এসজেডিএ’র ২০০ কোটি কেলেঙ্কারির আবারও তদন্ত, বোর্ডের সভায় সিদ্ধান্ত
বর্তমান | ০৮ আগস্ট ২০২৬
সুব্রত ধর, শিলিগুড়ি: ইডির তদন্ত থমকে! তাই শিলিগুড়ি জলপাইগুড়ি ডেভেলপমেন্ট অথরিটির ২০০ কোটি টাকা কেলেঙ্কারি নিয়ে ফের তদন্ত হবে। শুক্রবার বিজেপি সরকার নিয়ন্ত্রিত এসজেডিএ’র প্রথম বোর্ড মিটিংয়ে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে। মিটিংয়ের পর এ কথা জানান বোর্ডের সদস্য তথা পর্যটনমন্ত্রী শংকর ঘোষ। একই সঙ্গে তিনি জানান, এসজেডিএ’র এলাকা বিন্যাসের প্রস্তাব রাজ্য সরকারের কাছে পাঠানো হবে।
রাজ্যে পালাবদলের পর পর্যটনমন্ত্রী শংকর ঘোষ, অর্থ ও পরিবহণ প্রতিমন্ত্রী আনন্দময় বর্মন সহ ৮ বিধায়ক এবং প্রশাসনের আধিকারিকদের নিয়ে গড়া হয়েছে এসজেডিএ’র বোর্ড। এদিন প্রথম সংস্থার অফিসে বোর্ডের সদস্যরা মিটিং করেন। আড়াই ঘণ্টার বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ বেশকিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বৈঠকের পর পর্যটনমন্ত্রী বলেন, তৃণমূলের জমানায় ১৫ বছরে এসজেডিএ’র আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়ে স্পেশাল অডিট করা হবে। ফ্ল্যাট নির্মাণ করে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল শ্রেণির মধ্যে বণ্টন করা হয়েছে। এতেও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। তা তৃতীয় পক্ষকে দিয়ে তদন্ত করানো হবে। ২০০ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ নিয়েও হবে স্পেশাল অডিট ও তদন্ত হবে। এজন্য একটি অন্তর্বর্তী তদন্ত কমিটি গড়া হচ্ছে। তাতে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ও জেলাশাসক থাকবেন।
২০১১ সালে রাজ্যে পালাবদলের পর এসজেডিএ বোর্ডের দায়িত্ব নেয় তৃণমূল। সেই সময় বোর্ডের চেয়ারম্যান হন তৎকালীন বিধায়ক। ২০১৩ সাল পর্যন্ত তিনি বোর্ডে ছিলেন। সেই সময় ফুলেশ্বরী নদী সংস্কার, শ্মশান তৈরি, ত্রিফলা বাতিস্তম্ভ বসানোর নামে প্রায় ২০০ কোটি টাকার কেলেঙ্কারির অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনায় সংস্থার তৎকালীন সিইও গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। বহুদিন আগেই ওই কেলেঙ্কারির তদন্তভার দেওয়া হয়েছে ইডি’কে। সেই তদন্ত কার্যত থমকে রয়েছে বলে অভিযোগ।
অর্থ ও পরিবহণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০০ কোটির ওই কেলেঙ্কারি নিয়ে নতুন করে তদন্ত কমিটি গড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যে প্রকল্পগুলি ঘিরে দুর্নীতি হয়েছে, সেগুলি খতিয়ে দেখা, বরাদ্দ কীভাবে লুট হয়েছে, তা বের করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট দেখে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বৈঠকে মন্ত্রীরা ছাড়াও বিধায়ক শিখা চট্টোপাধ্যায়, দুর্গা মুর্মু সহ শিলিগুড়ি ও জলপাইগুড়ির ছয় বিধায়ক, দার্জিলিং ও জলপাইগুড়ির জেলাশাসক ছিলেন। পর্যটনমন্ত্রী বলেন, ধূপগুড়ি ও নাগরাকাটা বিধানসভা কেন্দ্রকে এসজেডিএ’র এলাকায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব বৈঠকে পেশ হয়েছে। তা অনুমোদনের জন্য পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের কাছে পাঠানো হবে।