সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: সরকারি নানা সুযোগ-সুবিধা আদায়ে ব্রাহ্মণত্ব হারিয়ে, উপবীত খুলে খাতাকলমে হয়েছিলেন আদিবাসী! ফলে, আদ্যপ্রান্ত ব্রাহ্মণবাড়ির সন্তানও এসটি সার্টিফিকেট হাতে বিভিন্ন সুবিধা ভোগ করেছেন। পাশাপাশি রায়, মণ্ডল পদবীর লোকজনও কিভাবে এসটি সার্টিফিকেট পেয়েছিলেন, তা নিয়ে বিস্তর প্রশ্ন উঠেছে। নথি খতিয়ে দেখার পর নতুন সরকার তাঁদের জাতিগত শংসাপত্র বাতিল করেছে। শুধু কালনা মহকুমাতেই ৪২২ জনের সার্টিফিকেট বাতিল করা হয়েছে। রাজ্যের মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু কয়েকদিন আগে বলেন, ২০১১ সালের পর থেকে বহু ভুয়ো এসসি, এসটি সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়েছে। যাঁরা যোগ্য নন তাঁদেরকেও সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছে। আবার যারা যোগ্য তাঁদের অনেকে একাধিকার সার্টিফিকেটের জন্য আবেদন করেও পাননি। সমস্ত এসসি, এসটি সার্টিফিকেট যাচাই করা হবে। দুয়ারে সরকার ক্যাম্পের মাধ্যমে ভুয়ো সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়েছিল।
জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, নির্দিষ্ট কয়েকটি পদবীর লোকজনদের এসটি সার্টিফিকেট দেওয়ার নিয়ম। কিন্তু, রায় বা মণ্ডল পদবীর লোকজনদের কারা সার্টিফিকেট ইস্যু করেছিলেন, তা নিয়ে তদন্ত হওয়া দরকার। নিয়ম অনুযায়ী, নথি খতিয়ে দেখার পর ওই সার্টিফিকেট দেওয়া হয়। সেগুলি কেন যাচাই করা হয়নি, তা খতিয়ে দেখার প্রয়োজন। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ভুয়ো এসসি, এসটি সার্টিফিকেট তৈরি করে অনেকে চাকরি পেয়েছিলেন। সরকার তদন্ত শুরু করতেই হুগলি, মুর্শিদাবাদের কেউ কেউ চাকরি থেকে পদত্যাগও করেছেন। সব জেলাতেই ভুয়ো সার্টিফিকেট তৈরি করা হয়েছিল। অন্যদিকে, যাঁরা প্রকৃত আদিবাসী তাঁদের অনেকের সার্টিফিকেট দেওয়া হয়নি। তাঁদেরকে সার্টিফিকেট দেওয়ার জন্য নতুন সরকার এসে প্রত্যন্ত এলাকাগুলিতে ক্যাম্প করছে। বিজেপি নেতা মৃত্যুজ্ঞয় চন্দ্র বলেন, ‘অনেকেই ভুয়ো সার্টিফিকেট তৈরি করে চাকরি করছেন। কেউ কেউ আবার একাধিক পদবী ব্যবহার করেন। স্কুলের নথিতে এক রকম তথ্য রয়েছে। আবার কর্মক্ষেত্রে আলাদা পদবী রয়েছে। এই বিষয়গুলি নিয়েও তদন্ত হওয়া দরকার। ব্রাহ্মণ পদবীর লোকজনদের এসটি সার্টিফিকেট দিয়ে দেওয়া হয়েছে। তৃণমূল জমানায় কোনও নিয়ম মানা হয়নি। যাঁরা অন্যায়ভাবে তাঁদের সার্টিফিকেট পাইয়ে দিয়েছেন তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। দুয়ারে সরকার ক্যাম্পের মাধ্যমে সব থেকে বেশি অনিয়ম করা হয়েছে।’
তৃণমূল নেতা দেবু টুডু বলেন, ‘আমরাও চাই ভুয়ো এসটি সার্টিফিকেটগুলি বাতিল হোক। আদিবাসীদের যাঁরা বঞ্চিত করেছেন তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিক সরকার। সার্টিফিকেট দেওয়ার অধিকার জনপ্রতিনিধিদের নেই। আধিকারিকরা সার্টিফিকেট ইস্যু করেন। কেন তাঁরা সেটা করেছেন, তার জবাব তাঁরাই দিতে পারবেন। প্রশাসন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, এর আগেও শতাধিক এসসি সার্টিফিকেট কালনা মহকুমা থেকে বাতিল করা হয়েছিল। এবার ৪০০ বেশি ভুয়ো এসটি সার্টিফিকেট ওই মহকুমা থেকে বাদ গিয়েছে। তা নিয়ে সরগরম প্রশাসনের অন্দর।