• সেতু নেই, ঝুঁকি নিয়ে কাঁসাই পেরিয়ে যাতায়াত পড়ুয়াদের
    এই সময় | ১০ আগস্ট ২০২৬
  • এই সময়, পুরুলিয়া: নেই সেতু, এ দিকে স্কুলে রয়েছে পরীক্ষা। তাই ভরা বর্ষায় ছোট নৌকোয় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপার করতে হচ্ছে স্কুল পড়ুয়াদের।

    এই ছবি পুরুলিয়া জেলার মানবাজার–১ ব্লকের লঙ্কাগড়া, মৌজাডি, মানকোচা গ্রামের। এখানকার বেশ কিছু ছাত্রছাত্রী পুঞ্চা ব্লকের বিভিন্ন সরকারি স্কুলে পড়াশোনা করে। মাঝে রয়েছে কাঁসাই নদী। গ্রীষ্ম বা অন্য সময়ে নদী পারাপারে কোনও সমস্যা না–থাকলেও বর্ষায় সেই কাঁসাই পার হওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়।

    শনিবার পুঞ্চার কাঁসাই নদী ঘাটে দেখা গেল, নৌকোয় চেপে ছাত্রছাত্রীরা যাতায়াত করছে। এই বিষয়ে লঙ্কাগড়া গ্রামের এক অভিভাবক সুনীল টুডুর বক্তব্য, ‘আমার মেয়ে পুঞ্চা গার্লস হাইস্কুলে পড়ে। বছরের অন্য সময়ে নদী পেরোতে অসুবিধা তেমন না–থাকলেও বর্ষায় তা বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়ায়। এই মুহূর্তে স্কুলে পরীক্ষা চলছে, তাই বাধ্য হয়ে এ ভাবেই যেতে হচ্ছে। নদী পারাপারের জন্য কজ়ওয়ে তৈরি করার দাবি জানাচ্ছি।’

    মানবাজার–১ ব্লকের ওই গ্রামগুলির কাছে গোপালনগর হাইস্কুল এবং জুতুজুড়ি হাইস্কুল রয়েছে। কিন্তু যোগাযোগ তেমন উন্নত না–হওয়ায় পড়ুয়ারা ওই সব স্কুলে ভর্তি হতে অনীহা প্রকাশ করে। সেই তুলনায় কাঁসাই পেরিয়ে সহজেই পুঞ্চা ব্লকের স্কুলগুলিতে পৌছনো যায়। পুঞ্চা গার্লস হাইস্কুলের এক ছাত্রী বলছে, ‘মাত্র দু’কিলোমিটার গেলেই স্কুলে পৌঁছে যাই। কিন্তু ঘুরপথে গেলে প্রায় ১৭ কিলোমিটার পথ পেরোতে হয়। তাই যদি নদীর উপরে সেতু থাকত, আমাদের এই কষ্ট করতে হতো না।’

    পুঞ্চা গার্লস হাইস্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা সুমিতা মাহাতো বললেন, ‘ভরা বর্ষায় এই ভাবে নদী পারাপার ঠিক নয়। সোমবার বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী এবং অভিভাবকদের বলা হবে, কেউ যেন ঝুঁকি নিয়ে যেন নদী পার না– হয়।’ পুঞ্চা ব্লকের বিডিও দীপ চট্টোপাধ্যায় এই বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বলেন, ‘বিষয়টি শুনেছি। কী ব্যবস্থা নেওয়া যায়, দেখা হচ্ছে। আপাতত প্রশাসন থেকে বিদ্যালয় এবং পড়ুয়াদের সতর্ক করা হবে।’

    পুঞ্চা অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক আলি আসগর বিশ্বাসের প্রতিক্রিয়া, ‘খবর নিয়ে দেখছি। পড়ুয়াদের কথা ভেবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

  • Link to this news (এই সময়)