বসিরহাটে ইছামতির বালি কারবারে কোটি টাকার সিন্ডিকেট! চর্চায় ‘এ’
বর্তমান | ০৭ আগস্ট ২০২৬
শ্যামলেন্দু গোস্বামী, বারাসত: বীরভূমে পাথর-বালি কারবারি টুলু মণ্ডল নিয়ে রাজনৈতিক তরজা ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। সেই পর্বেই এবার চর্চায় বসিরহাটের নাম। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ব্যবসায়ী বারিক বিশ্বাস। বীরভূমের টুলু মণ্ডলের বেয়াই। বীরভূমের পাথর-বালির বেআইনি কারবারে টুলুর ‘টি’ যেমন ‘ছাড়পত্র’, তেমনই বসিরহাটে বালি কারবারি বারিক বিশ্বাসের সাংকেতিক নাম—‘এ’ হল ‘সবুজ সংকেত’! ‘এ’ মানে যে প্রভাবশালী বারিক বিশ্বাস, তা উত্তর ২৪ পরগনার বিভিন্ন মহলে নতুন কথা নয়। অভিযোগ, ইছামতি নদীতে বালি খাদানের মালিক ছিল বারিকের কোম্পানি। শুধু তাই নয়, গোটা কারবারের নেপথ্যে ছিল তৎকালীন বসিরহাট জেলা তৃণমূলের প্রথম সারির দু’তিনজন নেতা বলেই দাবি স্থানীয়দের। তাঁরা বিধায়ক হয়ে‘ভালো তৃণমূল’ হয়ে ঋতব্রত শিবিরে রয়েছেন। তারাই একটা সময় ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিশ্বস্ত ‘সেনাপতি’! কিন্তু বালি কারবার নিয়ে ওঠা অভিযোগের ফল তাঁদের পেতে হবে বলেই দাবি বিজেপির। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দু বসিরহাট পুরসভার দেওয়া বালি উত্তোলনের ওয়ার্ক অর্ডার। সূত্রের দাবি, এই ওয়ার্ক অর্ডার পান বারিক বিশ্বাস। অভিযোগ, ওয়ার্ক অর্ডারকে সামনে রেখেই চলত অন্য খেলা! কাগজে-কলমে পুরসভার টেন্ডার থাকলেও, বাস্তবে বালি উত্তোলন চলত বসিরহাট-১ পঞ্চায়েত সমিতির অধীন সংগ্রামপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের পশ্চিমপাড়া, বিরামনগর, শিবহাটি, চৌরাসহ একাধিক এলাকায়। অর্থাৎ, পুরসভার অনুমোদনের আড়ালে পঞ্চায়েত সমিতির এলাকার প্রাকৃতিক সম্পদ তোলা হয়েছে বলে অভিযোগ। এখানেই উঠছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। পুরসভার দেওয়া ওয়ার্ক অর্ডার কীভাবে পঞ্চায়েত সমিতির এলাকায় কার্যকর হল? প্রশাসনের একাধিক স্তরের নজর এড়িয়ে বছরের পর বছর এমন কারবার চলল কী করে? আর এই ওয়ার্ক অর্ডার হওয়ার তিনদিনের মধ্যেই জেলাশাসকের কাছে অভিযোগ জমা দেয় বসিরহাট ১ পঞ্চায়েত সমিতি। কিন্তু তৃণমূলের ‘প্রভাবশালী’দের যোগ থাকায় প্রশাসন নিশ্চিুপ বলেই দাবি বিরোধীদের। স্থানীয়দের কথায়, প্রতিদিন প্রায় ১০০ ওভারলোডেড লরি বালি বোঝাই করে বিভিন্ন জেলায় যেত। মাসে প্রায় ১০ কোটি টাকার ব্যবসা চলত। অভিযোগ, পথে ওভারলোডেড লরি আটকানো হলে, একটি মাত্র সাংকেতিক নাম নাম, ‘এ’ আওড়ে নিস্তার পাওয়া যেত। তবে, বসিরহাটের বিজেপি নেতা পলাশ সরকারের দাবি, বসিরহাট জেলা তৃণমূলের প্রথম সারির কয়েকজন নেতার সক্রিয় মদতেই এই সিন্ডিকেট চলত। এর শেষ আমরা দেখব। বালি কারবারে কোটি কোটি টাকার সরকারি রাজস্ব নয়ছয় হয়েছে। পুরসভার ওয়ার্ক অর্ডার কীভাবে পঞ্চায়েত সমিতির এলাকায় ব্যবহার হল, পুরসভা ওই ওয়ার্ক অর্ডার থেকে কত টাকা রাজস্ব আদায় করেছে এবং সরকারের কত টাকার ক্ষতি হয়েছে—তার পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ্যে আনতে হবে। বেআইনি বালি বোঝাই নৌকো। নিজস্ব চিত্র