এই সময়, জলপাইগুড়ি: ৪৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও চা চাষি দীপঙ্কর গোপ তো উদ্ধার হলেনই না, উল্টে তাঁকে অনুপ্রবেশকারী তকমা দিয়ে আদালতে হাজির করা হলো। তাই অপহৃত চা চাষির মুক্তির বিষয়টি বিশ বাঁও জলে পড়ল বলে মনে করা হচ্ছে। ছেলের আশু মুক্তির বিষয়ে কোনও আলো দেখতে না পেয়ে আরও উদ্বেগের মধ্যে পড়েছেন দীপঙ্করের পরিবার।
সুত্রের খবর, অপহৃত যুবককে ভারতের হাতে তুলে না দিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে বিজিবি পঞ্চগড় সদর থানায় নিয়ে যায়। তাঁর বিরুদ্ধে অবৈধ ভাবে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের অভিযোগ আনা হয়েছে। সোমবার পঞ্চগড় আদালতে তোলা হয়েছে তাঁকে। অন্যদিকে শুক্রবারের ঘটনার পরে নিরাপত্তার স্বার্থে ওই এলাকার সীমান্তের সমস্ত গেট বন্ধ করে দিয়েছে বিএসএফ।
ফলে কাঁটাতারের ও পারে থাকা জমিতে কাজ করতে যেতে না পারায় বিজিবির উপর ক্ষিপ্ত হয়েছেন তসরপাড়া গ্রামের মানুষজন। দীপঙ্করের মুক্তির বিষয়ে দিল্লিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে কথা বলবেন বলে জানিয়ে ছিলেন জলপাইগুড়ির সাংসদ জয়ন্তকুমার রায়। এদিন তিনি বলেন, 'এই ঘটনায় বিএসএফের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা হস্তক্ষেপ করেছেন। ফলে ঘটনাটি দেশের স্বরাষ্ট্র এবং বিদেশ মন্ত্রকের নজরে এসেছে। প্রয়োজনে আমি নিজেও দুই মন্ত্রকে কথা বলব।'
ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢুকে পড়ায় গত ৬ তারিখ চাউলহাটির ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে বাংলাদেশের পঞ্চগড় জেলার বাসিন্দা তজিমুদ্দিন ইসলাম নামে এক বৃদ্ধকে গ্রেপ্তার করে বিএসএফ। ওই ঘটনার একদিন পরেই দীপঙ্করকে সীমান্ত থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এ দিন বাংলাদেশ সংবাদমাধ্যমকে পঞ্চগড় জেলা পুলিশ আধিকারিক আশিস ইকবাল জানিয়েছেন, অবৈধ ভাবে অনুপ্রবেশের কারণেই ভারতের দীপঙ্কর গোপকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।