• ৯৮ দিন পরে রাতের অন্ধকারে সিতাইয়ে ফিরলেন জগদীশ-সঙ্গীতা, বাড়ির সামনেই বিক্ষোভ, উঠল ‘গো ব্যাক’ স্লোগান
    এই সময় | ১১ আগস্ট ২০২৬
  • পালাবদলের রাতেই জনরোষের আশঙ্কার বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছিলেন। কার্যত গা ঢাকা দিয়েছিলেন ৯৮ দিন। অবশেষে সোমবার রাতে নিজের বাড়ি ফিরলেন কোচবিহারের সাংসদ জগদীশচন্দ্র বসুনিয়া এবং সিতাইয়ের বিধায়ক সঙ্গীতা রায়। তবে দিনের আলোয় নয়, রাতের অন্ধকারে পুলিশের পাহারায়। কিন্তু তার পরেও শেষ রক্ষা হলো না। জগদীশের বাড়ির সামনে বিক্ষোভ দেখালেন এলাকাবাসী। উঠল ‘গো ব্যাক’ স্লোগানও।

    এদিন সকালেই জগদীশ এবং সঙ্গীতার ফেরার খবর ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। তার পর থেকেই বিভিন্ন জায়গায় জমায়েত করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন এলাকাবাসীদের একাংশ। কান্তেশ্বরী সেতু এবং সংলগ্ন রাস্তার দু’ধারেও জড়ো হন অনেকে। সূত্রের খবর, পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে দিনের আলোয় সিতাই যাওয়ার ঝুঁকি নেননি তাঁরা। কোচবিহার শহরেই থেকে যান। শেষে রাত নামার পরে পুলিশি নিরাপত্তায় সিতাইয়ের উদ্দেশে রওনা দেন তাঁরা।

    ৯৮ দিন পর সিতাইয়ে নিজেদের বাড়িতে ফিরলেন কোচবিহারের সাংসদ জগদীশচন্দ্র বসুনিয়া ও বিধায়ক সঙ্গীতা রায়।

    পুলিশি পাহারায় সিতাইয়ে ফেরেন তাঁরা।

    তাঁদের ফেরার খবর ছড়াতেই সিতাইয়ের বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয়দের একাংশ জমায়েত করে বিক্ষোভ দেখান।

    জগদীশের বাড়ির সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভকারীদের একাংশ ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দেন।

    এর আগে ২৩ জুন এবং ১০ জুলাই কোচবিহারে ফিরলেও সিতাইয়ে যেতে পারেননি তাঁরা।

    স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, তৃণমূলের আমলে সাংসদ ও বিধায়কের বিরুদ্ধে এলাকায় সন্ত্রাসের অভিযোগ উঠেছিল।

    পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয় এবং বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেওয়া হয়।

    জগদীশচন্দ্র বসুনিয়াকে একাধিক বার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

    তবে এ বারই প্রথম নয়। আগেও দু’বার সিতাইয়ে ফেরার চেষ্টা করেছিলেন জগদীশ এবং সঙ্গীতা। কিন্তু ফিরতে পারেননি। প্রথম বার গত ২৩ জুন। জগদীশের ফেরার খবর ছড়িয়ে পড়তেই নেতাজি বাজার-সহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ শুরু হয়। কোথাও কোথাও বিক্ষোভকারীদের ডিম নিয়ে অপেক্ষা করতেও দেখা যায় বলে দাবি। পরিস্থিতি আঁচ করে কোচবিহার শহরেই থেকে যান সাংসদ। সেখান থেকেই কলকাতায় ফিরে যান তিনি।

    এর পর ১০ জুলাই ফের কোচবিহারে আসেন জগদীশ। ১৫ জুলাই কোচবিহারের ল্যান্সডাউন হলে প্রশাসনিক বৈঠকেও যোগ দেন তিনি। বিধায়ক সঙ্গীতাকেও সেখানে দেখা গিয়েছিল। কিন্তু কয়েক দিন কোচবিহারে থাকলেও তাঁরা সিতাইয়ে ফেরেননি।

    সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, এদিন সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ পদাতিক এক্সপ্রেসে কোচবিহারে পৌঁছন জগদীশচন্দ্র বসুনিয়া। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সিতাইয়ের বিধায়ক সঙ্গীতা রায়ও। নিউ কোচবিহার স্টেশনে নেমে দুপুর ১২টা নাগাদ কোচবিহার শহরে নিজেদের আবাসনে পৌঁছন তাঁরা।

    একটি সূত্রের দাবি, বিকেলের মধ্যেই তাঁদের সিতাইয়ের বাড়িতে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু সাংসদ কোচবিহারে ফিরেছেন—এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই সিতাইয়ে ফের জমায়েত শুরু হয়। বিক্ষোভের আশঙ্কায় তাঁরা আর দিনের আলোয় ফেরার ঝুঁকি নেননি। বিকেল গড়িয়ে রাত নামার পরে পুলিশি পাহারায় তাঁদের সিতাইয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

    তবে সেটা নিষ্কন্টক হয়নি। রাস্তার দু’ধারে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। তাঁদের অভিযোগ, তৃণমূল জমানায় সাংসদ ও বিধায়কের বিরুদ্ধে এলাকায় সন্ত্রাসের অভিযোগ উঠেছিল। তাঁদের আর এলাকায় ঢুকতে দেওয়া হবে না। বিক্ষোভকারী ক্ষিতিশ বর্মন সরাসরি বলে দিলেন, ‘তৃণমূল ক্ষমতায় থাকাকালীন এলাকায় সন্ত্রাসের রাজত্ব চালাতেন। তাই নতুন করে তাঁরা যাতে এলাকায় এসে কোনও অশান্তি তৈরি করতে না পারেন, সে জন্যই আমরা এখানে দাঁড়িয়ে রয়েছি।’

    জগদীশ নিজের বাড়িতে ঢুকতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। তাঁর বাড়ির সামনে জড়ো হয়ে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দিতে থাকেন অনেকে। তবে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী তাঁদের সরিয়ে দেয়। গোটা ঘটনা নিয়ে জগদীশকে একাধিক বার ফোন করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি ফোন ধরেননি। যোগাযোগ করা যায়নি সঙ্গীতার সঙ্গেও।

    ১. কত দিন পর সিতাইয়ে ফিরলেন জগদীশচন্দ্র বসুনিয়া ও সঙ্গীতা রায়?

    ৪ মে বাড়ি ছাড়ার পর সোমবার, ১০ অগস্ট রাতে ৯৮ দিন পর সিতাইয়ে নিজেদের বাড়িতে ফেরেন তাঁরা।

    ২. কেন রাতে সিতাইয়ে ফিরলেন তাঁরা?

    সিতাইয়ে ফেরার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের একাংশ বিভিন্ন জায়গায় জমায়েত করে বিক্ষোভ দেখান। পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে দিনের বদলে রাতে পুলিশি নিরাপত্তায় সিতাইয়ে ফেরেন তাঁরা।

    ৩. তাঁদের বাড়ির সামনে কী হয়েছিল?

    জগদীশচন্দ্র বসুনিয়ার বাড়ির সামনে স্থানীয়দের একাংশ জমায়েত করে বিক্ষোভ দেখান। ওঠে ‘গো ব্যাক’ স্লোগানও।

    ৪. এর আগে কি তাঁরা সিতাইয়ে ফেরার চেষ্টা করেছিলেন?

    হ্যাঁ। ২৩ জুন কোচবিহারে ফেরার পর সিতাই যাওয়ার চেষ্টা করলেও বিক্ষোভের জেরে আর যেতে পারেননি জগদীশচন্দ্র। পরে ১০ জুলাই কোচবিহারে ফিরেও সিতাইয়ে যাননি।

    ৫. বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ কী?

    বিক্ষোভকারীদের একাংশের অভিযোগ, তৃণমূল ক্ষমতায় থাকার সময় জগদীশচন্দ্র বসুনিয়া ও সঙ্গীতা রায়ের বিরুদ্ধে এলাকায় সন্ত্রাসের অভিযোগ উঠেছিল। সেই কারণেই তাঁদের ফেরার বিরোধিতা করা হচ্ছে বলে দাবি বিক্ষোভকারীদের।

    ৬. পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল?

    জগদীশের বাড়ির সামনে উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়। পরে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেওয়া হয়।

    ৭. জগদীশচন্দ্র বসুনিয়া কি ঘটনার বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন?

    তাঁর বক্তব্য জানতে একাধিক বার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। সঙ্গীতা রায়ের সঙ্গেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

  • Link to this news (এই সময়)