• মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক বিদ্রোহীদের, সার-ট্রাইব্যুনাল নিয়ে আলোচনা, কথা মাইক খোলা নিয়েও
    এই সময় | ০৮ আগস্ট ২০২৬
  • এই সময়: ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (সার)-এ বাদ পড়া ভোটারদের আবেদন শোনার জন্য তৈরি ট্রাইব্যুনাল নিয়ে নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে আবেদনকারীদের। আবার ধর্মীয় স্থান থেকে মাইক ও লাউডস্পিকার খোলা নিয়েও শুরু হয়েছে বিতর্ক। এই দু’টি বিষয় নিয়ে শুক্রবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠক করলেন তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের বিধায়করা।

    বিধায়ক প্রতিনিধি দলে ছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, বিরোধী দলের সচেতক আখরুজ্জামান, অরূপ রায়, সন্দীপন সাহা-সহ মোট ১০ জন। বৈঠক শেষে বিধানসভায় ঋতব্রত বলেন, ‘জোকা এলাকায় মাত্র একটি আঞ্চলিক ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে। কোচবিহার বা রাজ্যের অন্যান্য প্রান্তিক জেলাগুলি থেকে সাধারণ মানুষের পক্ষে জোকায় গিয়ে শুনানিতে হাজির হওয়া বা নথিপত্র জমা দেওয়া কার্যত অসম্ভব। আমরা দাবি জানিয়েছি, যাতে জেলায় জেলায় ও ব্লকে ব্লকে স্থানীয় ট্রাইব্যুনাল চালু করা হয়। সাধারণ মানুষ যাতে আবেদন জমা দিতে পারেন, প্রকৃত ভোটারেরা যেন নিজেদের স্বপক্ষে কিছু বলার সুযোগ পান। এর জন্য সময়সীমাও আরও অন্তত ছ’মাস বাড়ানো উচিত।’ তিনি আরও বলেন, ‘সরকার যদি এই দাবি না মানে, তবে ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে নিয়ে রাজপথে বড় আন্দোলনে নামা ছাড়া আর কোনও উপায় থাকবে না।’

    আখরুজ্জামান জানান, রাজ্যে বর্তমানে প্রায় ২৭ লক্ষ মানুষ ভোটার তালিকা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা কখনও চাই না, কোনও বেআইনি বা ভুয়ো ভোটার তালিকায় থাকুক। কিন্তু ভুয়ো চিহ্নিত করতে গিয়ে যেন কোনও বৈধ নাগরিক বাদ না পড়েন। আমরা যা বুঝেছি ট্রাইব্যুনালের বিষয়টি বাদ পড়া ভোটাররা ঠিক মতো বুঝতেই পারেননি। প্রয়োজনে আমরা হাইকোর্টের হস্তক্ষেপ চাইব।’

    মসজিদ ও মন্দির থেকে সম্প্রতি লাউড স্পিকার খুলে নেওয়া প্রসঙ্গে ঋতব্রত বলেন, ‘নির্দিষ্ট পরিবেশ বিধি মেনে ৬৫ ডেসিবেলের মধ্যে যদি কেউ মাইক বা লাউড স্পিকার ব্যবহার করে, তবে তাতে সাধারণ মানুষের অসুবিধা হওয়ার কথা নয়।’ হাইকোর্টের ২০২০–র নির্দেশের বিষয়টি টেনে তাঁর দাবি, ‘মুখ্যমন্ত্রী আমাদের দেখিয়েছেন যে, সে সময়ে এই সংক্রান্ত মামলায় তৎকালীন রাজ্য সরকারের তরফ থেকে কোনও রকম আইনি আবেদন বা যুক্তি উত্থাপন করা হয়নি। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে আমরা সেই ভুলের পূর্ণ দায় নিচ্ছি। আদালতের সেই রায়ের পুনর্বিবেচনা চেয়ে দলের পক্ষ থেকে খুব শীঘ্রই আবারও হাইকোর্টে নতুন করে আবেদন জানানো হবে।’

    এই বৈঠক নিয়ে কটাক্ষ করেছেন কালীঘাটপন্থী তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তিনি বলেন, ‘বিজেপির বি-টিমের গদ্দার, দালালরা গিয়েছিলেন নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে। নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষা এবং আইনি ও রাজনৈতিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ফাঁদে পড়ে একের পর এক সিদ্ধান্ত নিয়ে চলেছেন তাঁরা।’

  • Link to this news (এই সময়)