অযোধ্যার রামমন্দিরের পরে মুম্বইয়ের বিখ্যাত সিদ্ধিবিনায়ক মন্দিরের দানবাক্সের টাকা নিয়ে উঠেছে গুরুতর অভিযোগ। মন্দিরের দান থেকে প্রতি বছর প্রায় ১৮ কোটি টাকা তছরুপ করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনা (MNS) প্রধান রাজ ঠাকরে। তাঁর এই অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হওয়ার পর এবার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্তের নির্দেশ দিলেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশ।মুম্বইয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মন্দিরে প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক ভক্তের সমাগম হয়। ফলে মন্দিরের দান ও অর্থের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ওঠা এই অভিযোগ ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই তৈরি হয়েছে ব্যাপক চাঞ্চল্য।
সম্প্রতি এক জনসভায় রাজ ঠাকরে অভিযোগ করেন, সিদ্ধিবিনায়ক মন্দিরে ভক্তদের দেওয়া দান থেকে প্রতি বছর প্রায় ১৮ কোটি টাকা সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তাঁর এই দাবি প্রকাশ্যে আসার পর মন্দিরের আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং দানের টাকা কীভাবে হিসাব করা হয়, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। তবে রাজ ঠাকরের এই দাবি এখনও তদন্তে প্রমাণিত হয়নি। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতেই রাজ্য সরকার তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
অভিযোগ: সিদ্ধিবিনায়ক মন্দিরের দান থেকে বছরে প্রায় ১৮ কোটি টাকা সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে দাবি রাজ ঠাকরের।
অভিযোগের প্রমাণ: রাজ ঠাকরের দাবি এখনও তদন্তে প্রমাণিত হয়নি।
তদন্তের নির্দেশ: অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশ।
কী খতিয়ে দেখা হবে: সিদ্ধিবিনায়ক মন্দির ট্রাস্টের গত পাঁচ বছরের আর্থিক নথি ও হিসাব।
দান সংগ্রহ: দানের টাকা, আর্থিক লেনদেন এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় কোনও অনিয়ম হয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করা হবে।
কর্মী গ্রেপ্তার: দানবাক্সের টাকা চুরির অভিযোগে ট্রাস্টের ৯ কর্মীকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে ট্রাস্ট।
সাসপেনশন: কয়েকজন কর্মীকেও সাসপেন্ড করা হয়েছে।
দান নিয়ে প্রশ্ন: কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পর সাপ্তাহিক দানের পরিমাণ বেড়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
একনাথ শিন্ডে: তিনিও বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্তের পক্ষে মত দিয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে।
রাজনৈতিক তরজা: বর্তমান ও প্রাক্তন ট্রাস্ট প্রশাসনের মধ্যে দায় ঠেলাঠেলি শুরু হয়েছে।
চূড়ান্ত উত্তর: ১৮ কোটি টাকার অভিযোগের সত্যতা এবং আর্থিক অনিয়মের প্রকৃত কারণ তদন্তের পরই স্পষ্ট
রাজ ঠাকরের অভিযোগের পর সিদ্ধিবিনায়ক মন্দির ট্রাস্টের চেয়ারম্যান সদা সর্বণকর মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশের সঙ্গে দেখা করেন। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে তিনি নিজেই সরকারের কাছে বিস্তারিত তদন্তের আবেদন জানান বলে জানা গিয়েছে।ট্রাস্টের তরফে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে মন্দিরের সাম্প্রতিক বছরগুলির দান সংগ্রহ এবং আর্থিক হিসাবের তথ্যও তুলে ধরা হয়। এর পরেই ফড়নবীশ কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন।
সরকারি তদন্তে সিদ্ধিবিনায়ক মন্দির ট্রাস্টের গত পাঁচ বছরের আর্থিক নথি ও হিসাব পরীক্ষা করা হবে। দানের টাকা, আর্থিক লেনদেন এবং মন্দিরের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় কোনও অনিয়ম হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখবেন তদন্তকারীরা। দ্রুত তদন্তের রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, শুধু ১৮ কোটি টাকার অভিযোগই নয়, গত কয়েক বছরে মন্দিরের দান সংগ্রহে পরিমাণ বাড়া-কমার কারণও তদন্তের আওতায় আসতে পারে।
এই বিতর্কের মধ্যেই মন্দিরের দানবাক্সের টাকা চুরির অভিযোগে সিদ্ধিবিনায়ক মন্দির ট্রাস্টের নয় কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে ট্রাস্ট। কয়েকজন কর্মীকে সাসপেন্ডও করা হয়েছে। এই গ্রেপ্তারির পরেই মন্দিরের অনুদান নিয়ে অভিযোগ আরও জোরালো হয়ে ওঠে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, আগে যেখানে মন্দিরে সপ্তাহে গড়ে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা ছিল দান আসত, সেখানে কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পর তা বেড়ে প্রায় ৭৫ থেকে ৯৫ লক্ষ টাকায় পৌঁছয়। বেশি ভিড়ের সময়ে সংগ্রহের পরিমাণ প্রায় ১.৫ কোটি টাকা পর্যন্ত হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। এই পরিবর্তনও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে।
সিদ্ধিবিনায়ক মন্দিরের দান নিয়ে বিতর্কের পরে মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডেও নিরপেক্ষ তদন্তের পক্ষে মত দিয়েছিলেন। তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখার প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে। এর পরেই মুখ্যমন্ত্রী ফড়নবীশের তদন্তের নির্দেশ বিষয়টিকে আরও গুরুত্ব দিয়েছে।
মন্দিরের আর্থিক অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে মহারাষ্ট্রে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। ট্রাস্টের চেয়ারম্যান সদাসর্বনকর অভিযোগের জন্য আগের ট্রাস্ট প্রশাসনের দিকে আঙুল তুলেছেন বলে জানা গিয়েছে। অন্যদিকে, আগের ট্রাস্টের চেয়ারম্যান এবং শিবসেনা (UBT)-র নেত্রী বিশাখা রাউত এই দায় অস্বীকার করেছেন। তাঁর বক্তব্য, কোনও কর্মী পরে অনিয়মে যুক্ত হয়ে থাকলে তার দায় ব্যক্তিগতভাবে তাঁর উপর বর্তায় না এবং মন্দিরকে রাজনৈতিক লড়াইয়ের ময়দান করা উচিত নয়।
সিদ্ধিবিনায়ক মন্দিরে বিপুল পরিমাণ দান জমা পড়ে। তাই দানের হিসাব ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাজ ঠাকরের ১৮ কোটি টাকার অভিযোগ সত্যি কি না, কর্মীদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সঙ্গে এর কোনও যোগ রয়েছে কি না, কিংবা দানের পরিমাণে ওঠানামার পিছনে অন্য কোনও প্রশাসনিক কারণ রয়েছে কি না—সবকিছুই তদন্তের পর স্পষ্ট হবে।
১. সিদ্ধিবিনায়ক মন্দির নিয়ে কী অভিযোগ করেছেন রাজ ঠাকরে?
MNS প্রধান রাজ ঠাকরে অভিযোগ করেছেন, মন্দিরে ভক্তদের দেওয়া দান থেকে প্রতি বছর প্রায় ১৮ কোটি টাকা সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
২. রাজ ঠাকরের অভিযোগ কি প্রমাণিত?
না। অভিযোগটি এখনও প্রমাণিত হয়নি। এর সত্যতা যাচাই করতেই তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
৩. সিদ্ধিবিনায়ক মন্দির নিয়ে তদন্তের নির্দেশ কে দিয়েছেন?
মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
৪. তদন্তে কত বছরের হিসাব খতিয়ে দেখা হবে?
সিদ্ধিবিনায়ক মন্দির ট্রাস্টের গত পাঁচ বছরের আর্থিক নথি ও হিসাব পরীক্ষা করা হবে।
৫. তদন্তে কী কী বিষয় খতিয়ে দেখা হবে?
মন্দিরের দান সংগ্রহ, আর্থিক লেনদেন, দানের হিসাব এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় কোনও অনিয়ম হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।
৬. সিদ্ধিবিনায়ক মন্দিরের কর্মীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে?
দানবাক্সের টাকা চুরির অভিযোগে ট্রাস্টের ৯ কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে ট্রাস্ট জানিয়েছে। কয়েকজনকে সাসপেন্ডও করা হয়েছে।
৭. কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পর দানের পরিমাণ কি বদলেছে?
রিপোর্ট অনুযায়ী, কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পর মন্দিরে সাপ্তাহিক দানের পরিমাণ বেড়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এই পরিবর্তনের কারণও তদন্তে খতিয়ে দেখা হবে।
৮. একনাথ শিন্ডের অবস্থান কী?
সিদ্ধিবিনায়ক মন্দিরের দান নিয়ে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের পক্ষে মত দিয়েছিলেন উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে।
৯. মন্দিরের প্রাক্তন ট্রাস্ট প্রশাসনের বক্তব্য কী?
প্রাক্তন ট্রাস্ট চেয়ারম্যান বিশাখা রাউত অভিযোগের দায় অস্বীকার করেছেন এবং মন্দিরকে রাজনৈতিক লড়াইয়ের ময়দান না করার কথা বলেছেন।