এই সময়: রাজ্যে শিল্পক্ষেত্রে িবনিয়োগের অঙ্ক নয়, কর্মসংস্থান তৈরিকেই ইনসেনটিভ দেওয়ার মানদণ্ড করতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার— শুক্রবার এ কথা জানালেন রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়। বাংলায় শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের জন্য উদ্যোগপতিদের উৎসাহিত করতে ১৫ অগস্টের মধ্যেই নয়া শিল্পনীতি চূড়ান্ত করতে চাইছে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার। তৃণমূল জমানায় শিল্পপতিদের ইনসেনটিভ দেওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাওয়া নিয়ে বিস্তর প্রশ্ন উঠেছিল। নতুন সরকার ফের ইনসেনটিভ নীতি ফিরিয়ে আনতে চাইছে। তবে এ ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের বিষয়টিকে মাথায় রেখে এগোনো হবে বলে এ দিন ইঙ্গিত মিলেছে শিল্পমন্ত্রীর কথায়।
‘উত্তরণ ২০২৬: বাংলা, বিল্ডিং দ্য নেক্সট গ্রোথ’ শীর্ষক এক শিল্প সম্মেলনে এ দিন উপস্থিত ছিলেন তাপস। এই অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, ‘প্রস্তাবিত নতুন ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইনসেনটিভ প্রকল্পে শিল্প সংস্থাগুলি কত টাকা বিনিয়োগ করছে, তার থেকে তারা কত মানুষের কর্মসংস্থান করছে— সেই বিষয়টিকেই গুরুত্ব দেওয়া হবে। আমাদের সরকার ইনসেনটিভকে বিনিয়োগের সঙ্গে নয়, কর্মসংস্থান তৈরির সঙ্গে যুক্ত করার কথা ভাবছে।’
স্বাভাবিক ভাবেই শিল্পমন্ত্রীর এই ঘোষণায় রাজ্যের শিল্পনীতি নিয়ে নতুন জল্পনা তৈরি দিয়েছে। মন্ত্রী জানান, আগামী ১৫ অগস্ট নতুন শিল্পনীতি প্রকাশ করা হবে। সেই নীতিতেই ইনসেনটিভ প্রকল্পের কাঠামো, কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে সুবিধের বিবরণ এবং ব্যবসা সহজ করার রূপরেখা তুলে ধরা হতে পারে।
প্রসঙ্গত, রাজ্যে পালাবদলের পরে চলতি অর্থবর্ষের বাজেট পেশ করার সময়ে ইনসেনটিভ প্রকল্প ফের চালুর কথা ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। এমনকী ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইনসেনটিভ খাতে পাঁচ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ-ও করা হয়। এই প্রথম এত বড় অঙ্কের তহবিল শুধুমাত্র শিল্পোন্নয়নের জন্য রাখা হয়েছে। প্রস্তাবিত শিল্পনীতিতে ব্যবসা সরলীকরণের উপরে বিশেষ জোর দেওয়া হবে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে।
শিল্প বিশেষজ্ঞদের মতে, কর্মসংস্থান-ভিত্তিক ইনসেনটিভ চালু হলে শ্রম-নির্ভর শিল্প, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, বস্ত্র, চর্ম, ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড টেলি–কমিউনিকেশন এবং পরিষেবা ক্ষেত্রের মতো ক্ষেত্রগুলি বেশি সুবিধে পেতে পারে। কারণ, এই ধরনের শিল্পে তুলনামূলক কম বিনিয়োগে অনেক বেশি কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিল্পপতি ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের উদ্দেশে রাজ্যে শিল্পায়নের নতুন গতি আনার আশ্বাস দেন শিল্পমন্ত্রী। রাজ্য সরকার শিল্পনীতিকে শুধু মূলধন আকর্ষণের উপকরণ হিসেবে নয়, বরং কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও আঞ্চলিক অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে তাঁর বক্তব্যে সেই ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে।
রাজ্যের কর্মসংস্থান-যুক্ত ইনসেনটিভ প্রকল্পের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ইস্পাত প্রস্তুতকারী সংস্থা ‘অমিত মেটালিক্স’-এর চিফ এগজ়িকিউটিভ অফিসার বি বি সিং বলেন, ‘রাজ্য সরকারের ইনসেনটিভ দেওয়ার ভাবনাকে আমরা স্বাগত জানাই। এ বিষয়ে সম্পূর্ণ রূপরেখার জন্য অপেক্ষা করছি।’ বণিকসভা ইন্ডিয়ান চেম্বার অফ কমার্সের (আইসিসি) ডিরেক্টর জেনারেল রাজীব সিংয়ের বক্তব্য, ‘রাজ্যের এই ভাবনাকে স্বাগত জানাচ্ছি। আর্থিক ঘাটতির কারণে অতিরিক্ত সুবিধে দেওয়ার সীমিত ক্ষমতার মধ্যেও ইনসেনটিভের ভাবনা তারিফযোগ্য। প্রকৃত শিল্পায়ন তখনই সম্ভব, যখন তা কর্মসংস্থান তৈরি করে। সরকারের উচিত শিল্প ও কর্মসংস্থানের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা। এর ফলে গয়না, চর্ম, পোশাক, পর্যটন-সহ একাধিক শিল্প উপকৃত হবে।’
সূত্রের দাবি, রাজ্যের প্রস্তাবিত শিল্পনীতিতে ব্যবসা সরলীকরণের উপরে বিশেষ জোর দেওয়া হবে। শিল্প প্রকল্পের অনুমোদনের জন্য আরও শক্তিশালী সিঙ্গল-উইন্ডো ক্লিয়ার্যান্স ব্যবস্থা, জিআইএস-ভিত্তিক ল্যান্ড ব্যাঙ্ক, দ্রুত প্রশাসনিক ছাড়পত্র এবং শিল্প স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামোগত সহায়তার উল্লেখও থাকতে পারে।