• আবাস যোজনার উপভোক্তাদের অর্থ প্রদান শুরু, অযোগ্যদের থেকে ফেরানো হবে টাকা
    এই সময় | ০৭ আগস্ট ২০২৬
  • গত সরকারের আমলে আবাস যোজনায় ঘর পাওয়ার জন্যে ৩০ লক্ষ আবেদন জমা পড়ে। এর মধ্যে মাত্র ১২ লক্ষ উপভোক্তা দ্বিতীয় কিস্তির টাকা পেয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ১০ লক্ষ ২০ হাজার ৩৭৯ জন উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে বাড়ি নির্মাণের দ্বিতীয় তথা শেষ কিস্তির ৬০ হাজার টাকা করে পাঠানোর কথা ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। বৃহস্পতিবার নবান্ন থেকে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, মোট ৬ হাজার কোটিরও বেশি টাকা সরাসরি উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছে। তাঁর দাবি, প্রকৃত উপভোক্তাদের চিহ্নিত করে স্বচ্ছতার সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়ন করাই সরকারের লক্ষ্য।

    মুখ্যমন্ত্রী এ দিন বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে বহু উপভোক্তা অনিশ্চয়তায় ছিলেন। প্রথম কিস্তির টাকা পাওয়ার পরে দ্বিতীয় কিস্তি আদৌ মিলবে কি না, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছিল। এ দিন দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ বিতরণের মাধ্যমে সেই অনিশ্চয়তার অবসান করা হলো।’

    গত সরকারের আমলে সরকারি আবাসন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, প্রকল্পের উপভোক্তাদের তালিকা যাচাই করে প্রায় সাড়ে ১২ হাজার বেআইনি সুবিধাভোগীকে চিহ্নিত করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ৫৭ হাজার এমন ব্যক্তির সন্ধান মিলেছে, যাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকেই বাদ পড়েছে। তাঁদের প্রকৃত উপভোক্তা হিসেবে গণ্য করা যাবে না বলেও স্পষ্ট করেন তিনি। প্রকৃত উপভোক্তার হাতেই সরকারি অর্থ পৌঁছবে, কোনও বেআইনি সুবিধাভোগী বা অনুপ্রবেশকারীকে সরকারি টাকা দেওয়া হবে না বলে কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। অবৈধ ভাবে যাঁরা এই প্রকল্পে টাকা পেয়েছেন, তাঁদের নোটিস দিয়ে টাকা ফেরতের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি।

    এ দিনের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী আরও ঘোষণা করেন, মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের নতুন নাম হবে ‘পশ্চিমবঙ্গ আবাস’। তাঁর বক্তব্য, ‘পশ্চিমবঙ্গ’ নামের সঙ্গে রাজ্যের ইতিহাস ও দেশভাগের স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে। তাই প্রকল্পের নামেও সেই ঐতিহ্যকে তুলে ধরা হয়েছে।

    উপভোক্তাদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমান বাজারদরে বাড়ি সম্পূর্ণ করতে অতিরিক্ত কিছু অর্থের প্রয়োজন হতে পারে। সে ক্ষেত্রে বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। বাড়ি সম্পূর্ণ হলে স্বচ্ছ ভারত মিশনের অধীনে শৌচাগার নির্মাণের জন্য ১২ হাজার টাকা দেওয়া হবে বলেও জানান। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর প্রকল্পে যুক্ত হয়ে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার জন্য কেন্দ্রীয় ভর্তুকি এবং তফসিলি জাতি ও উপজাতি পরিবারগুলির জন্য রাজ্যের অতিরিক্ত ১৫ হাজার টাকার সহায়তার কথাও উল্লেখ করেন।

  • Link to this news (এই সময়)