• মহিলা সংরক্ষণ বিল ইস্যুতে ফের সরকার–বিরোধী তরজা
    এই সময় | ০৯ আগস্ট ২০২৬
  • এই সময়, নয়াদিল্লি: মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে ফের প্রকাশ্যে কেন্দ্র–বিরোধী সংঘাত। শনিবার সকালে হঠাৎই ২০২৩ সালের মহিলা সংরক্ষণ বিল সমর্থন নিয়ে রাহুল গান্ধীর একটি পুরোনো ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। সেখানে নারী স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের অধিকার এবং মহিলাদের পছন্দ অনুযায়ী কাজ করার অধিকারের পক্ষে সওয়াল করেছিলেন রাহুল। তা তুলে ধরে রিজিজুর বক্তব্য, 'কংগ্রেসের তরফে এটি একটি ইতিবাচক বার্তা। আশা করি মহিলা সংরক্ষণ বিল কার্যকরেও কংগ্রেস সরকারকে নিঃশর্ত সমর্থন করবে।'

    এর পাল্টা জবাব আসে রাহুলের তরফে। সোশ্যাল মিডিয়ায় রাহুল লেখেন, 'রিজিজুজি, সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে আপনিই সবচেয়ে ভালো জানেন, মহিলা সংরক্ষণ বিল ২০২৩, ইতিমধ্যেই কংগ্রেসের পূর্ণ সমর্থনে সর্বসম্মতিক্রমে পাশ হয়েছে। কিন্তু তিন বছর কেটে যাওয়ার পরেও সেই আইন কার্যকর হয়নি কেন? মহিলা সংরক্ষণকে এখন কেন ডিলিমিটেশনের সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে?' রাহুলের দাবি, '২০২৩-এর আইনই নিঃশর্ত ভাবে কার্যকর করুন।'

    প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালে পাশ হয়েছিল ১০৬তম সংবিধান সংশোধনী বিল— 'নারীশক্তি বন্দন অধিনিয়ম'। ওই আইনে লোকসভা এবং রাজ্য বিধানসভাগুলিতে মহিলাদের জন্য এক-তৃতীয়াংশ আসন সংরক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু ২০২৩ সালে আইন পাশ হলেও বর্তমান লোকসভার আসন কাঠামোর ভিত্তিতে সঙ্গে সঙ্গে ৩৩ শতাংশ নারী সংরক্ষণ কার্যকর হয়নি। কেন্দ্রের ২০২৬ সালের প্রস্তাবিত সাংবিধানিক পরিবর্তনের লক্ষ্য ছিল, ২০১১ সালের জনগণনার ভিত্তিতে আসন পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে মহিলা সংরক্ষণ চালু করা। কিন্তু এতেই আপত্তি বিরোধীদের।

    কেন্দ্রের যুক্তি, মহিলা সংরক্ষণ বাস্তবে কার্যকর করতে হলে সংবিধানে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী আসন পুনর্বিন্যাস করা প্রয়োজন। পাল্টা বিরোধীদের বক্তব্য, নারী সংরক্ষণ এবং ডিলিমিটেশনকে একসঙ্গে বেঁধে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বর্তমান ৫৪৩টি লোকসভা আসনের ভিত্তিতেই ৩৩ শতাংশ আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষণ করা সম্ভব। রাহুলও সেই অবস্থানই স্পষ্ট করেছেন।

  • Link to this news (এই সময়)