অন্যায়ের বিরুদ্ধে জেন জিকে বেশি করে এগিয়ে আসতে হবে: শীর্ষেন্দু
বর্তমান | ০৭ আগস্ট ২০২৬
সংবাদদাতা, হলদিয়া: দেশে অন্যায়ের বিরুদ্ধে আরও বেশি করে জেন জি-দের এগিয়ে আসার বার্তা দিলেন সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার হলদিয়ায় প্রয়াত কবি তমালিকা পণ্ডাশেঠের ৭০তম জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে এসে এই বার্তা দেন তিনি। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে শীর্ষেন্দুবাবু বলেন, প্রথমে জেন জি-দের আন্দোলন জয়ী হবে এই প্রত্যাশা ছিল না। তবে তারা যে শেষমেশ জয়ী হয়েছে তাতে আমি খুব খুশি। জেন জি-রাই আমাদের দেশের চালিকাশক্তি। তারা এগিয়ে এসে অন্যায়ের প্রতিবাদ করুন, এটাই আমরা চাইব। তবে আন্দোলনকে কেন্দ্র করে হিংসা বা বিশৃঙ্খলা যেন না হয় সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে। তসলিমা নাসরিনের কলকাতায় আগমন প্রসঙ্গে শীর্ষেন্দুবাবু বলেন, তসলিমা ভাল মেয়ে। ওঁর সঙ্গে আমার অনেকদিনের পরিচয়। কলকাতায় আমি স্বাগত জানিয়েছিলাম। এখানে থাকতে পারলে ভাল হত। কিন্তু উনি কলকাতায় থাকতে চাননি। তিনি বলেন, কবি তমালিকা আমাকে এমন আত্মীয়তায় জড়িয়েছেন সেই বন্ধন থেকে আমার মুক্তি নেই। তিনি যখন বেঁচেছিলেন তখন যেমন এসেছি তাঁর অনুষ্ঠানে, আজ তাঁর অনুপস্থিতি আরও নিবিড় করে আমাকে হলদিয়ায় টেনে আনে।
কবি তমালিকা পণ্ডাশেঠের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এদিন হলদিয়ার টাউনশিপে বন্দর কর্তৃপক্ষের বি বি ঘোষ অডিটোরিয়ামে স্মরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। আইকেয়ার শিক্ষা সংস্থা ও সংবাদ সাপ্তাহিক আপনজন পত্রিকার আয়োজনে বাংলার সাহিত্য, সংস্কৃতি জগতের এক নক্ষত্র সমাবেশ হল। মঞ্চে ক্রীড়া, নাটক, গানের জগত থেকে রাজনীতি, সমস্ত বৃত্তের নামী মানুষের চাঁদের হাট বসে। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করে প্রাক্তন সাংসদ লক্ষ্মণ শেঠ স্মৃতিচারণা করে বলেন, তমালিকা তার কাজের ফাঁকে কখন কবিতা লিখত, তা আমাকে বিস্মিত করে। তমালিকার মৃত্যুর পর তার কবিতা পড়তে গিয়ে চমকে উঠি। তার কবিতার গভীর দর্শন আমাকে ভীষণভাবে নাড়া দিয়েছে। তার সাহিত্য উৎসব, জন্মবার্ষিকীতে সংস্কৃতি জগতের মানুষের সমাবেশ আগামীদিনে আরও বড় আকারে হবে। এবছর বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতি জগতের তিনজন নামী ব্যক্তিত্বের হাতে কবি তমালিকা পণ্ডাশেঠ নামাঙ্কিত জীবনকৃতী পুরস্কার তুলে দেন লক্ষ্মণবাবু।
এবার জীবনকৃতী পুরস্কার পেলেন সঙ্গীতশিল্পী শ্রীকান্ত আচার্য, বিশিষ্ট অভিনেতা ও নাট্যব্যক্তিত্ব দেবশঙ্কর হালদার এবং দীপ প্রকাশনীর কর্ণধার শঙ্কর মণ্ডল। উপস্থিত ছিলেন আপনজন পত্রিকার প্রকাশক সায়ন্তন শেঠ ও সম্পাদক সুদীপ্তন শেঠ, আইকেয়ারের সম্পাদক আশিস লাহিড়ি প্রমুখ। দেবশঙ্করবাবু বলেন, কবির নামাঙ্কিত পুরস্কার পেয়ে আমি আপ্লুত। থিয়েটার, নাটক ছাড়া আমার কোনো অস্তিত্ব নেই। শ্রীকান্ত আচার্য তাঁর সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের পাশাপাশি গান পরিবেশন করে দর্শকদের মাতিয়ে দেন। অনুষ্ঠানে তমালিকা পণ্ডাশেঠের কবিতার গানের ইউটিউব চ্যানেল প্রকাশ পেয়েছে। হলদিয়া আইকেয়ার কালচারাল একাডেমির চেয়ারপার্সন স্পর্শিতা পণ্ডাশেঠের উদ্যোগে ওই চ্যানেল তৈরি হয়েছে। স্পর্শিতা নিজেও সেখানে গলা দিয়েছেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রখ্যাত সাঁতারু বুলা চৌধুরী, হলদিয়ার বিধায়ক প্রদীপ বিজলি, কবি শ্যামলকান্তি দাশ, কথাসাহিত্যিক নলিনী বেরা, কবি শ্যামলকান্তি দাশ, অভিনেতা সতীনাথ মুখোপাধ্যায় প্রমুখ। অনুষ্ঠানে লক্ষ্মণ শেঠের গান্ধী গবেষণা গ্রন্থ ও তমালিকা পণ্ডাশেঠের ‘গদ্য পদ্য সমগ্র’ তিন খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে।