• আইসি ক্লোজ ও আইও সাসপেন্ড, তৃণমূল কর্মীর মৃত্যুতে হালিশহরে গিয়ে ‘অ্যাকশন’ শুভেন্দুর
    প্রতিদিন | ১০ আগস্ট ২০২৬
  • ‘পুলিশ হেফাজতে’ তৃণমূল কর্মীর মৃত্যুতে রাজধর্ম পালন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। সোমবার সকালে মন্ত্রী অর্জুন সিং, সুমনা সরকার, স্থানীয় বিধায়ক, রাজ্য পুলিশের ডিজি, বারাকপুরের সিপিকে সঙ্গে নিয়ে হালিশহরে পৌঁছন তিনি। নিহত কর্মীর পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন। বাড়ি থেকে বেরিয়ে হালিশহর থানার আইসিকে ক্লোজ এবং আইও বা তদন্তকারী আধিকারিককে সাসপেন্ডের সিদ্ধান্ত জানান। এছাড়া মৃতের স্ত্রীকে মুখ্যমন্ত্রী অ্যাটেনডেন্ট হিসাবে চাকরি এবং ১০ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্যের কথা ঘোষণা করেন।  

    হালিশহরে দাঁড়িয়ে শুভেন্দু বলেন, “একটা লিখিত চিঠি আমাকে মৃতের স্ত্রী দিয়েছেন। মৃত্যুকে নিয়ে রাজনীতি করার সুযোগ দেননি। তাই কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এসেছিলেন। দেখা করেননি। দাদা শুধু বলেছিলেন বিচার চাই। বিচার দিতে পারবে রাজ্য প্রশাসন। এটা বড় পাওনা। বাংলার রাজনীতিতে পুলিশের গুলি চালানো, রাজনৈতিক সংঘর্ষ, বোমাবাজি, বন্দুকবাজি এবং পুলিশের কিংবা রাজনৈতিক হেফাজতে খুন করা হয়েছে। এমন অনেক উদাহরণ রয়েছে। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সময় উদাহরণ দেখাতে পারবেন না রাজ্য পুলিশের ডিজিকে সঙ্গে নিয়ে রাজনৈতিক ভিন্ন মত পোষণ করা কারও বাড়িতে এসেছে। এর উদাহরণ পাবেন না। যা এখন দেখতে পাচ্ছেন। স্থানীয় প্রশাসনের উপর ভরসা রেখেছে, এটাই বড় ব্যাপার।” 

    তিনি আরও বলেন, “ওঁর স্ত্রী আমাকে বলেছে, আপনাকে দোষী পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। দু’টি বাচ্চা রয়েছে। আমার ভবিষ্যৎ ও বাচ্চার পড়াশোনার দায়িত্ব নিতে হবে। তৃতীয়টা বলেননি। এটা আমরা বলেছি। পুলিশ লকআপে মারা গিয়েছেন, তা দিনের মতো সত্যি। কতটা অত্যাচারে মারা গিয়েছেন, তা আমি বলতে পারব না। যতক্ষণ না রিপোর্ট পাচ্ছি, তা রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত বলতে পারব না।” শুভেন্দু এই ঘটনায় আইসিকে ক্লোজ ও তদন্তকারী আধিকারিককে সাসপেন্ড করেছেন। সাধারণত এই ধরনের ঘটনার ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট বা এসডিও তদন্ত করেন। ঘটনার গুরুত্ব বুঝে জেলাশাসককে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মুখ্যসচিব বিজ্ঞপ্তি দেবেন বিকেলে। 

    নিহতের স্ত্রীকে মুখ্যমন্ত্রীর অ্যাটেনডেন্ট হিসাবে চাকরি দেওয়া হয়েছে। অ্যাটেনডেন্টরা ১২ মাস ১৫ হাজার করে বেতন পাবেন। ১ বছর পর গ্রুপ ডি স্টাফ হবেন। শুভেন্দুর কথায়, “পরীক্ষা ছাড়া তো আমি চাকরি দিতে পারি না। তাই এই চাকরি দিলাম। উনি রাজি হয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর তহবিল থেকে শিশুদের পড়াশোনার জন্য ১০ লক্ষ টাকার চেক দেওয়া হয়েছে।”
  • Link to this news (প্রতিদিন)