• তারাতলার বিপর্যয়ে এলবিএস এবং আর্কিটেক্ট কালো তালিকাভুক্ত, পুরসভার সিদ্ধান্তে় ক্ষোভ
    বর্তমান | ০৭ আগস্ট ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: তারাতলা বিপর্যয়ের জেরে নির্মীয়মাণ গুদামের এক আর্কিটেক্ট ও দুই ইঞ্জিনিয়ারকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে কলকাতা পুরসভা। যার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই আদালতে মামলা হয়েছে। এলবিএস এবং আর্কিটেক্ট মহলের তরফে পুর কমিশনার থেকে শুরু করে পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী, এমনকি নবান্নেও অভিযোগ জানানো হয়েছে। ক্ষুব্ধ ইঞ্জিনিয়ারদের দাবি, তাঁদের বেআইনিভাবে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তাঁদের প্রশ্ন, বিল্ডিংয়ের যে সেফটি অডিট প্রক্রিয়া চলছে, সেখানে কয়টি নির্মাণের আর্কিটেকচারাল এবং স্ট্রাকচারাল অনুমোদনের ক্ষেত্রে গাফিলতি পাওয়া গিয়েছে, তা প্রকাশ্যে আনা হোক। তাহলেই বোঝা যাবে এলবিএস এবং আর্কিটেক্টরা সত্যিই শাস্তির যোগ্য কি না। জানা গিয়েছে, কলকাতা পুরসভায় ৩৪৪টি নির্মাণের অডিট ফাইল রয়েছে। তার মধ্যে মাত্র ৫৫টি ছাড়পত্র পেয়েছে। শুধু তাই নয়, সারা রাজ্যে পাঁচশোরও বেশি এই ধরনের বড়ো প্রকল্প আটকে আছে। এলবিএস এবং আর্কিটেক্ট মহলের দাবি, প্রায় দু’মাস ধরে অডিট চলছে। সরকারের উচিত শ্বেতপত্র প্রকাশ করা। এলবিএস তথা স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার অংশুমান সরকার বলেন, কলকাতা সহ অন্যান্য পুরসভা শুধুমাত্র আর্কিটেকচারাল প্ল্যান অনুমোদন করে। স্পেশাল অডিটে আর্কিটেকচারাল এবং স্ট্রাকচারাল অনুমোদনের ক্ষেত্রে কোনো গাফিলতি পাওয়া গিয়েছে কি? যদি না পাওয়া যায়, সেকথাও প্রকাশ্যে আনা দরকার। কারণ, আমাদের কাছে যা খবর, তাতে বেশিরভাগ ফাইল নন টেকনিক্যাল ইস্যুতে আটকে রয়েছে।

    সাধারণত, নন টেকনিক্যাল ইস্যু অনুমোদন প্রক্রিয়ার মধ্যে পড়ে না। যেমন লেবার কমিশন, রেরা ইত্যাদি। এলবিএস এবং আর্কিটেক্ট মহলের দাবি, দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকায় রিয়েল এস্টেট সেক্টরে কম করে হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। শুধু তাই নয়, গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে প্রায় কয়েকশো ফাইল মিউনিসিপ্যাল বিল্ডিং কমিটি না থাকায় অনুমোদন পাচ্ছে না। অংশুমানবাবু বলেন, সরকার শ্বেতপত্র প্রকাশ না করায় ইঞ্জিনিয়ার এবং আর্কিটেক্টদের সম্মানহানি হচ্ছে। নকশা তৈরিতে কোনো ভুল না থাকা সত্ত্বেও নন টেকনিক্যাল ইস্যুতে কাজ বন্ধ করে রাখায় সমাজের কাছে ভিন্ন বার্তা যাচ্ছে।
  • Link to this news (বর্তমান)