ্যে ৪২৯১টি দেহ দাহ হয়েছে ইলেকট্রিক চুল্লিতে। বাকি ৯২৩টি দেহ কাঠে দাহ অথবা সমাধি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এই ৯২৩টির মধ্যে ঠিক কতগুলি দেহ কাঠের চুল্লিতে পোড়ানো হয়েছে এবং কতগুলি সমাধি দেওয়া হয়েছে, তার পৃথক হিসাব পুরসভার কাছে নেই বলেই অভিযোগ।

    এই জায়গাতেই প্রশ্ন তুলেছে আরএসপি। বাম নেতাদের দাবি, আনুমানিক ৫০০টি দেহ কাঠে দাহ করা হয়েছে ধরে নিলেও তার জন্য পুরসভার খরচ দেখানো হয়েছে ১৯ লক্ষেরও বেশি টাকা। অথচ অনেক পরিবার নিজেদের উদ্যোগে কাঠ কিনে মৃতদেহ দাহ করেছে। ফলে পুরসভার তরফে বিনামূল্যে কাঠ দেওয়ার নামে এত বিপুল টাকা খরচের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

    আরএসপি নেতা প্রলয় ঘোষের অভিযোগ, 'মরা পোড়ানোর কাঠ নিয়েও দুর্নীতি হয়েছে। আরটিআইয়ের তথ্যই তার প্রমাণ। ইলেকট্রিক চুল্লি মাঝেমধ্যেই বিকল হয়ে যেত। সেই চুল্লি বিকল হওয়ার সঙ্গে কাঠ কেনার কোনও যোগ ছিল কি না, তা তদন্ত হওয়া দরকার। ইচ্ছাকৃত ভাবে চুল্লি বিকল করা হয়েছিল কি না, সেটাও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।' বিজেপির বালুরঘাট শহর মণ্ডল সভাপতি সমীরপ্রসাদ দত্ত বলেন, 'দুর্নীতি কোন পর্যায়ে এই পুরসভা পৌঁছেছে, এই ঘটনাই তার উদাহরণ। মানুষের শেষকৃত্যের মতো বিষয়েও যদি দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে, তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।'

    বিরোধীদের অভিযোগ মানতে নারাজ চেয়ারম্যান সুরজিৎ সাহা। তিনি বলেন, মানুষের সুবিধার জন্যই পুরসভা খড়ি কিনে দিয়েছে। আরটিআইয়ের তথ্যও পুরসভাই দিয়েছে। দুর্নীতির কোনও তথ্য আমাদের কাছে নেই।' চেয়ারম্যানের দাবি, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর ব্যবস্থায় বদল আনা হয়েছে। এখন ইলেকট্রিক চুল্লি বিকল হলে রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা এজেন্সিই কাঠ কিনে দেবে, এমন চুক্তি করা হয়েছে।' নতুন ব্যবস্থা চালুর পর চুল্লি বিকল হওয়ার ঘটনা অনেকটাই কমেছে বলে দাবি করেন তিনি।

  • Link to this news (এই সময়)