এই সময়, মালদা: এক দশকেরও বেশি সময় ধরে স্কুলে হাজিরা দেননি। না দিয়ে লাগাতার সরকারি বেতন তোলার অভিযোগ উঠল হবিবপুরের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক পার্শ্বশিক্ষকের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত মৃগাঙ্কমোহন রায়ের স্ত্রী স্থানীয় জাজইল গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান পদে রয়েছেন। তৃণমূলের প্রভাব খাটিয়েই এক সময়ে ওই পার্শ্বশিক্ষক অনিয়ম করেছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এই অভিযোগের ভিত্তিতে গত ২৭জুলাই প্রশাসন ও শিক্ষা দপ্তরের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন একদল গ্রামবাসী। অভিযোগ পাওয়ার পরেই বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা দপ্তর।
হবিবপুর ব্লকের জাজইল গ্রাম পঞ্চায়েতের কাঁঠাল বানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পার্শ্বশিক্ষক মৃগাঙ্কমোহন। তাঁর বিরুদ্ধে প্রায় ১২ বছর ধরে স্কুলে অনুপস্থিত থেকেও নিয়মিত বেতন তোলার অভিযোগ উঠেছে। ওই পার্শ্বশিক্ষক এক সময়ে হবিবপুরের তৃণমূল যুব নেতার পদে ছিলেন। অভিযোগ, তৃণমূল ক্ষমতায় থাকার সময়ে বিভিন্ন ভাবে প্রভাব খাটিয়ে তিনি এই অনিয়ম করেছেন।
গ্রামবাসীর প্রশ্ন, মৃগাঙ্কমোহন স্কুলে না গেলেও প্রতি মাসে বেতন নিলেন কী ভাবে? কার মদতে তিনি এ কাজ করেছেন? এ সবের সঠিক তদন্ত করে গ্রামবাসী উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন আইহো চক্রের অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক, হবিবপুর পঞ্চায়েত সমিতি এবং সমগ্র শিক্ষা মিশনের ডিইও-র কাছে। যদিও পার্শ্বশিক্ষক সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, '২০২৫-এ শারীরিক অসুস্থতার কারণে কয়েক মাস স্কুলে যেতে পারিনি। কিন্তু ১২ বছর ধরে স্কুলে না গিয়ে বেতন তোলার যে অভিযোগ করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আমার স্ত্রী জাজইল অঞ্চলের তৃণমূলের প্রধান হওয়ায় রাজনৈতিক চক্রান্ত করে মিথ্যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে।'
জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শক তথা ডিপিএসসির চেয়ারম্যান মলয় মণ্ডল বলেন, 'ওই পার্শ্বশিক্ষক সরাসরি আমাদের অধীনস্থ কর্মী নন। তাই বিষয়টি সমগ্র শিক্ষা মিশনকে দেখতে বলা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'