এই সময়, মালদা: পেশায় হোটেল ব্যবসায়ী এক তৃণমূল কর্মীকে খুনের অভিযোগ উঠেছে এলাকারই এক কংগ্রেস নেতার ভাই ও তাঁর দলবলের বিরুদ্ধে। শুক্রবার রাতে মালদার মোথাবাড়ি থানার বাঙ্গিটোলা অঞ্চল সংলগ্ন পঞ্চানন্দপুর ইকতাবাজার এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। মালদা মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়ার সময়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মৃত্যু হয় নাসিরুদ্দিন আহমেদ (২৭)-এর। পুলিশ জানিয়েছে, পেটে, বুকে ও গলার একাধিক জায়গায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মৃত্যু হয়েছে তাঁর। তবে দেহে গুলির কোনও চিহ্ন মেলেনি। টাকা পয়সার লেনদেন নিয়ে পুরোনো বিবাদকে কেন্দ্র করে এই হামলা বলে প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছে পুলিশ। ঘটনার পরে অভিযুক্ত কংগ্রেসের ব্লক সভাপতি দুলাল শেখ ও তাঁর ভাই ফিরোজ শেখ বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। নিহতের ভাই মহসিন আহমেদ অভিযুক্ত দুলাল-সহ আট জনের নামে মোথাবাড়ি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। নাসিরুদ্দিনের বাড়ি মোথাবাড়ি থানার পঞ্চানন্দপুর এলাকায়। মোথাবাড়ির প্রাক্তন বিধায়ক সাবিনা ইয়াসমিনের কাছের মানুষ হিসাবে পরিচিত নাসিরুদ্দিন তৃণমূল জমানায় বিভিন্ন গোলমালে জড়িয়ে জেলও খেটেছেন।
শুক্রবার সন্ধ্যায় তাঁর একমাত্র নাবালক ছেলের জ্বর হওয়ায় রাতে ওষুধ কিনতে বেরিয়েছিল তিনি। মোটরবাইক নিয়ে বাঙ্গিটোলার গ্রামের বাড়ি থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে পঞ্চানন্দপুর স্ট্যান্ডের কাছে দোকানে গিয়েছিলেন ওষুধ কিনতে। সওয়া ন'টা নাগাদ দুই বন্ধু নাসিরুদ্দিনকে ডেকে চা খেতে নিয়ে যায়। সেখানে বসে গল্প করার সময়ে তাঁকে লক্ষ্য করে দুষ্কৃতীরা গুলি ছোড়ে। প্রাণ বাঁচাতে পঞ্চানন্দপুর ইকতাবাজারের দিকে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন তিনি। একশো মিটার যাওয়ার পরে সওয়া দশটা নাগাদ দুষ্কৃতীরা তাঁকে ধরে কোপাতে শুরু করে। নাসিরুদ্দিনদের হোটেল ও মুদিখানার ব্যবসা রয়েছে।
নিহতের ভাই মহসিন আহমেদ বলেন, 'দুলাল আশি হাজার টাকা ধার নিয়েছিলেন। টাকা না দেওয়ায় দু'দিন আগে গোলমাল হয়। তার পরেই এ ভাবে প্রকাশ্যে খুন করা হয়।' তৃণমূলের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ ঘোষ বলেন, 'কংগ্রেস নেতা দলবল নিয়ে নৃশংস ভাবে হামলা করেছে। পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করুক।' যদিও জেলা কংগ্রেসের প্রাক্তন বিধায়ক অর্জুন হালদার জানিয়েছেন, মৃতের পরিবার থেকে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হচ্ছে, তা ঠিক নয়। এটা পারিবারিক গোলমাল। এখানে রাজনীতির কোনও বিষয় নেই।