• আবাস যোজনার বিপুল টাকা নয়ছয়ের অভিযোগ হাড়োয়ায়
    বর্তমান | ০৭ আগস্ট ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: সরকার বদলের পর এবার সামনে এল আবাস যোজনা নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ। উত্তর ২৪ পরগনার হাড়োয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের আটঘরা গ্রামে এই প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে সরব হলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের ক্ষোভ, প্রকৃত উপভোক্তাদের নাম ও পরিচয় ব্যবহার করে অন্যরা টাকা তুলে নিয়েছেন। অন্তত ৮০ জনের নাম ব্যবহার করে আবাস যোজনার টাকা অন্যদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগের আঙুল উঠেছে প্রকল্পের এক সুপারভাইজার সহ তার দলবলের বিরুদ্ধে। ইতিমধ্যেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া ও প্রকৃত উপভোক্তাদের প্রাপ্য বাড়ি নিশ্চিত করার দাবিতে হাড়োয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন গ্রামবাসীরা।

    এক অভিযোগকারী মহিবুল্লা সর্দার বলেন, আমার নামে আবাস যোজনার ঘর অনুমোদিত হয়। কিন্তু আমি লিখিতভাবে বিডিওকে জানিয়েছিলাম যে, আমার পাকা বাড়ি আছে। সরকারি আবাসের প্রয়োজন নেই। কিন্তু পরে জানতে পারি আমার নাম ও পরিচয় ব্যবহার করে অন্য এক ব্যক্তির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে আবাসের টাকা পাঠানো হয়েছে। একই অভিযোগ করেছেন হালিমা বিবিও। তাঁর দাবি, একই নামের অন্য একজনের কাছে তাঁর নামে বরাদ্দ হওয়া আবাসের টাকা পৌঁছে যায়।

    স্থানীয় বাসিন্দাদের আরও অভিযোগ, সুপারভাইজার আসের আলি সহ তাঁর দলবল মোটা টাকা নয়ছয় করেছেন। ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকার অনুদান থেকে ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত কাটমানি নেওয়া হয়েছে। প্রকৃত উপভোক্তাদের বঞ্চিত করে কাটমানির বিনিময়ে অন্যদের ঘর পাইয়ে দেওয়ার একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ছিল। এলাকাবাসীরা বঞ্চিতদের নিয়ে সালিশি সভাও করেন। সেখানে মুচলেকা দেন অভিযুক্ত সুপারভাইজার আসের আলি। তবে অভিযোগ নিয়ে জলঘোলা হতেই অভিযুক্ত সুপারভাইজার বেপাত্তা বলে দাবি স্থানীয়দের। যদিও সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন অভিযুক্ত সুপারভাইজার আসের আলি। তাঁর বক্তব্য, পরিকল্পিতভাবে আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে। বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে জোর করে মুচলেকায় সই করিয়ে নেওয়া হয়েছে। আবাস যোজনার কোনো দুর্নীতির সঙ্গে আমি জড়িত নই।
  • Link to this news (বর্তমান)